অনুভুত হচ্ছে তীব্র শীত, ১৫ ডিসেম্বরের পর শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

637
অনুভুত হচ্ছে তীব্র শীত, ১৫ ডিসেম্বরের পর শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস। ছবি-সংগ্রহ

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): দেশে শৈত্যপ্রবাহ বইছে না। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশে অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। মূলত দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীত বেড়েছে। আগামী দুই-তিনদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, ১৫ ডিসেম্বরের পর মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।

সারাদেশেই শীত বেড়েছে। সারা দিনে একবারও দেখা মিলছে না সূর্যের। তাই দিনের বেলায়ও তাপমাত্রা থাকছে কম। যদিও আবহাওয়া অফিসের মতে শীত এখনও শুরুই হয়নি। ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রাকে শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। সেই হিসেবে শৈত্যপ্রবাহ না বইলেও সারাদেশেই বেড়েছে শীতের অনুভূতি।

এ অবস্থা থাকবে আরো কয়েকদিন। মধ্য ডিসেম্বরে ঝেঁকে বসতে পারে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এখনও নামেনি। কিন্তু দিনের তাপমাত্রা কম থাকায় শীত অনুভূত হচ্ছে। এখন দেশের সর্বত্র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

কয়েকদিন ধরে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ছে, তবে দিনে অনেক সময় ধরে ঘন কুয়াশায় সূর্যের আলো দেখা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ১৫ ডিসেম্বরের পরে তাপমাত্রা কমতে পারে। এখন শীতের অনুভূতি থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ আসতে সময় রয়েছে। ১৮-২০ ডিসেম্বরের দিকে বা তারপর কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ডিসেম্বরের শেষভাগে শৈত্যপ্রবাহ এলে তখন বলা যাবে, সেটা কদিন থাকবে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস।

এছাড়া অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পার উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বেশির ভাগ জেলায় জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সকাল এবং সন্ধ্যায় কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে রাস্তাঘাট। শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সীতাকুণ্ডে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এর আগে, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।