ঈদ সংখ্যা…. “জানা অজানায় তুমি”

76
ঈদ সংখ্যা.... “জানা অজানায় তুমি”

-এম রাসেল আহমেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (শিক্ষা-সাহিত্য): অনেকের জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছে যা আমার সাথে হচ্ছে। আমিও তো মানুষ। রিশার সাথে আমার বন্ধুত্ব বেশি দিনের নয়। আমার সাথে তার বন্ধুত্ব হওয়ার কথা ও নয়। হটাৎ করেই বন্ধুত্ব! আমি আসলে তাকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ি। তাকে ফলো করলাম কয়েকদিন ,আর দেখলাম তার দৃষ্টিভঙ্গি। যখন তাকে বলব ভালোবাসি তখন এতো ভালো সম্পর্ক যে ভয় পাচ্ছি ,সম্পর্কটাই নষ্ট হয় কি না! বলব বলব করে কিছুদিন কেটে যায়। রিশা এ্যাডাল্ট, সব বুঝার কথা , কেন যানি বুঝেনা আমাকে। ভাবলাম যা হবে আজ হয়ে যাক, সাহস করে বলবই তাকে।

কথা কাব্যের ফুলঝুড়িতে কিছু মেয়ে পটানো বাণী সংগ্রহ করলাম। আজ বিশেষ স্থানে মিট করার কথা আমাদের। আগেই বলে রাখি, তার কথা ,আচার আচরন, এমন কিছ ুনেই যাতে কেউ বুঝবেনা যে আমরা জুরি নই। সেই বিশ্বাসেই আজ দেখা করতে আসি। সে ক্যাম্পাসে একা বসে, তার জন্য ছোট্ট একটা ফুল এনেছি, সামনের পকেট থেকে ধীরে ধীরে বের করি আর তার সামনে ধরি। রিশা বুঝতে পারে এটা আবির তাই বলে সব শুনবো বাট আই লাভ ইউ ছাড়া।খুব বড় ধাক্কা খেলাম, কন্টোল করে মুচকি হাসি দিয়ে বললাম এটা তোমার জন্য ছিলোনা, আমি প্রেমে পড়েছি। ভাবছি দু চারটা চর থাপ্পর খাবো কিন্তুু খেলাম না।

যাই তাকেই গিয়ে প্রোপজটা করে আসি।ধাক্কাটা পুরপুরি সইতে পারিনি তাই দুরে যেতে চেয়েছিলাম আর এটাও চাই “নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো” সে সুন্দরী রমনী, তার মতো মেয়ে পাশে কে না চায়? তাছাড়া সে সিঙ্গেল যেকোন সময় পটতেও পারে। ফিল্ডিং করতে ক্ষতি নাই। এই বয়সে কোন এক মেয়েকে তো কাছে পেয়েছি, এই শান্তনা। পেছন থেকে টেনে ধরে আমায়,বলে সে কে? আমায় দেখাবেনা? বললাম তোমার কি সহ্য হবে? কোন ভ্রæক্ষেপ নেই তার । তার আগে বল আই লাভ ইউ না বলার কারন কি? এখন বলা যাবেনা বলে থেমে যায়, ভাবছি আর নয়, ভালবাসি তাকে একদিন ঠিক বুঝবে আমার ভালোবাসা।

সেদিনে মতো ফিরে গেলেও সেই কথার ঝুড়ি চলছেই। বলে তার সাথে কখন মিট করাবে? সে দেখতে কেমন আরো কত কি? তাকে বুঝাতে পারিনা সে রকম কেউ নাই আমার জীবনেতুমি ছাড়া ,এক দিক দিয়ে সুবিধা হয়েছে আর তা হলো ,আমাকে আর তাকে ফোন দিতে হয় না, সেই আমায় ফোন করে খবর রাখে। তার সাথে দেখা বা কথা হলো কিনা? কি কি হচ্ছে আমাদের মধ্যে।

একদিন ঘটনা সত্য হলো একটা মেয়ে আমাকে চায় যেই রকম আমি তাকে চাই। এই কথা আবার আমাকে না বলে তাকেই বলেছে, তাই সকাল থেকে রিশা আমার ফোনে ফোন করছে। ফোন রিসিভ করতেই হাসি দিয়ে বলে সারপ্রাইজ আছে, ভাবছি কি সারপ্রাইজ আছে তাই অধির আগ্রহে দেখা করতে যাই। গিয়ে দেখি তার সাথে একটা সুন্দরী মেয়ে, প্রথম দেখেই তাকে ভালো লেগে গেলো। লোকে বলে প্রথম প্রেম ভুলা যায়না আমার কেন জানি তা হলোনা। আমার মন থেকে রিশার ছবি সরে গিয়ে এর ছবি রিপ্লেস হলো। আমি কিছুক্ষন চুপছিলাম রিশা বলল আমি ভাবতে পারিনি, কি হলো তাকে এই প্রথম দেখলে? এতো দেখার কি আছে তাকেই তো খুজছিলে, আমি তাকে বের করেছি। সে ও তোমাকে ভালোবাসে।

আমি কি আনন্দে লাফাবো? ভাবছি, অনেকেই হয়তো বলবে আমার মেয়ের দোষ আছে কিন্তু না, আমি সেই টাইপের নই। আসলে মেয়েটি আমায় তার বাড়িতেই দেখেছিল, আমি লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিতাম।জনসেবার ফল ,যার বাড়িতে লোকজন থাকেনা তার বাড়ির গিয়ে বাজার ঘাট করে দিতাম। আসলে আমি আমার পরিচয়টা ভালো করে দেইনি।

আমার বাড়িতে তেমন কেউ নাই, ছোট থেকে অন্যের বাড়িতেই মানুষ হয়েছি, বাচ্চাদের পড়াই আমি, ফ্রিতে ; তবে পুরাটা নয়, যারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল তারা জোর করে বাসায় নিয়ে খাওয়ায় ,আর কেউ পাঠিয়ে দেয়।যার বাড়িতে যেতে ইচ্ছা তার বাড়িতে যেতে পারি, সবাই ভালবাসে।আমি সময় করে সবার বাড়িতে তাই সবাই কিছুনা কিছু খাওয়ায়। আমার একা থাকতে ভালো লাগেনা, সবার সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। সেই সুবাদে কমল ভাই নামে লোকের বাড়ি বাজার দিতে গিয়ে সে আমায় দেখেছিল।

আমি একবার তার বাড়িতে গেছিলাম আর সেই থেকে আমার প্রেমে পড়েছে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম! পরে পরে তার কাছ থেকে শুনতে পাই ভাবি মানে কমল ভাইয়ের বউ বলেছে। আমি তাকেও সময় দিতে থাকি।
আমার সমন্ধে এতো ভালো ভালো বলেছে যে আর পিছু ছাড়তে চায়নি। তার সাথে আমার বেশ ভালোই জমছে কিন্তু রিশাকে সময় দিতে পারছিনা। আমি রিশার কথা ভেবে তাকে বিরক্ত করতে চাইনি। কিন্তু রিশা আজ আমার সাথে মিট করতে চায়। আমার মিট করার সময় ছিলোনা কারন মিতুর বাড়িতে যেতে হবে। তার বাড়িতে সবাই আছে, যৌথ পরিবারে বাস করে তারা।

এতো দিন আমার মতো ছেলের একটা পরিবার হবে ভেবে সময়টা হাত ছাড়া করতে চাইনি। আমি জানতাম না রিশার এতটা এতোটা খারাপ লাগবে, পরে জানতে পেরেছি সে আমাকে কতটা চায় । আমি এ বাড়িতে জামাই আদর পাচ্ছি, মানুষ কতটা ভালো হয় এ পরিবারকে না দেখলে জানতাম না। তাদের মেয়ে অচেনা একটা ছেলেকে পছন্দ করলো আর তারা সেটা মেনে নিল, আমার কল্পনার বাইরে ঘটছে সব। আমিও চাই এ পরিবারে নিজেকে সামিল করতে। রিশা আমায় ফোর করে আমি সেই ফোন তুলতে পারিনি, ভাবলাম অন্যায় করেছি তার সাথে মিট করে সব বলব।

কথা মতো তার সাথে আমার দেখা হলো, আমি তাকে আগের মতো পেলাম না। কেন জানি বদলে গেছে সে। আগের মতো হাসি খুসি থাকেনা। তাকে তার পছন্দের জায়গা ঘুরালাম কিন্তু কিছুতেই প্রকৃত হাসি হাসতে দেখলাম না। আমি তার আচরনে ব্যথিত , তাকে বার বার বলেছি, আমি কোন ভুল করেছি কি না? সে বলে তোমার কোন ভুল নাই, আমি বুঝতেছিনা কেন এমন হচ্ছে আমার, কোথাও সুখ বলতে কিছু নাই বলে মনে হয়, আমিতো এরকম ছিলাম না। কথা গুলো জটিল ছিল তার, এরই মধ্যে ফোন আসে মিতুর। আমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে। আমি ভাবি একবার সারপ্রাইজ পেয়ে রিশাকে ভুলেছি এবার বুঝি তাকেও ভুলতে হয় ,আমার তাই তাকে তখনি বললাম আমার সারপ্রাইজ চাইনা, শুধু তোমাকে চাই।

কথাটি রিশার মনে এতো দাগ কাটবে আগে জানলে বলতাম না । আমি আজ আসি বলে চলে যায় সে। আগে কখনো এ আচরন করেনি সে। আমি তার সাথে অন্যায় করছি? তবেকি রিশা আমায় চায়? তার এ পরিবর্তন কেন? সেতো প্রেম ভালোবাসা সহ্য করতে পারেনা, নাইবা পারলো তবে বন্ধুর প্রেমেও তার এতো জ্বালা? আসল কথা আমি বুঝতেই পারিনি, আমাকে ভালোবাসার কথাতো মুখেই আনা যাবেনা। একবার ভাবি সে এবার সত্যি সত্যি আমার প্রেমে পড়েছে, আবার ভাবি না।

আমাকে ভালোবাসার কোন কারন নাই তার, আমি ছাড়া আমার কেউ নাই তবে মিতু আমাকে ভালোবাসে কারন তার পরিবারে মানুষকে খাওয়ানো পড়ানোর অভ্যাস আছে সে দিক দিয়ে হয়তো একটা অনাথ ছেলেকে সাহায্য করতে চাইছে, এটা সবার করা উচিৎ। সবাই নিজের মাপের মানুষ খোজে । আমি মিতুর অপেক্ষাতে আছি সে আসবে বলে, কিন্তু আমার অপেক্ষা সারা জীবনের অপেক্ষা হবে ভাবতে পারিনি।

দুদিন আগে নিজের কাজে শহরের বাইরে গিয়েছিলো, অবশ্য যাওয়ার সময় বলেছি আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে কিন্তু আমি রিশার কথা ভেবে যাইনি। বাহানা করেছিলাম, রিশাকে সময় দেওয়া উচিৎ, সারাক্ষন মিতু আমাকে নিয়ে এতো ব্যস্ত যে রিশা আর আমার বন্ধুত্ব দুরত্বে পৌছায়। রাস্তায় দুর্ঘটনায় মিতু আমাকে ছেড়ে পরপারে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। আমি প্রথমে কথাটা শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে দেখি সত্য! দুচোখে অশ্্রু, আমি নিজেকে সামলাতে পাড়ছিনা।

সে বলে আমার আর এ জন্মে তোমার সাথে ঘর করা হলোনা, আফসোস নেই, তোমাকে ভালোবেসে যেতে পেরেছি। আমি তাকে বললাম আমার সব কিছুর বিনিময়ে তোমাকে ভালো দেখতে চাই, তুমি এমন কথা মুখে আনবেনা, তবে সে কথা বলে লাভ নেই , কথা বলতেই রিশা আসে ভেতরে, কান্না ভরা চোখে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামছে। কারো মুখে কোন কথা নেই,শুধু কান্না। সেই নিশ্চুপ মুহুর্তে মিতু আমার হাত ধরে সবাইকে ছেড়ে অপারে চলে যায়।

পরিবারের সবাই হাসপাতাল উপস্থিত , আমি কাকে কি শান্তনা দিব নিজেই জ্ঞান হারিয়েছি কয়েক ঘন্টা। আমি বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছি, তবে নিশ্বাস পড়ছে এটাই জানি। আমার সমস্ত দায়িত্ব মিতুর পরিবার নিয়েছ্।ে আমি আর শহরে যাইনা, এখানেই থাকি সেই সময় থেকে। আমার খুব কষ্ট হয় না এখানে থাকতে ,তারা এতো ভালোবাসে আমাকে নিজেকেই ভুলে যাই।মিতুর কথা ভুলে রেখেছে আমায়, যেখানেই যাই মিতুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই, মিতু আর আমি বেশি দুরে নই। পরিবারের সবাই আমাকে মিতুর স্মৃতি নিয়ে ভাবতে দিতে চায়না, তারা বলে আমি তাদের ছেলে।

আমি আর আগের মতো সবার বাজার করিনা,সবাই আমার বাজার করতে ব্যস্ত।আমার কি চাই সেটা কে আগে এনেদিবে তা নিয়ে ঝগড়া হয়। আগামীকাল কুরবানীর ঈদ! তাই মা-বাবা, চাচা-চাচি, ছোট ছোট ভাইবোনেরা আমায় নিয়ে কে কি করবে তার কর্মপরিকল্পনা করছে।

আজ রিশার আসার কথা এখানে, ফোন করেছিল, আবার সারপ্রাইজ আছে বলল। মাঝে মাঝে রিশা এখানে আসে,কিছুদিন থাকে আবার চলে যায়। বাড়িতে অনেক অতিথী এসেছে আমি কিছু জানতাম না কে এসেছে। কোন কাজ করতে দেয়না এই পরিবারের কেউ, যেটাই করতে যাই সেটা অন্যের কাজ বলে করতে দেয়না। কিছু বুঝতেছিনা মনে হয় করো বিয়ে হবে এ বাড়িতে, কেউ কিছুই বলছেনা কিছুক্ষন বাদে রিশার আগমন। আসতেই বললাম কি সারপ্রাইজ! আসি বলে মা বলে চলে যায়, মিতুর মাকে সে বলে ডাকছে।

আমি তো তাকে মা বলেই ডাকি। আমি যখন জ্ঞান হারিয়েছিলাম সেদিন রিশা মিতুর যায়গা নিয়ে নিয়েছিল। যতদুর বুঝলাম সে বলেছে আমি আপনার মিতু। পরে পরে বুঝতে পারি রিশাও তাকে মা বলে ডাকে। সমস্ত কাজের মাঝে সারা বাড়িতে আমি মিতুকে খুব মিস করছি। এরই মধ্যে বাবা আসে আর বলে বাবা হিসাবে আমার একটা বড় দায়িত্ব এখনো বাকি আছে।

তার কথা শেষ না হতেই বললাম আমি সেটা পালন করে দিব ছেলে হিসাবে, আপনার চিন্তার কারন নেই। বলল আমার মেয়েটাকে বিয়ে করে নাও বাবা। অবাক হয়ে বললাম আপনি তো সব জানেন বাবা, তবে কেন….. মা এসে বুঝিয়ে বলল সব কিছু কিন্তু আমার কি করা উচিৎ সেটাই ভাবতে পারিনি তখন, সময় নিয়ে রিশাকে বললাম ঘটনা। রিশা বিস্তারিত বলল বলেই আজ রিশার মাঝে মিতুকে দেখতে পাচ্ছি।

উৎস্বর্গ : সাংস্কৃতি প্রেমী, জাতীয় শ্রমিকলীগ-যুব কমিটি বগুড়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি               রাকিব উদ্দিন প্রাং সিজার এর প্রতি।