আলোচনা- সমালোচনার মুখে পরে ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখাচ্ছে ফ্রান্স

110
আলোচনা- সমালোচনার মুখে পরে ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখাচ্ছে ফ্রান্স। ছবি-সংগৃহীত

সুপ্রভাত বগুড়া (আন্তর্জাতিক): ইসলামের প্রতি ফ্রান্সের গভীর শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভে ল দ্রিয়াঁ। রোববার (৮ নভেম্বর) মিশরের রাজধানী কায়রো সফরকালে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফ্রান্সের চলমান উত্তেজনার মধ্যই এমন মন্তব্য করলেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শনের জেরে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

এর মধ্যে মিশর সরকারও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের সমালোচনা করে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন ম্যাক্রোঁ’ ইসলাম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করার দায়ে ইসলাম বিশ্বে প্রবল সমালোচনার মুখে। এরই মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল-ফাতেহ আল-সিসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌক্রাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিশরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ল দ্রিয়াঁ জানান, ‘আমাদের নীতি রয়েছে তা হচ্ছে ইসলামের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। আমি বলতে চাই মুসলিমরা ফ্রান্সের সমাজে পুরোপুরি অংশীদার। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় বার্তার সম্পর্কে বলেন, আমরা আমাদের মাটি সন্ত্রাসবাদের হুমকির মুখোমুখি, সেটি হল ধর্মান্ধতা। এই হুমকি অন্যত্রও এবং এটি ‘সর্বজনীন’ লড়াই।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্স এবং মিশর একযোগে লড়বে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু ঘটলে আমিই প্রথম প্রতিবাদ করি। বিষয়টা শুধু ইসলামের ক্ষেত্রে ঘটলেই যে তা নয়’। গেল মাসে ফরাসি বিতর্কিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন শার্লি এবদো হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গত্মাক কার্টুন ছাপায়। এর জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিবাদ জানায়।

উল্টো ‘ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ’ কঠোর হস্তে দমনেরও ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ। কার্টুন প্রকাশে বন্ধের আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, কার্টুন প্রকাশনা তিনি বন্ধ করতে পারবেন না। কার্টুন প্রকাশ বন্ধ করাকে স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফরাসি জাতি নিজেদের মূল্যবোধ বিসর্জন দেবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে ‘ইসলাম ধর্ম সঙ্কট’-এ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। প্রতিবাদে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ফরাসি পণ্য বয়কট অব্যাহত করে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে ম্যাক্রোঁ’র এমন কর্মকাণ্ডে কঠোর প্রতিবাদ জানায় জাতিসংঘও।