আমার মনে হয়, প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র ছাড়া করোনা(Covid-19) মহামারী নিরাময় সম্ভব নয় : সিজার

194
আমার মনে হয়, প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র ছাড়া করোনা(Covid-19) মহামারী নিরাময় সম্ভব নয় : সিজার

সুপ্রভাত বগুড়া (স্বাধীন মতামত): বর্তমানে করোনার মহামারিতে গোটা বিশ্ব দিশেহারা, দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষও। সবাই যার যার স্থান থেকে একটা কথায় ভেবে চলেছেন কিভাবে হতে পারে এই করোনা মহামারি ঠেকানোর সমাধান। এমনই এক আত্মচিন্তা থেকেই বগুড়ার কৃতি সন্তান উদীয়মান তরুণ শ্রমিক নেতা, জাতীয় শ্রমিকলীগ-যুব কমিটি বগুড়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাকিব উদ্দিন প্রাং সিজার তার ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেছেন মাত্র।

সম্পূর্ণ লেখাটি না পড়ে কোন মন্তব্য না করার বিশেষ অনুরোধ থাকবে। কে জানে হয়তো এমন আলোচনা সমালোচনার মধ্য থেকে খুজে পাওয়া গেলেও যেতে পারে কোন সমাধানের নতুন সম্ভাবনাময় পথের সন্ধান। তাই সকলের সাথে বিষয়টি শেয়ার করার স্বার্থেই রাকিব উদ্দিন প্রাং সিজারের মতামতটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

“হয়তো সবাই ভাবতে পারেন নিচের ছবিগুলো Covid-19 বা করোনা চলাকালীন সময়ের কিছু ছবি। কিন্তু না এটা গত ১০২ (একশো দুই) বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৮-১৯২০ সালে স্পেনিস ফ্লু (Spanish Flu) রোগে আক্রান্ত কিছু রোগী, মৃত ব্যক্তির লাশ, ভাইরাসের আলোকচিত্র/মাইক্রোস্কোপের দেখা চিত্র, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গণকবর দেওয়ার কিছু ছবি।

একশো দুই বছর আগের এই রোগ আর বর্তমানে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এই করোনা প্রায় এক ই। সেই সময় পৃথিবীতে বর্তমান আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার ছিল শুধুমাত্র কিছু মানুষের কাছে স্বপ্ন। তখনকার সময় (১৯১৮-১৯২০) স্পেনিস ফ্লু মহামারীতে প্রায় ৫(পাঁচ) কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন ননস্টপ মানুষ পাখির মত পরছে আর মরছে।

আমি জানি, আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সহ সারা বিশ্বের সকল সরকার অক্লান্ত চেষ্টা করছেন এই মহামারী থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা করার জন্য, আমাদের কে সুস্থ রাখার জন্য। কিন্তু এই করোনা মহামারীর কোন মহা ঔষুধ এখন অব্দি আবিষ্কার না হওয়ায় পৃথিবীর সকল সরকার তাদের জনগনকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছেন। এখানে আমার মনের ভাবনার সাগরে কিছু প্রশ্ন জন্মে যাচ্ছে বার বার।

প্রশ্নটা এই রকম, তখন কার রোগীদের যে যে লক্ষণ দেখা গিয়েছিল এখন কার রোগীদের মাঝেও সেই সেই লক্ষন বিদ্যামান। তখনকার সময়ে সাধারন মানুষের জন্য যে যে নির্দেশনা ছিল এখন কার এই সময়েও ঠিক একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১০২ বছর আগের স্পেনিস ফ্লু রোগে ৫ কোটি মানুষ মারার পরে সেই মহামারীর মহা ঔষুধ তৈরি হয়েছিল।

যেহেতু স্পেনিস ফ্লু’র সাথে আমাদের বর্তমান বিশ্বের মহামারী করোনার প্রায় সকল লক্ষণ মিল আছে সেহেতু আমি বলতে চাই যে ঐ সময়কার রোগ ভালো করার জন্য যে যে মহা ঔষুধ তৈরি করে খাওয়ানো হয়েছিল সেই ঔষুধ গুলো পূনরায় তৈরি করে করোনা রোগীদের উপর পরিক্ষা করা হোক। রোগ বা ঔষুধ কোন কিছু বিষয়ে আমার যত সামান্য ধারনা নেই।

কিন্তু তারপরও কেন জানি আমার মনে হচ্ছে স্পেনিস ফ্লু আর করোনা একই রোগের হয়তো দুই টি দিক। স্পেনিস ফ্লু তে আর একটি লক্ষনীয় বিষয় হলো, এই রোগে আক্রান্ত বা মারা যাওয়ার তালিকায় ৯০% মানুষ ছিলো যুবক। আর করোনা তে লক্ষনীয় বিষয় হলো, এই রোগে আক্রান্ত বা মারা যাওয়ার তালিকায় বয়স্ক লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। আরও অনেক মিল আছে এই স্পেনিস ফ্লু আর করোনা/Covid-19 এর মধ্যে।

এগুলো বিষয় আমি একজন সাধারন মানুষের বোধগম্য হতে পারে না। ইন্টারনেট অনুসন্ধান করে যতদূর বুঝতে পারলাম স্পেনিস ফ্লু রোগীরা হোমিওপ্যাথি ঔষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীনবে ফিরে এসেছিলো এবং পৃথিবী থেকে ঐ মহামারী চিরদিনের জন্য বিতারিত হয়েছিল। আমার ভুল ও হতে পারে, ইন্টারনেট মানে সব সত্য তা তো নয়।

এগুলো সব কিছু ঘাটাঘাটি বা Research করা প্রয়োজন বড় বড় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকৃত ডাক্তার সাহেবদের। আমি কাউকে ছোট করার জন্য লিখছি না। আমি জানি, আমাদের দেশ সহ সারা পৃথিবীর সুনামধন্য ডাক্তাররা এর প্রতিকার খুজছেন। কিন্তু তারপরও আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পৃথিবীতে যে কোন রোগের ঔষুধ মহান আল্লাহ পাক প্রকৃতির মাঝে দিয়ে দিয়েছেন।

যার স্বাক্ষী আমাদের পূর্বপুরুষরা। যাদের সময়ে এত অত্যাধুনিক ল্যাব, এত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছিল না। কিন্তু তারপরও তারা সব ধরনের মহামারীর সাথে মোকাবিলা করে টিকে ছিলো। এখনো বড় বড় ডাক্তাররা ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার জন্য আমাদের পূর্ব পুরুষদের লেখা অর্থাৎ প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র পরেই পরিক্ষা দেন।

আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ হিসেবে বলতে চাই, আপনারা যারা এখনো ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে আপনাদের ল্যাবে করোনার ঔষুধ তৈরি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, দয়া করে আপনাদের মধ্যে থেকে কিছু সংখ্যক ডাক্তার প্রাচীন কোন চিকিৎসা শাস্ত্র অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেন।

কারণ আমার মনে হয়, প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র ছাড়া করোনা(Covid-19) মহামারী নিরাময় সম্ভব নয়। অনেকে ভাবতে পারেন, আমি এত কিছু লিখছি কেনো? আমি কি কোন ডাক্তার নাকি? কিন্তু আমি বলবো, আমি কিছুই না। আমি মানুষ। আমার পিতা-মাতার কাছে আমি একজন ভালোবাসার মানুষ। আমি আমার স্ত্রী-সন্তানদের কাছে দায়িত্বশীল মানুষ।

আমার মনে হয়, আমার মত আর যারা মারা যাচ্ছে আর যারা রোগী হয়ে পরে আছে তাঁরও মানুষ। একটা পরিবারের প্রধান হোক বা হোক সরকার প্রধান, এই দুই শ্রেণীর দায়িত্বশীল জায়গার মানুষ হিসেবে তাদের অধিনস্ত মানুষের জন্য তাদের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) পূরনের সকল দায়িত্ব তাদের। আমি পরিবারের প্রধান হিসেবে আমার পরিবারকে যদি তাদের মৌলিক চাহিদা দিতে না পারি তাহলে আমার বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়া সমান কথা।

তাই আমি আমাদের দেশের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা ও আমাদের দেশের সকল সুনামধন্য সকল ডাক্তারদের পায়ে হাত রেখে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, ১০২ বছর আগে স্পেনিস ফ্লু (Spanish Flu) রোগে আক্রান্ত রোগীদের লক্ষণ ও বর্তমান করোনা (Covid-19) রোগে আক্রান্ত রোগীদের লক্ষন প্রায় এক।

তাই দয়া করে স্পেনিস ফ্লু রোগীরা যে মহা ঔষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ঐ রোগটি পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করেছিল সেই ঔষুধ গুলো পূনরায় তৈরি করে করোনা রোগীদের উপর পরিক্ষা চালানো শুরু করার জন্য করো জোরে অনুরোধ করছি।

আজকে আমি বা আমার পরিবার সুস্থ আছি কিন্তু কতক্ষণ সুস্থ থাকবো আমরা কেউ জানি না। আমি আবার ও বলছি, আমাদের দেশের ডাক্তার রা অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত। সেই জন্য সকল ডাক্তারদের আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কিন্তু তারপরও সরকার ও সকল পর্যায়ের উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অনুরোধ করছি, আমার উপরোক্ত বিষয় গুলো সু-বিবেচনা করবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে হেফাজত করুক।

পরিশেষে বলতে চাই, আমি একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমার মনের ভাবনা চিন্তা প্রকাশ করলাম। আমার লিখায় যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”