কর্মস্থলে না এসেই ২৫ বছর বহাল তবিয়তে বদলগাছীর এক কলেজের পিয়ন

285
কর্মস্থলে না এসেই ২৫ বছর বহাল তবিয়তে বদলগাছীর এক কলেজের পিয়ন। ছবি-বুলবুল

সুপ্রভাত বগুড়া (বদলগাছী(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীর কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের পিয়ন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটন ২৫ বছর থেকে কর্মস্থলে না থেকেও চাকরীতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেন কলেজ অধ্যক্ষ নিজেই বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য টানা ছয় কর্মদিবস কলেজে গিয়েও অফিসের তালা কখনো খোলা পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে উপজেলার কোলা ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কোলা হাটের পূর্ব পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ। পিয়ন পদে চাকরী দেওয়ার শর্তে কলেজে জমি দান করেন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটন। তিনি কোলা সরকারপাড়ার ওয়ারেছ আলী সরকারের ছেলে। ১৯৯৫ সাল থেকে আজ অবধি কলেজে না এসেই বহাল তবিয়তে চাকরী করছেন তিনি। কিন্তু তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর রয়েছে নিয়মিত কর্মচারীদের মতোই।

২/৩ মাস পর পর এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে যান পিয়ন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটন। তার এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ছয় কর্মদিবস কলেজে গিয়ে না পেয়ে মোবাইলে কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের পিয়ন ওয়াহেদুল ইসলাম লিটনের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কলেজে আমরা জমি দান করেছি। আমার অনেক বড় বড় নেতার সাথে পরিচয় আছে। আপনার সাথে সামনাসামনি বসে কথা বলবো। কিন্তু ২৫ বছর থেকে কলেজে না গিয়েও কীভাবে চাকরী করছেন জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন-অর-রশিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কলেজে নিয়ম-শৃঙ্খলার কোনো বালাই নেই। পিয়ন কলেজে আসে না সেটা যেমন সত্য, পাশাপাশি এটাও সত্য যে অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন নিজেও ঠিকমতো কলেজ করেন না। কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা বিষয়ে ওনার সাথে আলোচনা করতে চাইলে তিনি কোনো কর্ণপাত করেন না।

কোলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আঙ্গুর বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লিটন পিয়ন পদের বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু ২৫ বছর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কলেজ অধ্যক্ষকে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয় না।

ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ঐ কলেজের সহকারী অধ্যাপক তানসেন হোসেন ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক শিক্ষক জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কীভাবে সম্ভব জানতে চাইলে তারা জানান, এটা প্রিন্সিপাল স্যার ভালো বলতে পারবেন।

এবিষয়ে কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। প্রতিহিংসামূলক কেউ এই অভিযোগ করেছে। একটানা ছয় কর্মদিবস কলেজে গিয়ে অফিস খোলা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

কোলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহা. আবু তাহির এ বিষয়ে বলেন, পিয়নের কর্মস্থলে না আসার বিষয়টি আমি শুনেছি। খুব শীঘ্রই তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।