ইসলামের আলোকে করোনাভাইরাসে করণীয়

28
ইসলামের আলোকে করোনাভাইরাসে করণীয়। প্রতিকী-ছবি

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক

সুপ্রভাত বগুড়া (ধর্ম ও জীবন): জেনে নিই ইসলামের আলোকে বর্তমানের মহামারীতে করনীয়ঃ (১) পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। (মুসলিম) তাই নিজে ও নিজের চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে রোগ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হওয়া এবং স্থাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

(২) বেশি বেশি দু’আ ও ইস্তেগফার করা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বদা ইস্তেগফার করে তার জন্যে যে কোন বিপদ হতে মুক্তির একটি পথ বের করে দেন এবং প্রত্যেক চিন্তা হতে মুক্তি দেন। (মিশকাত)

(৩) ইখলাসের সাথে তাওবা করা। তাওবা অর্থ গোনাহ থেকে আনুগত্যের দিকে এবং গাফলত হতে আল্লাহর স্মরণের দিকে ফিরে আসা। আর ইস্তেগফার অর্থ ক্ষমা চাওয়া।

(৪) দান-সদকা করা। নবীজি (সাঃ) বলেন, তোমরা সদকা দ্বারা রোগীর চিকিৎসা করো। সদকা রোগ ও বালা-মসিবত দূর করে এবং আয়ু ও নেকি বৃদ্ধি করে। (বায়হাকী)

(৫) ‘সবর’ এবং ‘সালাতের’ মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন”। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১৫৩) বিপদের কারণে গোনাহসমূহ ঝরে যায়। মর্যাদার স্তর উন্নীত হয়। বান্দা বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে এমন স্তরে পৌঁছুতে পারে সাধারণ ও নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগী দ্বারা সেখানে পৌঁছা সম্ভব নয়।(ফয়জুল কালাম)

(৬) আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ভরসা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার (সকল বিপদ-আপদ দূরীভূত করার) জন্যে তিনিই যথেষ্ট”। (সূরাঃ ত্বালাক, আয়াতঃ৩)

(৭) শরিয়ত বিরোধী ও গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা। গোনাহের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন।

(৮) ইবাদত বন্দেহগীতে মশগুল হওয়া। এতে তিনি খুশী হন।

(৯) রোগীর খোঁজ-খবর রাখা। তবে এ রোগে যেহেতু সংক্রমণ ছড়াতে পারে তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অথবা মোবাইলে খোঁজ-খবর নেওয়া এবং রোগীর সাথে মানবিক আচরণ করা উচিত।

(১০) বিপদগ্রস্থকে সান্ত¡না দেওয়া। যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিকে সান্ত¡না দান করে, তার জন্যেও বিপদগ্রস্থের মতো সাওয়াব রয়েছে। (মিশকাত)

(১১) রোগকে গালমন্দ না করা। কারণ, এটা আদম সন্তানের গোনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমনভাবে কামারের ভাট্রি (লোহার) মরিচা ও ময়লা দূর করে দেয়। (মুসলিম)

(১২) কালিজিরা ও মধু দ্বারা চিকিৎসা করা সুন্নাত। (বুখারী)

(১৩) “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখ লুফলী খাইরাম মিনহা”। অর্থঃ (নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। হে আল্লাহ! এই মুসীবতে তুমি আমাকে প্রতিদান দিও এবং তার স্থলে তার চেয়ে উত্তম বদলা দান করো) (মুসলিম)। দু’আটি অর্থের প্রতি যথাযথ লক্ষ্য রেখে পাঠ করে শান্তনা লাভ করা।

(১৪) মহামারীর এলাকা থেকে মৃত্যুর ভয়ে পলায়ন না করা। মুআয (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) আমাকে দশটি বিষয়ে ওসিয়ত করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলোঃ যদি কোন এলাকায় মহামারী ছড়াইয়া পড়ে, তবে সেখান থেকে পলায়ন করিবে না। (আহমদ)

(১৫) সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (দাওয়াত ও তাবলীগ) ব্যাপকহারে করা। রাসূলুল্লাহ (সা:) কসম খেয়ে বলেছেন,তোমরা অবশ্যই ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজ হতে নিষেধ করবে। নতুবা অনতিবিলম্বেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আযাব প্রেরণ করবেন। তারপর তোমরা (আযাব মুক্তির জন্য) তার নিকট দু’আ করবে, কিন্তু তোমাদের দু’আ কবুল করা হবে না। (মিশকাত)

(১৬) “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যোলিমীন” চারশত বার পড়া। অসুস্থ অবস্থায় চারশত বার পাঠ করলে এবং উক্ত রোগে মৃত্যু হলে শহীদের সমান সাওয়াব লাভ হবে, আর সুস্থ হলে সমস্থ গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। (আহকামে মাইয়েত)

(১৭) “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার। “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ দাহু লা শারীকালাহু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালা হুল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুওতা ইল্লা বিল্লাহ” পড়া। বিশ^নবী (সাঃ) বলেন, যদি কোন রোগি উক্ত দোয়াটি পাঠ করে এবং সেই রোগে তার মৃত্যু হয় তাহলে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না। (তিরমিজি)

(১৮) কোন রোগই দূরারোগ্য নয় এ বিশ^াসের সাথে চিকিৎসা করা এবং মনোবল সতেজ রাখা। তবে হ্যাঁ, হয়ত সে ঔষধ খুঁজে পেতে আমাদের দেরী হচ্ছে।

(১৯) আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করা

(২০) এ রকম ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য নবীজির শিখানো দু’আ পড়া। “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সাইয়্যিল আসক্বাম”। (ইবনে মাজাহ)