একজন সেলাষ্টিয়েন পিনারু-

326

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাটঃ  সেলাষ্টিয়েন পিনারু যিনি নিজেই ভোগেন এতো বড় নামের কষ্টে যাকে তার নাম পরিবর্তন করে ডাকা হয় সেলু নামে। তার জন্ম খ্রীষ্টান পরিবারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ার কলোনির দামপাড়াতে। যিনি অনায়াসে মনের আনন্দে সামনে থাকা টুল-টেবিলেও বাজিয়ে চলেন বিখ্যাত ভ‚পেন হাজারিকার গান। তার মধ্যে উল্যেখ যোগ্য গান হচ্ছে বির্স্তীর্ণ দুপারে ও অসংখ্য মানুষের” শিরোনামের গান। বন্ধুরা সময় পেলেই তাকে টেবিল চাপরিয়ে গান গাইতে অনুরোধ করতেন, তিনিও তাদের জন্য গান গাইতেন। এরপর একের পর এক স্টেজ প্রোগ্রামে গান গাইতে শুরু করলে চট্টগ্রামের স্পাইডার নামে এক ব্যান্ড দলের সাথে যুক্ত থেকে গান-বাজনায় লেগে পড়েন।

স্পাইডারের নেতৃত্ব দিতেন জেকব ডায়েস। তাঁর বাসায় অবসরে প্রায়ত শ্যামসুন্দর বেষ্ণব ও শেফালী ঘোষের সাথে থাকা আনন্দ দা এর সাথে কঙ্গো বাজাতেন । ১৯৮৮ সালে একটা ব্যান্ড এলবাম এর ক্যাসেট বের করেছিলেন পিনারু। নিয়মিত পার্থদা বড়–য়া, জেমস, প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু ভাই কাজ প্রোগ্রাম চালিয়ে যান এর পর ঢাকার বেইলি রোডে ষ্টুডিও অডিও আর্ট এর আজম বাবু , সারগাম এর বাদল দার মতো অসংখ্য গুণী মানুষের সাথে তার পথ চলা। চালু হয় ব্যান্ড ম্যাসেজ।
তার কথায় প্রায়ত আইয়ুব বাচ্চু ভাইকে বাদ দিয়ে ম্যাসেজ ব্যান্ডের কথা লেখা সম্ভব না। প্রায়ত আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন তাদের ম্যাসেজ ব্যান্ডের গুরু । কিছুদিন গানবাজনা থেকে দুরে গেলেও কন্ঠে যার গান বাজে, হাতে যার হারমোনিয়াম কিংবা কীবোর্ড , ইচ্ছা করে তার কি গান থেকে সরে যাওয়া মানায়? সে সরেও যেতে পারে না।

হটাৎ ১৯৯৯ সালে জীবনে নতুন অতিথী এসে একদিন গান বাজনার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১৩ বছরের সংসার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ২০১২ সালে এসে কুমার বিশ্বজিৎ এর একটা গানের কথা মনে পরে যায় “যারে ঘর দিলা সংসার দিলারে, তারে বৈরাগী মন কেন দিলা রে” এটা তাকে বেশ মোটিভেন করে। ফিরে যান গান বাজনার সেই আপন গৃহে।
ষ্টারমেকার থেকে মিউজিক ডাউনলোড করে তাতে কন্ঠ দিয়ে ইউটিউবে চ্যানেল খুলেছেন পিনারু যার নাম “সেলাষ্টিয়ান বাংলাদেশ” (ইংরেজীতে লিখতে হবে celestian Bangladesh লিখে সার্চ দিলে তার গান পাওয়া যাবে) । তার ইচ্ছে ৫৫ বছর পার করার পরেও নিজেকে ফিট রাখতে পেড়েছি যেমন , তেমন নিজের গান খুব সহসা বের করবো কোন ভাল মিউজিক চ্যানেলে।

এখন তিনি বাংলাদেশের জয়পুরহাটে অবস্থান করছেন। তার মনের কথা সহসা শেয়ার করতে পেড়েছে বলে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায় জয়পুরহাটে কিছু মানুষের সংস্পর্শে এসে হয়তো কথা গুলো আমি বলতে পারছি বলে শান্তি পাচ্ছি, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকবো যদি আমি সত্যি আবারও গান করতে পারি, গানের সাথে যুক্ত হতে পারি। কোনো টিভি চ্যানেলের সাথে যুক্ত হতে পারি তবে আমার গান বা কন্ঠের আওয়াজ বাংলার মানুষকে শোনাতে পারি। জয়পুরহাট হয়তো একটি খুবই ছোট জায়গা, এইখান থেকে এই ডাক কি শুনতে পাবে পুরো বাংলাদেশ? আমরা ভার্চুয়াল যুগে পৌছে গেছি তাই যেখান থেকে আওয়াজ আসুকনা কেন আমরা শুনতে পাই। তাই আমার বিশ্বাস এই পৌর পিনারুকে মানুষ আগের মতো গ্রহন করবে। তার এই চাওয়া অক্ষুন্ন থাকবে বাংলায়।

সুপ্রভাত বগুড়া/ এম রাসেল আহমেদ