আগামী অর্থবছর থেকেই চালু হচ্ছে সর্বজনীন পেনশন

76
আগামী অর্থবছর থেকেই চালু হচ্ছে সর্বজনীন পেনশন

সর্বজনীন পেনশন চালু হচ্ছে আগামী অর্থবছর থেকে। সংসদের বাজেট উত্থাপনের সময় এ ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, দেশে এখন নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও, ২০৫০ সালে তা ২৪ শতাংশে দাঁড়াবে। এই পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে সামাজিক নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লষকেরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আমি সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি যে সরকার আগামী অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারেই ছিল সর্বজনীন পেনশন চালুর অঙ্গীকার। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে সমন্বিত পেনশনব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব করা হয় ২০১৫ সালে। এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি, এ বছরই তা বিল আকারে উঠবে সংসদে।

অর্থমন্ত্রী জানান, গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে ধীরে ধীরে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাঁদের নিরাপত্তা ক্রমান্বয়ে হুমকির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এসব কারণেই সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু করার আগে এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা চলতি বছরই বিল আকারে সংসদে তোলা হবে।

২০২০ সালে ষাটের বেশি বয়সী মানুষ এক কোটি ২০ লাখ। ২০৪১ সালে সে সংখ্যা দাঁড়াবে ৩ কোটি ১০ লাখে। এছাড়া বয়োজ্যেষ্ঠদের ৮৫ শতাংশই নিয়োজিত অনানুষ্ঠানিক খাতে। তাই জীবনযাপন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন তাদের অনেকে।

এখন গড় আয়ু ৭৩ বছর হলেও, ২০৫০ সালে তা বেড়ে হবে প্রায় ৮০ বছর। ৩ দশকে অবসরের পরও বয়স থাকবে ২০ বছর। তাই বিশাল এ জনগোষ্ঠির জন্য পেনশন চালু হলে বাড়চে সামাজিক নিরাপত্তা।

এছাড়া সামাজিক বিমা কর্মসূচির আওতায় ৪ ধরণের স্কিম চালু করবে সরকার। এর মধ্যে ইমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বিমা চালুতে কাজ করঝে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।