আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার “বিশ্ব মা দিবস”

63

সুপ্রভাত বগুড়া (প্রচ্ছদ): ত্রি-ভূবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ কনিকা হলো “মা”। এই ছোট্ট একটি নামেই যেন সকল মমতার মধু মাখা। মায়ের ভালোবাসাই কেবল এজগতে নিকষিত হেমের মত নিখাদ অকৃত্রিম, বুক ঝিম করা প্রতিদানহীন।

কোনো উপমা, আবেগ বা সংজ্ঞায় মায়ের ভালোবাসার পরিধি আকার, আয়তন ও গভীরতাকে পরিমাপ করা তো দূরের কথা কল্পনা দ্বারা ছুঁতেও পারেনি। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হূদয়ের অতল গহীনে যে আবেগ ও অনুভূতি রচিত হয়, আর মনের কোনে অজান্তেই অনাবিল সুখের আবেশ নেমে আসে।

প্রতিক্ষণ-প্রতিদিন নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সন্তানদের পৃথিবীতে চলার যোগ্য পরিবেশ তৈরি করে দেন যিনি। যদিও মায়ের নিগুঢ় ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোন দিন হতে পারে না। মায়ের ভালোবাসা প্রতিটি ক্ষনেই সন্তানের উপরে ছায়া হয়ে উপবিস্ট থাকে।

তথাপিও সেই নমস্যা “মা” কে বছরে একটি দিন বিশেষভাবে মাতৃভক্তরা পালন করেন, প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারে । আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার “বিশ্ব মা দিবস”।

আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার “বিশ্ব মা দিবস”-সুপ্রভাত বগুড়া

মাতৃ অন্ত:প্রাণ সন্তানরা ‘জননী আমার তুমি,পৃথিবী আমার, মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে’-এই কথাটুকুন প্রমাণে প্রাণের সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিতে বহুমাত্রিক চেষ্টা করেন। ‘তোমার তুলনা তুমিই ‘মা’ এই প্রতিপাদ্যে মা দিবস পালন নিয়ে উইকিপিডিয়া তুলে ধরেছে দুটি ইতিহাস।

একটি ইহতাসে বলা হয় ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন গ্রিসে। অপর ইতিহাস হলো-সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আমেরিকাজুড়ে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন।

এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর সব দেশেই মা শব্দটিই কেবল সর্বজনীন। মা প্রথম কথা বলা শেখান বলেই মায়ের ভাষা হয় মাতৃভাষা। মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়।

মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু। মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

মাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্বীয় রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাহে আলাইহে ওয়া সাল্লামের পরে সর্বোচ্চ আসন দিয়েছেন। সনাতন হিন্দু ধর্মে মায়ের স্থান অনেক উঁচুতে। তবে মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই।

যদিও মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তের। সব ধর্মে মায়ের মর্যাদা সৃষ্টিকর্তার পরেই। পৃথিবীর মা হারা সকল সন্তানের পক্ষ থেকে বলতে চাই ‘ভালো থেকো মা’। আর আমার মাকে বলতে চাই ‘মা’ তোমার সন্তান হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার মা’ই আমার পৃথিবী….আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি “মা”।