এবার মধ্য এশিয়ার ছোট ও গরিব দেশ তাজিকিস্তানের দিকে নজর বুলাতে শুরু করেছে চীন

33
এবার মধ্য এশিয়ার ছোট ও গরিব দেশ তাজিকিস্তানের দিকে নজর বুলাতে শুরু করেছে চীন।

সুপ্রভাত বগুড়া (আন্তর্জাতিক): নিজেদের সীমানা বাড়াতে এবার মধ্য এশিয়ার ছোট ও গরিব দেশ তাজিকিস্তানের দিকে নজর বুলাতে শুরু করেছে চীন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত চীনা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সম্প্রতি এমন এক নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ইয়ো ইয়াও লু নামে চীনের একজন ইতিহাসবিদ লিখেছেন, একট সময় পুরো পামির এলাকা চীনের ছিল।

তাই এবার পামিরের পার্বত্য ভূমি চীনের ফেরত পাওয়া উচিত। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া। এই নিবন্ধটি খুব মনে ধরেছে চীনের কমুনিস্ট শাসকদের। এমন প্রতিবেদনের পর থেকেই চীনের সংবাদমাধ্যম এই নিয়ে লেগেছে। তারাও অতীত খুঁজে দেখতে নেমেছে। সে সঙ্গে তাজিকিস্তানের কাছ থেকে পামির মালভূমি ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় চীন সরকারকে যথাসাধ্য সাহায্য করে চলেছে।

আর চীনের এই সাম্রাজ্যবাদী আস্ফালনে ভয়ে কাঁপছে মুসলিমপ্রধান ছোট গরিব পর্বতময় দেশ তাজিকিস্তান। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ তাজিকিস্তান ১৯৯১ সালে স্বাধীন হয়। তবে পরের বছরই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধ পাঁচ বছর ধরে চলে। এরপর থেকে দেশটিতে ক্ষমতায় আসেন ইমোমালি রাহমন নামের এক ব্যক্তি। ‘স্বৈরশাসক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এখন তাজিকিস্তানের শাসক ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ো ইয়াও লু’র ওই প্রতিবেদন দেশটির সংবাদ মাধ্যমে জোরে সোরে প্রচার করা হচ্ছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। ফলে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমুনিস্ট সরকার বিষয়টাকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০১১ সালে চীন ও তাজিকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। ওই চুক্তিতে দু’দেশেরই সীমান্ত নির্ধারিত করা হয়েছিল।

কিন্তু তা সত্ত্বেও শি জিনপিং সরকার নড়ে চড়ে বসেছে প্রতিবেশী দেশটিকে গ্রাস করতে। অথচ ওই চুক্তিতে চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋনের দায় মেটাতে তাজিক সরকার পামির মালভূমিতে এক হাজার বর্গ কিলোমিটার জমি চীনকে লিখে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকায় তাজিকিস্তানে রুশ প্রভাব রয়েছে।

কিন্তু দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর চীনের মতো দানবাকৃতির প্রতিবেশীর মুখোমুখি হতে হয় তাদের। মধ্য এশিয়ায় তাদের বিনিয়োগের কবলে পড়েছে তাজিকরাও। অর্থনৈতিকভাবে চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখন ভৌগোলিকভাবেও সমস্যার মুখে পড়তে যাচ্ছে।