বগুড়ায় খুন হওয়ার ২ঘন্টার কমব্যবধানে খুনি গ্রেফতার !

700

হত্যার দায় স্বীকার নাহিদের-লুডু খেলার বাজির টাকা নিয়ে বিরোধ :

সুপ্রভাত বগুড়া (ওস,ওম দৌলত): বগুড়ার গাবতলী থানা সদরে প্রকাশ্যে খুন হওয়া মানিক হত্যার মুল ঘাতক বন্ধু নাহিদকে গাবতলী মডেল থানার পুলিশ ২ ঘন্টারকম সময়ের ব্যবধানে সফল অভিযানে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘাতক নাহিদকে বগুড়া মাটিডালী এলাকা হতে সন্ধ্যা পোনে ৭ টায় গ্রেফতার করা হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার গাবতলী সার্কেল সাবিনা ইয়াসমিন ও গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামানের প্লান পরিকল্পনা মোতাবেক খুনিকে ধরতে থানার সকল অফিসারদের বিভিন্নভাবে ভাগ করে অভিযান চালানো হয়। মোঃ নাহিদ মিয়া (২০) গাবতলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবেদালী মোল্লার ছেলে মোস্তফা মানিক (২২)কে খুন করে বাড়িতে গিয়ে টাকা নেয় ও পায়ের জুতা পরিবর্তন করে।

ঢাকায় যাওয়া উদ্দেশ্যে সে মাটিডালী এলাকায় একটি সিএনজিতে বসে ছিল। যাত্রী কম হওয়ায় সিএনজি ছাড়তে দেরী হওয়ায় গাবতলী মডেল থানা এএসআই মনিরুল ইসলাম, মোস্তাকিন ও রেজেক আলী নাহিদ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গাবতলী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি অপরেশন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাল মিয়া জানান, ৬ মে বিকেলে গাবতলী পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবেদালী মোল্লা (থানার পশ্চিম পার্শ্বে চা বিক্রেতা)’র ছেলে মোস্তফা মানিক (২২)’র সাথে একই গ্রামের শফিকুল বারী রিপন (যুবরাজ চা ষ্টলের) মালিক’র ছেলে নাহিদ মিয়া (২০)’র সাথে গাবতলী তিনমাথা মোড়ের পশ্চিমে একটি মার্কেটের নিচে মোবাইল ফোনে লুডু খেলার মাধ্যমে জুয়া খেলে।

প্রতিদিন নাহিদ হেরে গেলেও ঘটনার দিন নাহিদ লুডু জুয়া খেলায় ৫০টাকা বাজি জিতে। টাকা না দিয়ে মোস্তাফা মানিক খেলা ছেড়ে চলে আসতে চাইলে উভয়ের মধ্য তর্ক বি-তর্ক ও উভয়ের মধ্য হাতাহাতি হয়।

এক পর্যায়ে গাবতলী কেন্দ্রিয় মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে যুবরাজ চা ষ্টলের সামনে পাকা রাস্তার উপর নাহিদ মিয়ার কাছে পুর্বে থেকে রক্ষিত একটি ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে মানিকের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। নারী ভুড়ি বেরহয়ে মানিক সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যায়।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে মানিকের মৃত্যু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা লাল মিয়া আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ মানিককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

হত্যার কাজে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু তার দেখানো ফেলে দেয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, নিহত মোস্তফা মানিকের পিতা আবেদালী মোল্লা বাদী হয়ে নাহিদ মিয়াকে একমাত্র আসামী করে থানায় মামলা করেছে।

৭ মে নাহিদের জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। ২ ঘন্টার কমব্যবধানে গাবতলীতে প্রকাশ্যে মোস্তফা মানিক হত্যার আসামী নাহিদ মিয়া গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসী সার্কেল ছাবিনা ইয়াসমিন ও ওসি নুরুজ্জামানের সফলতার প্রসংসা করেছে।

এলাকাবাসী ওসি নুরুজ্জামানের প্রসংসা করে আরো বলেছেন, আপরাধীদের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর, তেমনী তাকে আরো তীর্ক্ষ ও দক্ষতার সাথে সাধারন মানুষের প্রতি হাস্যজ্জল ব্যবহারের মাধ্যম দায়িত্ব পালনের আহবান জানানো হয়েছে।