করোনাকালীন সময়ে কেমন হচ্ছে বাড়িতে বসেই দেওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুল পরিক্ষা?

79
করোনাকালীন সময়ে কেমন হচ্ছে বাড়িতে বসেই দেওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুল পরিক্ষা? ছবি-দিপংকর

সুপ্রভাত বগুড়া (এ.কে দিপংকর(সদর উপজেলা প্রতিনিধি): করোনার অদৃশ্য থাবা হানা দিয়েছে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে। ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হতে চলেছে, তবে এখনো নাকাল অবস্থা শিক্ষাখাতে। ১৭ই মার্চ বন্ধ হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো পড়ছে না শিক্ষার্থীর পদচারণা, শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক যেন ছিন্ন করে রেখেছে মহামারী করোনা। ক্ষতি পুষাতে করা হয়েছে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা কিন্তু তাতে কতটুকুই বা আছে শিক্ষার্থীদের আস্থা। আগস্টে এসেও নেওয়া হয়নি অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা, কে জানে শিক্ষাব্যবস্থার গতি গড়াচ্ছে কোন দিক ?

গতকাল থেকে করতোয়া মাল্টিমিডিয়া পাবলিক স্কুলে নার্সারী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা। ছবিটি গতকাল পুরান বগুড়া তিনমাথা রেলগেট এলাকা থেকে তোলো। ছবি-দিপংকর

তবে বগুড়ার কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য করছে বিকল্প ব্যবস্থা। অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে পরিক্ষা। গতকাল থেকে করতোয়া মাল্টিমিডিয়া পাবলিক স্কুলে নার্সারী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা। তবে তা স্কুলে না, বরং শিক্ষার্থীরা পরিক্ষা দিচ্ছে নিজ বাসায় বসে। অভিভাবকরা স্কুল থেকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সংগ্রহ করে বাসায় নিচ্ছেন নিজ সন্তানের পরিক্ষা। পরিক্ষা শেষে খাতাগুলো স্কুলে জমা দিচ্ছেন অভিভাবকরা। নিঃসন্দেহে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ হলেও স্বচ্ছতা ও মেধা মূল্যায়ন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যায়।

এ বিষয়ে স্কুলটির পাবলিক রিলেশন অফিসার জনাব মোর্তুজা মোর্শেদ বলেন: বর্তমান পরিস্থিতিতে মেধা মূল্যায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও এটা কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে। পরিক্ষার কারণে অন্তত তারা বইগুলো নাড়াচাড়া করবে। যদিও শিক্ষার্থীদের ১০০% পরিক্ষার আওতায় আনা যায়নি। এসময় তিনি অকপটে বলেন, বেসরকারী এই প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। তাদের বেতনের বিষয়টাও এখানে বিবেচ্য। সীমিত আকারে হলেও যদি শিক্ষা কার্যক্রম চলে তবে অভিভাবকরা বেতন দিতে দ্বিধা করবেন না।

এছাড়া বগুড়া শহরের বীট মডেল স্কুলেও অনলাইন পদ্ধতিতে পরিক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে শ্রেণীভিত্তিক গ্রুপ খুলে তাতে সকাল ১০টায় প্রশ্নপোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ টা ১৫ মিনেটের মধ্যে উত্তরপত্রের ছবি তুলে শিক্ষার্থীরা আবার কমেন্ট করেছেন অথবা অভিভাবকরা নিজ হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছেন। টিএমএসএস স্কুলেও পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণীর পরিক্ষা এভাবে নেওয়া হচ্ছে।

এবছরই জয়পুরপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত ক্যাপ্টেন মাল্টিমিডিয়া পাবলিক স্কুল প্রতি সপ্তাহে দুইদিন অভিভাবকদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দিচ্ছে। সেটা দিয়েই অভিভাবকরা সন্তানদের পরিক্ষা নিয়ে উত্তরপত্র স্কুল জমা দিচ্ছে। ক্যাপ্টেন স্কুলের পরিচালক তাপসী চক্রবর্তী বলেন এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে দেখে লিখলেও লাভ। অন্তত পরিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীরা বইগুলো পড়বে। তাছাড়া একটানা স্কুলের বাহিরে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভ্যাস হারিয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বাড়িতে বই খুলে বা বড়দের সহায়তা নিয়ে পরিক্ষা দিচ্ছে। তবে কিছু ব্যাতিক্রমও লক্ষ্য করা গেছে। করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাবীয়্যুন ইসলাম পৃথিবীকে দেখা যায় বাড়িতেই স্কুল ড্রেস পড়ে নির্ধারিত সময়েই পরিক্ষা দিচ্ছে। তার বাবা জনাব আশরাফুল ইসলাম রহিত তাতে গার্ড দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্তানকে যদি দেখে লিখতে দেওয়া হয় তাহলে পরিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাবে যা পরবর্তী পরিক্ষাগুলোতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। তাই সন্তান ফেল করুক বা নম্বর কম পাক যাই করুকনা কেনো এতে তার প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হবে’। তাই নিজেই স্কুলের মত গার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই পরীক্ষা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয় বরং অভিবাবকদের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা”।