কিছু অল্প আমলে বেশি নেকী

135
কিছু অল্প আমলে বেশি নেকী

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক

(১)কুরআনুল করীম তেলাওয়াত করাঃ- হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের সর্বোত্তম (নফল) ইবাদত হলো, কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করা। যে ব্যক্তি কুরআন মজীদের একটি হরফ (অক্ষর) পড়বে তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর সে একটি নেকী অন্য দশটি নেকীর সমান হবে। যেমনঃ আলিফলামমীম একটি হরফ নয় বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। (তিরমিযি) হাদিসে এটাও বর্ণিত আছে, কেয়ামতের ভয়াবহ দিনে কুরআন মজীদ নিজ তেলাওয়াতকারীর জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে এবং তার সুপারিশ কবুল করা হবে। (তিরমিযি)

(২)সূরা ফাতেহা পড়াঃ- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, সূরা ফাতেহা কুরআন মজীদের সূরা সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান। একবার এই সূরা পাঠ করলে দুই তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের সওয়াব পাওয়া যায়। অর্থাৎ সূরা ফাতেহা তিনবার পাঠ করলে দুই খতম কুরআন পাঠের সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যাবে। (কানযুল উম্মাল) কেহ যদি শেষ রাতে ৪১বার এই সূরা পাঠ করে তাহলে আল্লাহপাক পাঠকারীকে বিনা কষ্টে রুযি-রোযগারের ব্যবস্থা করে দিবেন। (আমালে কুরআনী)

(৩)আয়াতুল কুরসী পাঠ করাঃ- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি শীর্ষস্থান আছে আর কুরআনের শীর্ষস্থান হলো সূরা বাকারা এবং এতে এমন একটি আয়াত আছে যা সমস্ত আয়াতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর। আর সেটি হলো আয়াতুল কুরসী। (তিরমিযি) একবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করার সাওয়াব কুরআনের এক চতুর্থাংশ পাঠ করার সমান। (কানযুল উম্মাল) যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে সে ব্যক্তি পরবর্তী নামায পর্যন্ত আল্লাহর যিম্মায় থাকবে। অন্য বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে মৃত্যুর সাথে সাথেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তাবারানী)

(৪)সূরা ইখলাস পড়াঃ- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস একবার পড়বে, সে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তেলাওয়াতের সমúরিমাণ নেকী পাবে। অর্থাৎ ৩বার পাঠ করলে ১খতম কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের নেকী পাওয়া যাবে। (বুখারী) অন্য হাদিসে আছে, সূরা ইখলাসের সাথে মুহাব্বতকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই এ সূরা জান্নাতে পৌঁছে দিবে। (বুখারী)

(৫)সুবহানাল্লাহ বলাঃ- হযরত সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেহ কি একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে পারে? তখন এক সাহাবী নবীজি (সাঃ) কে বললেন, এক ব্যক্তি কিভাবে একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে পারে? মহানবী (সাঃ) বললেন, যে ব্যক্তি একশত বার সুবহানাল্লাহ বলবে, তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে এবং তার থেকে এক হাজার পাপ-গোনাহ মুছে ফেলা হবে। (মুসলিম)

(৬)এই দুটি কালেমা পড়াঃ- হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ২টি কালেমা এমন আছে, যাহা যবানে উচ্চারণ করতে সহজ, কেয়ামতের দিন ওজনের পাল্লায় খুব ভারী হবে এবং উহা করুণাময় আল্লাহর নিকটও অতি প্রিয়, কালেমা ২টি হচ্ছে, “সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম”। (বুখারী ও মুসলিম)

(৭)রোগী দেখতে যাওয়াঃ- হযরত আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো মুসলমান তার মুসলমান রোগী ভাইকে দেখতে যায় তখন সে বসা পর্যন্ত জান্নাতে সদ্য তোলা ফলের মাঝে চলাচল করতে থাকে। যখন সে রোগীর পাশে বসে পড়ে আল্লাহর রহমত তাকে বেষ্টন করে ফেলে, সময়টা যদি সকাল বেলা হয় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য রহমতের দুআ করতে থাকে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত, আর যদি সময়টা সন্ধ্যা বেলা হয় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য রহমতের দুআ করতে থাকে সকাল হওয়া পর্যন্ত। (তিরমিযি)

(৮)দরুদ পাঠ করাঃ- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। (মুসলিম) আরেক বর্ণনায় নবীজি (সাঃ) বলেন, পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান ফেরেশতা রয়েছেন, যারা উম্মতের পক্ষ থেকে প্রেরিত সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে দেন। (তিরমিযি)

(৯)সালাম দেওয়াঃ- রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, তোমরা ততক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা মুমিন হবে। আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত না তোমরা পরষ্পরকে ভালোবাসবে, আমি কি তোমাদরেকে এমন এক আমল শিখিয়ে দিব না যা কার্যকর করলে তোমরা পরষ্পর পরষ্পরকে ভালোবাসবে? আর তাহলো, তোমরা নিজেদের মাঝে সালামের বিস্তার সাধন কর, বেশি বেশি সালামের আদান প্রদান কর। (মুসলিম)