আল্লাহকে দেখা কি সম্ভব স্বপ্ননে ?

12
আল্লাহকে দেখা কি সম্ভব স্বপ্ননে ?

জাগ্রত অবস্থায় এ পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার দর্শন সম্ভব নয়। অবশ্য আল্লাহ পাক অনেক সময় স্বপ্নে দর্শন করিয়ে দেন। কীভাবে করান এটা আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। রসুল সা. একবার আল্লাহকে স্বপ্ন দেখার বিষয়ে কথা বলেন। তিরমিজি শরিফের অনেক বড় একটি হাদিসে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে।
হযরত মুআজ ইবনে জাবাল রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সকালে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করতে আসতে পারলেন না। এমনকি আমরা সূর্য উদিত হয়ে যাওয়ার আশংকা করলাম।

তিনি তাড়াতাড়ি বের হয়ে এলে নামাজের জন্য ইকামাত দেয়া হল। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর উচ্চস্বরে আমাদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা যেভাবে সারিবদ্ধ অবস্থায় আছ সেভাবেই থাক। তারপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসলেন অতঃপর বললেন, সকালে তোমাদের নিকট আসতে আমাকে কিসে বাধাগ্রস্ত করেছে তা এখনই তোমাদেরকে বলছি।

Pop Ads

আমি রাত্রে উঠে অজু করি, নামাজ পড়ি। নামাজের মধ্যে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম, এমন সময় আমি আমার মহামিহয়ান আল্লাহকে খুব সুন্দর অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ। আমি বললাম হে আমার আল্লাহ আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের অধিবাসীগণ (শীর্ষস্থানীয় ফেরেশতাগণ) কি ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললাম হে আমার প্রতিপালক আমি জানি না। আল্লাহ তাআলা এ কথা তিনবার বললেন।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তাকে দেখলাম যে, তিনি তার হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন। আমি আমার বক্ষস্থলে তার হাতের আঙ্গুলের শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে প্রতিটি জিনিস আমার নিকট আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উঠল। আমি তা জানতে পারলাম। আল্লাহ তাআলা বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম আমার প্রতিপালক। আমি আপনার নিকট হাজির। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের বাসিন্দাগণ কী ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, কাফফারাত প্রসঙ্গে (তারা বিতর্ক করছে)।

তিনি বলেন, সেগুলো কি? আমি বললাম হেঁটে সালাতের জামাআতসমূহে হাজির হওয়া, নামাযের পর মসজিদে বসে থাকা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও উত্তমরূপে অজু করা। তিনি বললেন, তারপর কি ব্যাপারে (তারা বিতর্ক করেছে)? আমি বললাম, খাদ্যপ্রার্থীকে আহার্যদান, নম্রতার সাথে কথা বলা এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে সেই সময় সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে।

আল্লাহ তাআলা বললেন, তুমি কিছু চাও, বল হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভাল ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনের, মন্দ কাজসমূহ বর্জনের, দরিদ্রজনদের ভালবাসার তাওফিক চাই, তুমি আমায় ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি যখন কোন গোত্রকে বিপদে ফেলার ইচ্ছা কর তখন তুমি আমাকে বিপদমুক্ত রেখে তোমার কাছে তুলে নিও।

আমি প্রার্থনা করি তোমার ভালোবাসা, যে তোমায় ভালোবাসে তার ভালোবাসা ও এমন কাজের ভালোবাসা যা তোমার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে দেয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, স্বপ্লটি অবশ্যই সত্য। অতএব তা পড়, তারপর তা শিখে নাও। (সুনানে তিরমিজি ৩২৩৫)

ইসলামের ফরজ বিধান নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ আহ্বানকে বলা হয় আজান। দিনে পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন। আজান মুসলিমদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ফরজ বিধান নামাজ আদায়ের জন্য আজান দেয়া হয়। যিনি আজান দেন তাকেই মুয়াজ্জিন বলা হয়। নামাজের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি আজানেও গুরুত্ব রয়েছে। আবার আজানের পর নামাজ ছাড়া জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্ত মতো শুধু ফরজটুকু হলেও পড়ে নিতে হবে। নামাজ আদায়ের জন্য নামাজের সময় হওয়া জরুরি।

আজানের পর নামাজ ছাড়া জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্ত মতো শুধু ফরজটুকু হলেও পড়ে নিতে হবে।
নামাজের সময়সূচি: ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

আজানের পর নামাজ ছাড়া জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্ত মতো শুধু ফরজটুকু হলেও পড়ে নিতে হবে।

নামাজ ছাড়া জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ওয়াক্ত মতো শুধু ফরজটুকু হলেও পড়ে নিতে হবে। নামাজ আদায়ের জন্য নামাজের সময় হওয়া জরুরি।

তাসবিহ অর্থ আল্লাহর নাম স্মরণ করা বা জিকির করা। সলাতুত তাসবিহ অর্থ তাসবিহ পাঠের নামাজ। এ নামাজে ৩০০ বার একটি তাসবিহ পাঠ করতে হয়। তাই এ নামাজ কে সলাতুত তাসবিহ নামাজ বলা হয়। এ নামাজটি নফল। জীবনে একবার হলেও সালাতুস তাসবিহ নামাজ আদায় করতে বলেছেন রাসুলুল্লাহ সা.।

নফল শব্দের অর্থ অতিরিক্ত। এটি ফরজের মতো আবশ্যক নয়। তবে আদায়ে সওয়াব ও আল্লাহ নৈকট্য অর্জন হয়। নফল নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুল সা. বেশি করে নফল নামাজ আদায় করতেন। সাহাবাদের উৎসাহিত করতেন।

নবীজি সুস্থতা-অসুস্থতা, সফর-নিবাস, নিরাপত্তা-যুদ্ধ সব সময় ফরজের পাশাপাশি যতœবান ছিলেন নফল নামাজে। উম্মতকেও নফল পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। নফল নামাজেই মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জন সম্ভব। ফরজে হয়ে যাওয়া ত্রুটির ক্ষতিপূরণ হয় নফলে।

নফল নামাজের উপকারিতা অপরিসীম। নফল নামাজে গুনাহ মিটে যায়। সওয়াব-প্রতিদান দ্বিগুণ হয়। আগের গুনাহ মাফ হয়। দুনিয়া-আখিরাতে উঁচু মর্যাদা লাভ হয়। মন-দিল পবিত্র হয়। অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি তৈরি হয়। রাসুল সা. নফল নামাজ সালাতুস তাসবিহ জীবনে একবার হলেও আদায় করতে বলেছেন।

সালাতুত তাসবিহ। তাসবিহের নামাজ। সালাত শব্দের অর্থ নামাজ। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবিহ পড়তে হয়, তাকে সালাতুত তাসবিহ বলে।

নবী কারিম সা. জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেন এ নামাজ পড়ে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস ১২৯৭, ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৭, সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস ১২১৬, সুনানে বায়হাকি কুবরা, হাদিস ৪৬৯৫)

রাসুলুল্লাহ সা. তার চাচা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে এই নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন। বলেছেন, এই নামাজ পড়লে আল্লাহ তাআলা আগের ও পরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।

তিনি বলেন, চাচা! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামাজ পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়বেন । (বুখারি ৩৪২৩, ইবনে মাজা ১৭৩)

সালাতুল তাসবিহ নামাজ পড়ার পদ্ধতি

সালাতুল তাসবিহ নামাজ চার রকাত। নিয়ত স্বাভাবিকভাবে করলেই হবে। ‘আমি চার রাকাত নফল নামাজ সালাতুস তাসবিহ পড়ছি’। প্রতি রকাতে সুরা ফাতিহার পর যে কোনো সুরা পড়তে হবে। তবে এই নামাজে প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রকাতে ৩০০ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়ার দোয়া

سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إلَهَ إلّا اللهُ، وَاللهُ أكْبَر

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ অর্থ: মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়।

প্রথম রাকাত এ সানা পড়ার পর তাসবিহ ১৫ বার পড়তে হবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহর পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। এভাবে প্রতি রাকাতে মোট ৭৫ বার এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে। একইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত পড়তে হবে। (তিরমিজি হাদিস ৪৮১, আবু দাউদ হাদিস ১২৯৭, ইবনু মাজাহ হাদিস ১৩৮৬, ১৩৮৭, মুসতাদরাক হাকিম ১/৪৬৩-৪৬৪, ইবনু খুযাইমা ২/২৩-২৪, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২৮১-২৮৩, তারগিব ১/৩৫৩-৩৫৫)

আরও পড়ুন: যেভাবে আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত

তবে কোনো এক স্থানে তাসবিহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে সংখ্যার সঙ্গে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নেবে।

এভাবেই এ নফল নামাজ সম্পন্ন করতে হবে। সালাতুস তাসবিহ পড়ে জুমার রাতে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা ফেরান না। এটা পরীক্ষিত আমল। জীবনের যে কোনো সমস্যায় আল্লাহই সমাধান করতে পারেন। কিন্তু আমরা আল্লাহর থেকে চেয়ে নিতে পারি না। আল্লাহর কাছে চাইলেই আল্লাহ খুশি হন। যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন।
আরও সময় সংবাদ