ক্ষেতলালে বৃষ্টির পানির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির! কৃষকের মাথায় হাত।

127

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলালের কৃষকরা অধীর অপেক্ষায় ভেবেছিল ভাদ্র মাসের শুরুতেই হয়তো বা অঝোরে ঝরবে প্রত্যাশিত বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় রোপাকৃত আমন ফসলের উঁচু মাঠ ফেঁটে চৌচির,ফলে কৃষকের মাথায় হাত । বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় না থেকে কৃষকরা সেচযন্ত্র দিয়ে আমন ফসল রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কেউ কেউ। কেবল কৃষকদের আর্শীবাদ বাদলের ধারা ঝড়ে ঝড়, আউশের ক্ষেত জলে ভর ভর, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আজ যেন শুধু রূপ কথার গল্প।

আকাশের বৃষ্টির অভাবে এবং প্রচন্ড রোদে খাঁ খাঁ করছে ক্ষেতলাল উপজেলার বিস্তীর্ন মাঠ। এ দিকে আমন ধানের চারা রোপনের সময় উচু জমিতে পুকুর, জলাশয়, খাল, বিল, নদী, নালা থেকে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলন করে কোন রকমে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছিল। এখন বৃষ্টির পানির অভাবে রোপাকৃত আমন ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়েছে। ফলে বর্তমানে ওই সব জমিতে প্রয়োজনীয় সার ও ওষুধ প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। উচু মাঠের কোথাও পানির দেখাও মিলছে না। তাই বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে পানির অভাব মোকাবেলায় কিছু কৃষক অবশেষে সেচযন্ত্র চালু করে আমন ফসল রক্ষার চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলাল উপজেলায় ১০হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে ১০হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আমন রোপা সম্পন্ন হয়েছে। তবে আরও উচু ভিটা জমি রয়েছে। ওইসব জমিতে পানির অভাবে আমন রোপন বিলম্বিত হচ্ছে। এছাড়া আগাম জাতের আমন বীজতলার উপযুক্ত সময় এক মাস পেরিয়ে যাওয়ায় থোর (গামোর) হচ্ছে। পানির অভাবে উচু ভিটা মাটির জমির বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার রোপাকৃত অধিকাংশ মাঠে পানি না থাকায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

কৃষিবিদদের মতে, আমন ধান রোপন করার পর থেকে শুরু করে ১৫-২১দিনের মধ্যে সার, ওষুধ এবং আগাছা দমনের জন্য বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু পানির অভাবে কৃষকরা তা করতে পারছে না।
কাঁচাকুল গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, ১৫ দিন আগে কিছু হালকা বৃষ্টির পানি দিয়ে প্রায় ৮ বিঘা জমি রোপন করেছি। বর্তমানে বৃষ্টির পানি না হওয়ায় ওইসব জমিতে সার ও কীটনাশক সহ আগাছা দমনের জন্য বালাইনাশক ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

হোপ গ্রামের কৃষক আঃ লতিফ বলেন, আকাশের বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি কিনে আমন ফসল চাষ করতে হচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমন ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। আবার সময়মতো রোপাকৃত আমন ধানে সার ও বালাইনাশক ওষুধ স্প্রে করা না হলে ফলনের বিপর্যয় দেখা দিবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, এবার ১০হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা অতিক্রম করেছে। তবে উচু জমি বৃষ্টির পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। ওইসব জমিতে বিভিন্নভাবে সেচ পাম্পের মাধ্যমে দ্রত আমন ধান রক্ষায় কৃষকদের সেচ কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশাকরি বৃষ্টি হলে এসব সমস্যা কেটে কৃষকরা আমন চাষে ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করবে।

 

এম রাসেল আহমেদ