করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় চীনকে ছাড়াল বাংলাদেশ !!

69
করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় চীনকে ছাড়াল বাংলাদেশ !! প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): চীনে প্রাদুর্ভাবের তিন মাস পর বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কভিড-১৯ রোগে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৯।

সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫৭৮ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৮২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৮৫৬ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন। অন্যদিকে এ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ২২৮ জন।গতকালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শনিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এ সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে ৫৯টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৬৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসে বিশ্বে আক্রান্ত সাড়ে ৭৬ লাখের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ লাখ ৪৮ হাজার জন।

শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অষ্টাদশ স্থানে। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কানাডা, যেখানে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশের বেশি।

বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতে তিন লাখের বেশি আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে প্রায় ৯ হাজার জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত এক লাখ ৩২ হাজারের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজার জনের।

বাংলাদেশে আক্রান্ত বিবেচনায় মৃতের হার এক দশমিক ৩৫ শতাংশ বলে জানান অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত একদিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ১১ জন নারী।

তাদের ২৭ জন হাসপাতালে, ১৪ জন বাড়িতে মারা গেছেন এবং তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মৃতদের ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন বরিশাল বিভাগের, একজন রংপুর বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

মৃত ৪৪ জনের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। সাতজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ১১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে,

পাঁচজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ছয়জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অধ্যাপক নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আনা হয়েছে ৪৯৬ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ হাজার ৩৪০ জন রোগী।

বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে ৫৯টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৬৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ।