একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জয়পুরহাটের ডিডি!

2527

সুপ্রভাত বগুড়া (নিজস্ব প্রতিবেদক): জয়পুরহাট জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোঃ ইমাম হাসিমের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বয়স্ক, বিধাব অসহায় ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগীদের টাকা অন্য হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করে একক স্বাক্ষরে চেকের মাধ্যমে সেই টাকা উঠিয়ে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। কিছ ুদিন যাবৎ তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে এবং প্রমাণিত হয়েছে।

এবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে তিনি বিভিন্ন ভাতার ( মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও বিধাব) টাকা নিজে অতœাসাৎ করেছেন। প্রাপ্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ১২-০৬-২০০৬ থেকে ২০-০৭-২০১৬ পর্যন্ত তিনি উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, শেরপুর, বগুড়ায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন ।

সেখানে থাকা অবস্থায় ২৮-১১-২০১৪ ইং তারিখে সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখায় বয়স্ক ভাতা আনুতোষিক নামে একটি হিসাব ( একাউন্ট ) খোলেন যার নম্বরঃ- ০০১০২৫৫৫৮ যা একক স্বাক্ষওে পরিচালিত। এই হিসাব নম্বারে বয়স্ক ভাতার মাদার হিসাব নং- ০০১০২৫২৫২ থেকে ২,৫৪,০০০/- (দুই লক্ষ চুয়ান œহাজার) টাকা, বিধাব ভাতার মাদার হিসাব নং- ০০১০২৫২৬৩ থেকে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতার হিসাব নং- ০০১০২৫২৮৫ (পূর্বে সমাজ সেবা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হতো বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়।) থেকে ৩৬,০০০/- (ছত্রিশ হাজার) টাকা সহ বিভিন œহিসাব নং থেকে মোট ৮,৮১,৭০০/- টাকা স্থানান্তর করেন এবং চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৮,৬৭,০০০/- ( আট লক্ষ সাতষট্টি হাজার) টাকা উত্তোলন করেন।

সর্বশেষ চেক নং ১০/৬৭৫৫৪৪৮ এর মাধ্যমে ৪,০০০০০/- (চার লক্ষ) টাকা উত্তোলন করেন। শেরপুর সমাজ সেবা অফিস থেকে চলে আসার আগ মুহুর্তে ০২/০৮/২০১৬ ইং তারিখে ব্যাংক হিসাব নং ০০১০২৫৫৫৮ টি বন্ধকরে দিয়ে আসেন। বয়স্ক, বিধবা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মাদার হিসাবের টাকা অন্য হিসাব নং এ স্থানান্তর ও একক স্বাক্ষরে উত্তোলনের বিষয়ে শেরপুর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ ওবায়দুল হক কে জিজ্ঞাস করা হলে, তিনি বলেন এটি সর্ম্পন্ন নিয়ম বহির্ভূত কাজ , এভাবে টাকা তোলার কোন আইন নেই, যদি কেউ এসব করে থাকেন তবে অন্যায় করেছেন।

এ ব্যাপারে আবু সাঈদ মোঃ কাওছার রহমান যিনি উপপরিচালক, জেলা সমাজ সেবাকার্যালয়, বগুড়া । তিনি ও একই রকম কথা বলেন। তিনি আরও বলেন এটি কোন অফিসার করতে পারেন না, আর করে থাকলে তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।

উপপরিচালক, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, জয়পুরহাটকে সর্বশেষ এভাবে ৪,০০০০০/- (চারলক্ষ) টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, একক স্বাক্ষওে উত্তোলন করে ভাতা ভোগীদেও হাতে হাতে বিতরণ করেছেন একটি টাকাও আমি নিজে নেয়নি । বরং তাদের কাজে কিছু ধরাবাধা নিয়মের কারনে এসব হয়েছে। যেমন উদাহরন হিসাবে তিনি বলেন আমরা মাঠ পযার্য়ে কর্মীদের পাঠিয়ে সঠিক সময়ে ভাতা বন্টন করতে পারিনা তখন অন্য উপায়ে সেই টাকা এভাবে সরিয়ে আবার পুনরায় আবার মাদার একাউন্টে ফেরৎ নিয়ে আসি আর ভাতা ভোগিদের বন্টন করে থাকি।

তাকে এভাবে বিতরণের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি, বলে এভাবেই কাজ করে আসতেছি এতো দিন। শেরপুরে এসব অপকর্ম করে জয়পুরহাট এসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি সরকারী গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার,এতিম খানার জিনিস পত্র দিয়ে নিজের আবাস্থল সাজানো এছাড়া মহা-পরিচালক এর আদেশ অমান্য করে কর্মচারীর বদলি, মহা-পরিচালক এর আদেশ অমান্য করে এক অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব অন্য অফিসারকে প্রদান,

স্বজন প্রীতি কওে নিজ উপজেলায় অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ৩গুন থেকে ৪গুন ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের চেক প্রদান মর্মে বিভিন্ন টেলিভিশন ও দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হওয়া স্বত্বেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।