খালেদা জিয়ার মাউল্ড হার্ট অ্যাটাক, অতি দ্রুত খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত

57
খালেদা জিয়ার মাউল্ড হার্ট অ্যাটাক, অতি দ্রুত খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত

অতি দ্রুত খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শনিবার দুপুরে জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ জানান, খালেদা জিয়ার মাউল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে এনজিওগ্রামের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোরও পরামর্শ দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

গত রাতে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে নেয়া হয় সিসিইউতে।

শনিবার সকালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বৈঠক করে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, হার্টের সমস্যার কারণে শ্বাসকষ্টের জটিলতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

২০২১ সালের এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলো খালেদা জিয়াকে। গত ৬ এপ্রিল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মাঝেমধ্যেই তার শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-এর ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ে তার মুক্তির মেয়াদ। সবশেষ গত মার্চ মাসে শর্ত অপরিবর্তিত রেখে আরো এক দফা তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ছিলেন। বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে- এ দুই শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া।