আজ নায়ক রাজ রাজ্জাকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী

33
আজ নায়ক রাজ রাজ্জাকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। ফাইল-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (বিনোদন): কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মহাপ্রয়াণের তিন বছর হলো আজ (শুক্রবার)। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট অসংখ্য ভক্তকে অশ্রুসিক্ত করে বিদায় নিয়েছেছিলন তিনি। নায়ক রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াার সময় ‘বিদ্রোহী’ নাটকে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয় শুরু।

তিনি শুরুতে সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে। তারপর থেকে একাধারে অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনায় সফলতার সাথে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি।

স্বাধীনতার আগে ও পরে ঢাকা চলচ্চিত্রের প্রথম মেগাস্টার রাজ্জাক। সফল জুটি গড়ার দক্ষতায় তিনি অনেক নায়িকার সঙ্গে উপহার দিয়েছেন স্মরণীয় অনেক চলচ্চিত্র। কবরীর সঙ্গে ‘রংবাজ’, শাবানার সঙ্গে ‘অতিথি’, ববিতার সঙ্গে ‘অনন্ত প্রেম’- এমন বহু আলোচিত ছবির নায়ক তিনি। সুজাতা, সুচন্দাসহ অনেকের সাথে তিনি অভিনয় করছেন চমৎকারভাবে। বিচিত্র, বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, চরিত্র ও কাহিনীতে মানানসইভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করলেও রাজ্জাকের ফ্লপ ছবি নেই বললেই চলে। বক্স অফিসে হিট নায়কদের শীর্ষ স্থানে তার অবস্থান। তার অভিনীত সিনেমাগুলো- ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’সহ মোট ৩০০টির বেশি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে। পরিচালনা করেন ১৬টি চলচ্চিত্র। গড়ে তোলেন রাজল²ী প্রোডাকশন।

রাজ্জাক ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসার (ল²ী) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেন রেজাউল করিম (বাপ্পারাজ), খালিদ হোসেইন (সম্রাট), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না। বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা তিনি। দর্শকপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে তাকে ডাকা হয় ‘নায়করাজ’। শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নায়করাজ ২০১৫ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মোট পাঁচবার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান ২০১৩ সালে। ভূষিত হন বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায়। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ৭৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর ‘নায়করাজ’।