“অকৃতজ্ঞ”

41
"অকৃতজ্ঞ"- এম রাসেল আহমেদ

এম রাসেল আহমেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (শিক্ষা-সাহিত্য): প্রায় শুনি একে অন্যের মাঝে মনমালিন্য হচ্ছে। আমার এক বন্ধু কাল ফোন করে বলল দোস্ত একটা খবর শুনেছিস? বললাম কি খবর বল। কাজে ছিলাম, তাই বেশি শোনার আগ্রহ ছিলনা তবুও বন্ধুর ফোন শুনলাম খবরটা। সে বলল আজ তোর বন্ধু বিয়ে করেছে তোকে দাওয়াত করেছে কি? আমি এক কথায় বলেছি বন্ধুর বিয়ে হলে অবশ্যই দাওয়াত পাওয়া যাবে, আমি হয়তো তার বন্ধু ছিলাম না। তাকেই প্রশ্ন করলাম তোকে দাওয়াত করেছিল কি? সে কথাটা শুনে কাঁদবেনা হাসবে ভেবে না পেয়ে বলল আমি খুসি হলাম তোকে ফোন দিয়ে, মনে শান্তি পেলাম,পেলাম শান্তনাও।

আমি তো বাড়ির বাইরে যেতে পারছিনা লোকের কথার জ্বালায়। তার মানে বুঝে নিলাম তাকে দাওয়াত করেনি। তবে তাকে শান্ত¡নার বানী দিলাম। দেখ দোস্ত ! এখন হটাৎ করেই বিয়ে হয়ে যায় তাই এটা নিয়ে কষ্ট পেয়ে লাভ নেই। তার আক্ষেপ যে, আমাকে বিয়ের দাওয়াত না দিল বলতে তো পারে, আজ আমার বিয়ে! দুঃখের সাথে জানাল আমরা জন্মের পর থেকেই একে অন্যের সাথে এমন ভাবে মিশে থাকি যে কোন দিন ঝগড়া পর্যন্ত করিনি। পড়াশুনা শেষ করলাম একসাথে তবুও বন্ধু একটা কথা বললনা। তার কথায় যুক্তি আছে এরকম বন্ধুর সাথে কেউ করেনা ,বললাম সে অকৃতজ্ঞ! তার মন রাখতে অনেক শান্তনা বানী শোনাতে হলো আমায়। সে আমারও বন্ধু আমি তো দাওয়াত পাইনি, আফসোস নাই ।

আমার জীবনে এরকম অনেক অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হয়েছে বলে শেষ করা যাবেনা। এক বন্ধু কয়েকদিন আগে রাস্তায় এক্সিডেন্ট করেছিল সাথে ছিল আরেক বন্ধু। রাস্তার লোকেরা এলাপাতারি মারছিল তাকে ,পাশে থাকা বন্ধু আমায় ফোন করে বলে ,আমিতো মজা করেই ফোন রিসিভ করি আর ইয়ারকির ছলে কথা বলছি। সে হাপাতে হাপাতে বলে কোথাই আছিস আমাদের মারছে রাস্তার লোকজন, রাইহান এক্সিডেন্ট করেছে একটা ছোট বাচ্চাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে। আমি সিরিয়াস ভেবেই বললাম ,বাচ্চার কি খবর? সে বলে জয়পুরহাট সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

ভাবলাম অবস্থা ভাল নয়। আমি ফোনেই শুনতে পাচ্ছি লোকজনের চেঁচামেচি, বললাম ওখানে যারা আছে তাদের আমার নাম বল আর মারবেনা। আমার পরিচয় দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আছে সে জন্য কথাটা বলেছিলাম। সেই বন্ধুকে ওরা মারেনি যে আমার নাম বলেছিল কিন্তু তাকে খুব পেটায় যে এক্সিডেন্ট করেছে। আমি খুব দ্রুত সেখানে পৌছায় আর অবস্থা সংকাপন্ন বন্ধুকে নিয়ে আসি প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে। এখানে এসে ডাক্তার দেখাবেনা সে, বলল আমার তেমন কিছুই হয়নি, আমার বাইক এনে দে দোস্ত! শান্তনা দিয়ে বললাম, বাইকের চিন্তা ছাড়, কোন সমস্যা হলে আমার বাইক নিয়ে যেতে পারিস। এলাকার পরিস্থিকি খুব খারাপ কারন সে ছোট বাচ্চাকে এক্সিডেন্ট করেছে।

সে তার বাবা মাকে ফোন করে ,তারা আসলে সবার সামনে বলে বাচ্চাটিকে উন্নত চিকিৎসা দেন যা খরচ হয় আমরা দিব। প্রথমে তারা বাইক দিতে চাইলেও পরে সেই বাইক তারা জমা রাখে বাচ্চার সুস্থ্যতার খবর পাওয়া পর্যন্ত। বাচ্চাটি সুস্থ্য না হতেই সে বন্ধু বলে আমি বাইক ছাড়া বাঁচবনা! যেখান থেকেই হোক আমার বাইক চাই। আসলেই সে বাঁচবেনা কারন তার শরীরে প্রেসার মাপা হলে তা ক্রমেই হাই হতে থাকে। আমি নিজেই জিম্মি হয়ে বাইক দিয়ে দিলাম তাকে আর বললাম তাদের পরিবারের লোকজন আছে ,তাদের সাথে দেখা করে নিও ।

বিস্তারিত সব কথাই হলো তাদের সাথে কিন্তু সেই বন্ধু আজ পর্যন্ত সেই বাচ্চাটির পরিবারের কারো সাথে দেখা করেনি, আমার সাথেও বাজে ব্যবহার করে ,কথায় বুঝা যায়। জিম্মি হয়েছি তাই তাদের সব কথা এখন পর্যন্ত শুনতে হয় আমায়। এখন সেই বন্ধুকে আমি কি করব? এতোটুকু কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে কেউ নিজের বন্ধুকে বিপদে ফেলে পালাতনা। সেই তিন বন্ধুর কথা মনে পড়ে গেল যারা জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে ভাল্লুকের খপ্পরে পড়েছিল।

দুর্বল বন্ধুকে ফেলে তারা পালিয়ে ছিলো কিন্তু সেই দুর্বল বন্ধুকে কিন্তু ভাল্লুক খায়নি। বন্ধুরা ফিরে এলে বলে ভাল্লুক কানে কানে কি বলল? দুর্বল বন্ধু বলে সেই সব বন্ধুদের থেকে দুরে থাকতে বলল যারা এক বন্ধুকে বিপদে ফেলে নিজেকে বাঁচাতে পালিয়ে যায়। কথাটা শুনে সেই বন্ধু আমার মনে শান্তনা পায়। তাকে বললাম একবার শোন মানুষ কত অকৃতজ্ঞ হিসাব করে দেখাই। ধরে নাও তুমি একটা মেয়েকে বিয়ে করেছ তার কাছে তোমার দাবি আছে অনেক।

তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাস করা হলে সমস্ত কথার বিরোধীতা করে তুমি তাকে কি করবে? যদি বলে তোমাকে বিয়ে করেছি এটা বিয়েতে লেখা ছিলোনা যে তোমাকে রান্না করে খাওয়াতে হবে,তোমার পরিবারের কথা মতো চলতে হবে… আরো অনেক তাকে কি করবে? নিশ্চয় তালাক! এখন ভাব তোমাকে আল্লাহ কত সুন্দর করে তৈরী করেছে, আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছে, পৃথিবীতে সব চাইতে মর্যাদা দিয়েছে কিন্তু মানুষ কি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়? আল্লাহ যা আদেশ নিষেধ করেছে তা কি মানুষ পালন করছে? তাহলে আমাদের প্রতি কি কেউ কৃতজ্ঞ হবে? হবেনা তবুও নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মানুষের পাশে থাকতে হবে,ভাল বাসতে হবে, সম্মান করতে হবে, ভাল আচরন করতে হবে, সৎ কজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দিতে হবে। এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তার অনেক ধন সম্পদ আল্লাহ দিছে। সে চিন্তা করলো এই যে দেশে করোনার আক্রমন মানুষ ঘর বন্দী, না খেতে পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাই কিছু দান করি। এবার তার কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে নগদ অর্থ প্রদান করে। হিসাব করে দেখা গেছে প্রায় ১০ লক্ষ্য টাকা। তিনি এই টাকা ৩০ জন কর্মীকে দিয়েছিল।

তারা টাকা নিয়ে চলে যায় কোন প্রকার কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করে। ব্যবসায়ী এই চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাকে কাছে পায় তাকেই শোনায় তাদের অকৃতজ্ঞতার কথা। লোকেরা এখন তার কথা শুনতে চায়না যে সে বললে শুধু তাদের কথায় বলবে। কথায় কথায় তাদের সমালোচনা করে। সে ব্যবসায়ী নিজে এমন ভেঙ্গে পড়েছে যে ব্যবসা করার ভুলে গেছে। একদিন তাকে কাছে পাওয়া গেল, সে আমাকেও সেই কথা শোনাতে লাগে। আমি শুনলাম। বললাম আপনার বয়স কত? সে বলল ৬০ বছর। বললাম মানুষের গড় আয়ু ৬০-৬৫ বছর। গড় আয়ু অনুপাতে আপনি আর ৫ বছর বাঁচবেন।

আপনি চিন্তা করে ৬ মাস জীবন থেকে হারিয়ে ফেললেন। আপনি যদি তাদের সমালোচনা না করে আপনার নিজের সমালোচনা করতেন তবেই সব চিন্তা দুর হয়ে যেত। সে বলল কিভাবে? বললাম আপনি একবার ভেবে দেখেন কেন তারা আপনারকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলোনা। হয় আপনি তাদের মাইনে দেন কম খাটান বেশি।

হয়তোবা আপনি বদ মেজাজি অথবা রাগী যার ভয়ে কর্মীরা আপনার কাছে আসতে চায়না। আর যদি আপনি এসবেন কোনটি না হয়ে থাকেন তারা অকৃতজ্ঞ, তাদেও কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। হিসাব সোজা, কেন আপনি তাদের কথায় বা কৃতজ্ঞতাবোধের অপেক্ষায় থাকবেন? এবার আরো শোনেন , হযরত ঈসা (আঃ) যখন ১০ জন দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদেও জন্য আল্লাহর কাছে শিফাহ চাইলেন আল্লাহ তাদের রোগ মুক্তি দিলেন। ভাল হয়ে একজন ব্যতিত সবাই উধাও। তিনি পেছন ফিরে দেখেন একজন দাড়িয়ে ,সে বলে আপনাকে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন আর গুলো কোথায় সে বলে পালিয়েছে। ভাবুন আপনি কোথাকার কোন হনু যে আপনাকে কৃতজ্ঞতাবোধ জানাবে? যখন স্বয়ং ঈসা (আঃ) পায়নি। যাইহোক লোকটি বুঝে গেছে আর দুঃশ্চিন্তা করেনা। মানুষ অকৃতজ্ঞ তাই বলে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবেনা। উদাহরণ অনেক দিতে পারি, অল্প কথায় কাজ হওয়াতে তাকে বেশি শোনায়নি। তবে কেউ কৃতজ্ঞতা বোধ করুক আমিও চাই। কৃতজ্ঞতাবোধ কর্মস্পৃহা জাগে। উদ্যোমী হওয়া যায়। আমিও মাঝে মাঝে হাল ছেড়ে দেই, আবার নিজেকে সামলে নেওয়ার চেস্টা করি।

কিছুদিন আগে আমার দশ বছর আগের পরিচিত এক ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয়। তার সাথে আগে অনেক দেখা হতো। সে যাকে বিয়ে করে সে আমার ভাইয়ের বান্ধবী ছিল। আমি তাকে আপা বলে ডাকতাম। আমাকে একটা সংগঠনে যোগ দেওয়ার কথা বলে যে সংগঠনকে আমি পছন্দ করতাম না। বহু নেতিবাচক ধারনা আছে সেই সংগঠনের প্রতি ,তার নাম বললে দেশের এমন মানুষ নেই যারা চিনেন না। তার সন্মান রাখতে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে নিজের ফোন বিক্রি করে সমস্ত টাকা জমা দিলাম এবং সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত হয়ে গেলাম ।

তার আচরন আগের মতো নাই, যারা নতুন তার পিছেই পড়ে থাকে সারাদিন। আগে সেই আপা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন করতো আমায় , কিন্তু গত নয় বছর যাবৎ একটাও ফোন নেই। ভাবলাম যার সাথে বিয়ে হয়েছে সেতো আমার এক ভাই ( পরিচিত) । আমি লেখক, পরিচালক, সাংবাদিক তাই হয়তো কাছে এসেছিলো ব্যবহার করতে, ভাবিনি! আমার না ভাবার কারন হলো কাউকে ছোট করে দেখিনা, সন্মানে আসনে রাখি । আমার কাছে এসে একদিন বলল আমাকে নিয়ে নিউজ করতে পার।

ভাবলাম আপনাকে নিয়ে কি নিউজ করব? সে তার ঘটনা বলল। আমি বললাম আমি আপনার ঘটনা বুঝলাম, যদি পারেন আপনার জীবনী লিখেন বিস্তারিত ,আমি ফিল্টার করে প্রকাশ করব। সে আমার কথাই এলামেলো একটা জীবনী লিখেছে যা আমাকে পড়ে শোনায়। আমি তাকে আরো ভাল ধারনা দিলাম লিখার জন্য। সে লিখেছিল তার মতো করে। আমি আমার প্রেসের সাথে হালকা মিট করি তার ব্যপারে। একদিন সেই জীবনী প্রকাশ পেল কয়েটি অনলাইন পত্রিকায়। এখন তার খুশির শেষ নেই।

কয়েকদিন পর বলল আমার ডকুমেন্টরী তৈরী করতে হবে তাও আবার ২-৩ দিনের মধ্যে। আমি আমার নিজের জন্য কখনো এতো খাটিনি সেই খাটুনি খাটলাম তার জন্য। রাতে এক মিনিটের জন্য ঘুমাইনি তার কাজে,সেও জানে,ছিল সাথে। যে মানুষটি কয়েকজনের সামনে কথা বললে কথা আটকে যেত তাকে ক্যামেরার সামনে কথা বলালাম, তার ডকুমেন্টরী সবার প্রথম হলো। আমার কাজের বিল চাইতে পারিনি বলে পাইনি।তবে তাকে না চাইতে দেওয়া উচিৎ ছিল। আমাকে দিনে সত্তর বারেরও বেশি ফোন দিতো কিন্তু এখন আর নয়। যাই হোক আবার কাছে আসে আরেকটা প্রজেক্ট নিয়ে ,এটা জাতীয় লেভেলের মিশন।

সবকিছু ভুলে আবার কাজে আত্ম নিয়োগ করলাম। প্রায় ছয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলাতার শীর্ষে উন্নিত হলো সে কিন্তু আজ আমি নেই। বিজ্ঞজনেরা বলেন “যার কিছু করার থাকেনা সেই সমালোচনা করে”কথাটা সত্য! আমার কিছু করার নেই এখন । কৃতজ্ঞতা বোধ থাকলে আমার সমস্থ পরিশ্রমের পাওনা দিয়ে দিত কিন্তু দিতে পারবেনা সেটা জানি। বন্ধু বিপদে পড়লে সে না ডাকলেও তার কাছে যেও আর সুখে থাকলে না ডাকা পর্যন্ত যেওনা, কথাটা সব সময় মেনে চলতাম আমি।

তার কত সমালোচনার প্রতিবাদ করেছি বলাই বাহুল্য। আমায় আবেগের বসে বলেছিলো তোমায় ইন্ডিয়া ট্যুরে পাঠাবো। ইন্ডিয়াতো দুরের কথা পাশের গ্রামে বাস্তবপুরী আছে সেখানেও পাঠায়নি। তবে তার সমালোচনা নয় আমি কিন্তু এখনো তার সাথে ভালো ভাবেই কথা বলি,ভালবাসি,তার সমস্ত কজে ডাকলে যা পারি সহায়তা করি। তাকে ছেড়ে যাইনি, যাবনা কোনদিন। কথাগুলো বলতাম না কিন্তু জাতীয় স্বার্থে বলতে হচ্ছে। সে যদি এই ঘটনা পড়ে অবশ্যই মন খারাপ করতে পারে।

তাকে এইটুকু বলার আছে, আমি কাউকে ছোট করার স্বার্থে বলছিনা নেহাতি অন্যের উপকারের স্বার্থে বলছি। আমি নিজে যা করিনা তা অন্যকে করতে বলিনা। আমাকে অনেক ত্যাগ করতে হয়। আমি ত্যাগ না করলে বিশ্বনবীর উম্মত হতে পারবনা। আল্লাহর রাসুল সঃ এর নিকট এক পিতা এসেছে তার পুত্রকে নিয়ে ,তার পুত্র খুব মিস্টি খায় বলে। কারন তার কাছে এতো পরিমাণ মিস্টি কেনার টাকা থাকেনা। তাই আল্লাহর রাসুল সঃ যদি তাকে বলতেন তাহলে পুত্র মিস্টি খাওয়া কমাত। রাসুল সঃ ঘটনাটি শোনার পর তাকে এক সপ্তাহ পরে দেখা করতে বললেন। তারা চলে গেল এবং এক সপ্তাহ পরে ফিরে এলো।

রাসুল সঃ পুত্রটিকে ডেকে বললেন বাবা তুমি যে পরিমাণ মিস্টি খাও তোমার বাবা তোমাকে পরিমাণ মিস্টি কিনে খাওয়াতে সক্ষম নয়, তাই তুমি একটু মিস্টি খাওয়া কমিয়ে দিও। সাহাবীর এ কথাতে মন খারাপ হয়ে গেল, সে অখুসি। সে বলল হজুর (সঃ) আপনি সেদিন বলতে পারতেন এই কথা কিন্তু এক সপ্তাহ সময় নিলেন কেন? রাসুল (সঃ) বললেন মিস্টি আমার খুব পছন্দেও খাবার ,যে খাবার আমার পছন্দের সে খাবার অন্যকে খেতে নিষেধ করব কিভাবে? তাই আমি আগে মিস্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি তার পর তাকে নিষেধ করেছি। রাসুল (সঃ) থেকে শিক্ষা নিয়েছি ,যা করবনা তা করতে বলবনা, নিজে যা করি তাই বলি। আল্লাহ এই ব্যক্তি জিহব্ব আগুনের কাচি দ্বারা কাটবেন যে নিজে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং নিজেই পালন করেতে ভুলে যায়। ( আল কুরআন)

কথাগুলো আমার এই জন্য বলা যাতে আমার মতো অনেক মানুষ আছে যারা নিজের জন্য ভাবেনা, সারাক্ষন পরের কথা ভাবে, পরের দুঃখকে নিজের দুঃখ ভাবে তাদের জীবনে অনেক দুঃখ থাকবে কিন্তু মনোবল হারানো ঠিক যাবেনা। একজনের দুঃখ জীবন থেকে সরানো হলো সেই দুঃখ গুলো কোথায় যাবে? তাই যারা কারো দুঃখ সরাবে সেই সরানো দুঃখ কষ্ট গুলো নিজেরউপর আসবে। তাই আগে থেকে ¯রন করিয়ে দিলাম। একবার ভাবুন! আপনি একটা সিড়ি যেখান দিয়ে কত মানুষ উপরে উঠবে সিড়ি কিন্তু সিড়ির স্থানেই থাকবে। যারা অন্যের দুঃখ নিজের দুঃখ মনে করে লোকে তাদেরকেই আরো দুঃখিত করে, ব্যথা দেয়।

এ অকৃজ্ঞতার ফসল দেশে বিভিন্ন সুদের ব্যাংক। মানুষের বিশ্বাসের দাম নেই, নেই কোন কথার দাম। মানুষ মানুষকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করবে এটাই মনুষ্যত্ব কিন্তু মনুষ্যত্ব রাখতে গেলে নিস্ব হতে হচ্ছে অনেকেই। অনেকে বলে পৃথিবীবে ভাল মানুষ পাওয়া মুসকিল, অনেকে বলে নেই। তবে পৃথিবীতে ভাল মন্দ উভয় মনের মানুষ আছে তবে ভালোর চেয়ে মন্দের সংখ্যাটা বেশী। পৃথিবী তার নিজের গতিইে চলবে অকতৃজ্ঞরা সারাজীন অকৃজ্ঞই থেকে যাবে। আল্লাহ যেন সবাইকে হেদায়ত দান করেন, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। আমিন।

লেখক/প্রাবন্ধিক 
এম রাসেল আহমেদ