করোনাকালে ঈদ হোক স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নিয়ম মেনে: আরছি

46
করোনাকালে ঈদ হোক স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নিয়ম মেনে: আরছি

সুপ্রভাত বগুড়া (নিজস্ব প্রতিবেদক): কোরবানির ঈদের অন্যতম বিষয় হলো পশু কোরবানি। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাব থাকলে দেখা দিতে পারে পরিবেশগত নানা সমস্যা, যা আমাদের জীবনযাত্রায় অস্বস্থিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। কোরবানির পশুর বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলার দরুণ তা পচে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, পরিবেশ দূষিত করে। শুধু তাই নয়, নালা বা নর্দমাতে ফেলা বর্জ্য থেকে ছড়ায় নানা ধরনের রোগের জীবাণু।

অতিরিক্ত বর্জ্যরে চাপে নালা বা নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তখন অল্প বৃষ্টিতেই নর্দমার পানি আটকে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তখন পৌরসভা এসব বর্জ্য অপসারন করতেও হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় আমরা কোরবানির পশুর দেহের ভক্ষন-অযোগ্য অংশবিশেষও যেখানে সেখানে ফেলে রাখি। পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর না হলে সেসব অংশ পচে উৎকট ও বাজে ধরণের দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা শ্বসনের সাথে আমাদের দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে নানা রোগ সৃষ্টি করে।

পৌর কর্তৃপক্ষ অবশ্য প্রতি কোরবানি ঈদের পূর্বেই বর্জ্য অপসারন সম্পর্কে নির্দেশনা, জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালায়। কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা সেসব বিষয় ততটা আমলে নিই না। যার দরুণ আমরাই সম্মুখীন হই নানা সমস্যার। তবে যদি কোরবানির বর্জ্যকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনা যায় তাহলে পরিবেশও থাকবে দূষণমুক্ত, জনস্বাস্থ্যও থাকবে নিরাপদ। এজন্য কোরবানির আগেই বাড়ির পাশে কোনো মাঠে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় একটা গর্ত তৈরি করে রাখা যেতে পারে, কোরবানির পর সকল পরিত্যক্ত বর্জ্য সেখানে ফেলে মাটিচাপা দেয়া যেতে পারে। তবে শহরাঞ্চলে গর্ত খুঁড়ার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানি ও গ্যাসের পাইপ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ইত্যাদি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার একটি উপায় হলো, গ্রামাঞ্চলের লোকেরা কয়েকজন একত্রে কোরবানি করা ও কোরবানির বর্জ্য মাটির নিচে পুতে রাখা, যা পরবর্তী বছর কোরবানির আগেই উঠিয়ে জৈব সার হিসেবে শষ্যক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। কোরবানির সব কার্যক্রম শেষে রক্তে মাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা উচিৎ। জীবাণু যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য নোংরা জায়গা পরিষ্কারের সময় ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক ব্যবহার আবশ্যক।

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল ও অব্যবস্থাপনার কুফল সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা খুবই প্রয়োজন। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যেসব এলাকায় গর্ত খুঁড়ার উপযুক্ত জায়গা নেই সেসব এলাকার বর্জ্য প্রচলিত উপায়ে অপসারনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাজ করতে সুবিধা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়। আর জায়গাটি রাস্তার কাছাকাছি হলে বর্জ্যের গাড়ি পৌঁছাতে সহজ হবে।

জনসচেতনতা তৈরিতে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচারণা চালানো যেতে পারে । যেহেতু কোরবানির বর্জ্য পচলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ সেহেতু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রয়োজন অনেক বেশি সচেতন হওয়া। । একটু সচেতনতা আর সঠিক পরিকল্পনাই এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। পরিশেষে আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সকলের জীবন এবং পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আপনার পরিবারে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি এই প্রত্যাশা রইলো।স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন।