করোনা দুর্যোগে বগুড়ায় অনুদান পেল এমপি’র ভাই, পিএস ও তার স্বজনরা !

162
করোনা দুর্যোগে বগুড়ায় অনুদান পেল এমপি’র ভাই, পিএস ও তার স্বজনরা ! প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধি): করোনা দুর্যোগকালীন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু’র ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানের অর্থ বিতরণে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি অনুদানের নীতিমালা লংঘন করা হয়েছে অন্যদিকে নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এলাকার অসহায় ক্ষুধার্ত হত-দরিদ্রদের।

শুধু তাই নয়, জনকল্যানে কাজ করার জন্য সরকার বারবার তাগাদা দেয়া সত্বেও সেসব নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো হয়েছে। জানাগেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বগুড়া -৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এর অনূকুলে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ঐচ্ছিক তহবিল হতে অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়। যা ৪৮ জন ব্যক্তির মাঝে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। তালিকা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন উপকার ভোগীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

এই অনুদানের তালিকায় নাম রয়েছে, সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু’র আপন ছোট ভাই ওয়াজেদ আলী গোলবাগী, তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) রেজাউল করিম, শাজাহানপুর এলাকার প্রতিনিধি/ পিএস ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, পিএস নজরুল ইসলামের স্ত্রী বেদনা ইসলাম, ছোট ভাই আরাফাত হোসেন, দুই শ্যালক আব্দুল বাছেদ রনজু ও তাজনুর রহমান, দুই শ্যালিকা শাপলা ও শিউলী খাতুন, মেয়ে জামাই সোহানুর রহমান মোসলেম, তার বেয়াই তমিজ উদ্দিন ও বেয়াইন তহমিনা আক্তারের নাম।

এছাড়াও তালিকার বাকি সবাই সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজন এবং তার বাড়ি ডোমনপুকুর এবং শশুরবাড়ি গ্রাম মানিকদিপা ও তাঁর উপজেলা প্রতিনিধি/পিএস এর গ্রাম খরনা ধাওয়াপাড়ার বাসিন্দা। করোনার এ দুর্যোগে এভাবে স্বজনপ্রীতি করে রাষ্ট্রীয় টাকা বিতরণের চিত্র দেখে নীরবে চোখের পানি ফেলেছে হতদরিদ্ররা। তাদের নুন আনতে পানতা ফুড়ালেও সমাজের অসহায়-দরিদ্রদের দিকে তাকানো হয়নি একটুকুও। ফলে সীমাহীন বিবেক বিবর্জিত কাজ করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, এর ফলে সরকারি অনুদানের নীতিমালা লংঘনও করা হয়েছে। এলাকাবাসি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর এ ধরনের কর্মকান্ড নতুন নয়। এমপি হওয়ার আগে তিনি একধিক নাম ব্যবহার করতেন। এলাকায় থাকাকালে কোথাও রেজাউল করিম বাবলু, কোথাও শওকত আলী, কোথাও গুলবাগী। তার যে আসল নাম কোনটা তা আজ পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। একেক জায়গায় তিনি একেক ছদ্মনাম নাম ব্যবহার করতেন। এলাকায় তার ভোট তো দুরের কথা জনপ্রিয়তাও নাই।

সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিলেও বিএনপি দলীয় প্রার্থী মিলটনের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় জোড় তদবীর চালিয়ে নির্বাচনের আগের রাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বিএনপির সর্মথন নেয়। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি বলিষ্ঠ প্রার্থী ছিল আওয়ামীলীগ। ফলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রচারণা ও বিরোধিতা তুঙ্গে উঠে। এভাবে নির্বাচনে বিএনপির সমর্থকদের ভোটে বিজয়ী হওয়ায় তাক লাগানো এসব কারসাজির কারনে বেশ কিছুদিন তাকে এলাকায় দেখা যায়নি।

এমনকি তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য স্বজনরা প্রস্তুতি নিলেও নির্মিত তোরনগুলো ভেংগে ফেলা হয়। ভেস্তে যায় সংবর্ধনা। এভাবে তার দিন অতিবাহিত হওয়ার এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ পিএস বা প্রতিনিধি নিয়োগ দেন শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামকে। তারা আরও জানান, সেই পিএস এর নির্দেশনা ও জোগসাজসে এভাবে হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করে টাকাগুলো বিতরণের নামে তারাই লুটেপুটে নিয়েছে।

তাই এধরনের ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনকভাবে সরকারি অনুদানের অর্থ বিতরণকে ধিক্কার জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে সরকারি অর্থ বিতরণ করলে সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য এরকম দু’একটা লোকই যথেষ্ট।

এদিকে স্বজনপ্রীতি করে টাকা বিতরণের এ বিষয়ে জানার জন্য বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভীন এর নিকট ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।