ঈদ আসলেও বেচাকেনা নেই দোকান, বিপণি বিতান ও শপিংমলে

14

সুপ্রভাত বগুড়া (ব্যবসা-বানিজ্য): অবশেষে রাজধানী ঢাকার কোনও কোনও এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে টানা বন্ধ থাকার পর খুলতে শুরু করে বেশ কিছু দোকান,

বিপণি বিতান ও শপিংমল। প্রতিদিনই মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, আসছে মৃত্যু সংবাদ।

তার পরেও আসন্ন ঈদের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এই নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এরইমধ্যে অনেক দোকান পাট খুলেছে, সুযোগ থাকলেও ঢাকায় অনেকেই শপিংমল, দোকান-পাট খোলেনি৷ তারপরও যারা খুলেছেন তারা ক্রেতা পাচ্ছেন না ৷

ঢাকার বাইরে ক্রেতা একটু বেশি হলেও কয়েকটি জেলায় সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।  ঢাকায় মধ্যবিত্তের ঈদ শপিং-এর সবচেয়ে জমজমাট মার্কেট হলো বসুন্ধরা এবং যমুনা শপিং মল ৷

আবার অনেকেরই পছন্দ নিউমার্কেটসহ, গুলশান এক নাম্বার ডিএনসিসি মার্কেট, গাউসিয়াসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট৷ অনেকেই দোকান খুলেছে৷ কিন্তু খুললে কি হবে সেখানে তেমন ক্রেতা মিলছেনা৷

খাবার দোকানে কিছু ক্রেতা আসলেও অন্যসব দোকানে তেমন ক্রেতা আসেনা বললেই চলে, অনেক ব্যবাসায়ী জানান, দুই-একজন করে ক্রেতা আসে মাঝে মধ্যে৷ তবুও কি আর করা তারপরও তো দোকান খুলতে হবে৷

কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে৷”মার্কেটের সামনে ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে, ‘করোনায় অসাবধানতায় মৃত্যু হতে পারে’৷ হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷

ক্রেতারা যারা আসেন তাদের মাস্ক পরে আসতে বলা হয়৷রফিক নামে একজন দোকানদার বলেন, আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খুলে বসে থাকি। কিন্তু ক্রেতা করোনার ভয়ে তেমন একটা আসে না।

দোকানে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও আছে। কেউ চাইলে আমরা দিতে পারি। কিন্তু বেচাকেনা না থাকলে কিভাবে আমাদের ব্যবসা চলবে। বেচা সারাদিনে কখনো হয় কখনো হয় না। খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি।

ঢাকার এলিফেন্ট রোড, গাউসিয়া, চন্দ্রিমা এলাকায় পুরো মার্কেট না খুললেও কোথাও কোথাও মার্কেটের নিচ তলার কিছু দোকান পাট খুলেছে৷ বিশেষ করে ঈদের জামা-কাপড় ও জুতার দোকান৷

আর ফুটপাতের দোকানগুলোও অল্প বিস্তর বসেছে৷ কিন্তু এইসব দোকানে যারা আসছেন তারা তেমন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না৷ সবাই মাস্কও পরছেন না৷

তাদের কয়েক জনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যান৷ তারা বলছেন, ‘‘যতদূর সম্ভব চেষ্টা করছি৷ আর ঈদে তো কিছু কেনাকাটা করতে হবে!

না করে উপায় নেই৷ বাসায় ছেলে মেয়ে আছে তাদের নতুন জামা-কাপড় না দিয়ে উপায় নেই৷ তাই বিপদ জেনেও সতর্ক হয়ে বের হচ্ছি৷” অনেক দোকানেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে৷ তবে ক্রেতারা না চাইলে তারা বের করেন না৷

আর সেলসম্যানরা কেউ কেউ মাস্ক পরলেও সবাই না৷ তবে তাদের সবার মধ্যে হতাশা৷ দোকান খুলেও বিক্রি হচ্ছে না৷ ক্রেতা আসছে না৷ তাহলে এত ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলে কী লাভ?

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসেবে দেশে শপিংমল আর দোকান আছে ৩০ লাখ৷ আর শুধু শপিংমল আছে ২৫ হাজার৷ ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ঈদকে সামনে রেখে দোকানপাট অনেক বেশি খুলেছে৷

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও দোকান ও মার্কেট মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই আরেকটি ঈদ আসলেও রাজধানীর মার্কেট শপিংমলের দোকানগুলোতে বেচাকেনা নেই।

দোকানগুলোতে সব পণ্যই আছে নেই শুধু ক্রেতা। সারদিন দোকান খুলে বসে থেকেও কোনো কোনো দিন খালি হাতেও ফিরতে হয়। এ অবস্থায় দোকানভাড়া ও সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবি দোকানদারদের।

আর সহজ শর্তে প্রণোদনা চায় দোকান মালিক সমিতি।ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নামজুল হাসান মাহমুদ জানান, ‘করোনা আসার পর থেকেই ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ।

সহজ শর্তে প্রত্যেকটা দোকানদারকে যদি এক লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা, আর যারা বড় ব্যবসায়ী তাদেরকে বিশ লক্ষ টাকা করে ঋন দেয় তাহলে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।

বর্তমানে দোকানদাররা বেচাকেনা না থাকায় হাতাশার মধ্যে আছে। আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে প্রণোদনা চাই।’