আত্রাই থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালালো স্ক্র্যাচ কার্ড প্রতারক চক্র !

76
আত্রাই থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালালো স্ক্র্যাচ কার্ড প্রতারক চক্র ! ছবি-আবুহেনা

প্রতারণার স্বীকার এলাকার হাজারও মানুষ

সুপ্রভাত বগুড়া (আবুহেনা,আত্রাই(নওগাঁ) প্রতিনিধি : অভিনব কায়দায় মানুষ ঠকানোর খেলায় নেমেছিল সোনার বাংলা মার্কেটিং কনসেপ্ট নামের একটি ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান। পাড়া মহল্লায় বিক্রয়কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোভনীয় অফারের ফাঁদ পেতে চলছে তাদের লটারীর মাধ্যমে মার্কেটিং কার্যক্রম। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ হাট এলাকায় রহমানের ব্রিডিং ২য় তলায় ভাড়া নিয়ে,গত সাতদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছিল এই প্রতারণার ব্যবসা।

১০০ টাকায় স্ক্র্যাচ কার্ড কিনলে ঘষলে পাবেন দামি দামি পণ্য। প্রথমে স্ক্র্যাচ কার্ড ঘষে পণ্যের নাম ভেসে উঠার পর বলছে, এই পণ্য আমাদের আত্রাই অফিসে গিয়ে ১৫০০ টাকায় উত্তোলন করতে হবে। তাদের এই আকর্ষণীয় অফারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। ১০০ টাকা দিয়ে কিনছে স্ক্র্যাচ কার্ড। কার্ড ঘষে যে পণ্যের নাম পাওয়া যায় তা খুবই নিম্নমানের এবং ৭০০ টাকার চেয়ে কম দামি পণ্য পাওয়া যায়।

এমন অভিযোগ করেন, উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম। অনেকেই স্ক্র্যাচকার্ড কেনার পর নিম্নমানের পণ্যের খবর পেয়ে পণ্য তুলতে যাচ্ছেন না। স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি করেই হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

আজ বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,অফিসে কেউ নেই রাতের আঁধারে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে স্ক্র্যাচ কার্ড প্রতারক চক্র। আত্রাইয়ের আহসান গঞ্জ হাটের পাশে আলহাজ্ব সাইফুল (মহরী)র বাড়ির সামনে, রহমানের ব্লিডিং ভাড়া নিয়ে তারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল ।

বাড়ির সামনে জটলা হট্টগোল সব সময় ই লেগে থাকতো। ১০০ টাকার স্ক্র্যাচ কার্ড হাতে নিয়ে পণ্য তুলতে আসছেন লোকজন। গত কয়েক দিনে ১৫০০ টাকা জমা দিয়ে নিম্নমানের পণ্য হাতে পেয়ে ফ্যাঁকাশে মুখে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। আবার স্ক্যাচ কার্ডে ঘষার পর যে পণ্য লেখা সেই পণ্য সরবরাহ নেই বলে অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরত হয়েছে ।

প্রতারণার শিকার উপজেলার জাতআমরুল গ্রামের রেহেনা বেগম নামে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি ১০০ টাকার স্ক্র্যাচ কার্ড নিয়ে সিরামিকের পণ্য পেয়েছেন। পণ্য সরবরাহ নেই বলে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন গত কয়েক দিন আগে। তাদের প্রতারণা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অফিসের ভেতরে নিম্নমানের সারি সারি ক্রোকারিজ পণ্য, ফ্যান, ইলেকট্রিক চুলা, ফ্লাক্স সাঁজানো ছিল। তাও খুবই নিম্নমানের। তবে স্ক্র্যাচ কার্ডের গায়ে সেলাই মেশিন, এলইডি টিভি ও ফ্রিজসহ দামি দামি পণ্যের হদিস পাওয়া যায়নি। মার্কেটিং ম্যানেজার মারুফ তাদের প্রচারপত্রে হেড অফিসের ঠিকানা লেখা রয়েছে মিডফোর্ড রোড, ঢাকা-১১০০।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নামে মিডফোর্ড এলাকায় কোন প্রতিষ্ঠান নেই। নানা স্থানে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় এই প্রতারণা ব্যবসার আড়ালে কলকাঠি নাড়ছে কোন এক ব্যক্তি।

উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আদুরী জানায়,গত কয়েক দিন আগে ১০০টাকা দিয়ে লটারির স্ক্র্যাচ কার্ড ক্রয় করেন, ঘষলে তার ভাগ্যে উঠে ৬.৫ লিটার প্রেসার কুকার ও ফ্লাক্স আজ বুধবার তিনি পুরস্কার নিতে এসে দেখে প্রতারক চক্র রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে। সে পুরস্কার না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যান।

একাধিক সূত্রে জানা যায় অনেক নারী পুরুষেরা এ প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। অনেকের ধারণা এই লটারী ব্যবসার বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় রাতের আঁধারে তারা পালিয়েছে তারা।

আহসানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানান। আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।