ঘাটাইলের ইউএনও অঞ্জন সরকারের মহানুভবতায় বেঁচে গেলো এক অজ্ঞাত মুমূর্ষু প্রতিবন্ধী !

97

সুপ্রভাত বগুড়া (আ: হামিদ, টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন সরকারের মহানুভবতায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মুমূর্ষু প্রতিবন্ধী লোকটি এখন সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।তার অবস্থা এখন আশংকামুক্ত বলে স্বাস্হকমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।

তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায় নি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান,লোকটা একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।দীর্ঘদিন অনাহারে থাকায় দূর্বলতায় পরে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছিলো। চিকিৎসা দেওয়ায় সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আজ দুপুরের দিকে সে অচেতন হয়ে পরে ছিল। পরবর্তীতে সংবাদটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী, পৌর মেয়র এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করে এ্যাম্বুলেন্স সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুমূর্ষু ওই রোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এই ঘটনাটি ঘাটাইলের জনসাধারণের মাঝে সর্বোপরি সচেতন মহলে ইউএনওর মানবিক কর্মকাণ্ডর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ তৈরি করেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা এগারটার পর থেকে ঘাটাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম এলাকায় রাস্তার ধারে হোটেল তাজমহলের পাশে একজন মানুষ অচেতন হয়ে পরে থাকতে দেখা যায়। অজ্ঞাত লোকটির অচেতন হয়ে পরে থাকার সংবাদে মুহূর্তেই জনগণের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।সাথে সাথেই খালি হয়ে হয়ে যায় বাসস্ট্যান্ড সহ আশপাশের পুরো এলাকা।

অনলাইন এক্টিভিষ্ট জাহান কলি ওই লোকটির অচেতন হয়ে পরে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘ঘাটাইলের কথা’র সদস্যরা বিষয়টি ফেসবুক লাইভে দেখান। সাথে সাথে সংবাদটি পৌঁছে যায় ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের কাছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনে শুরু হয় তোলপাড়। এর কিছুক্ষণ পরেই বেলা সোয়া দুইটার সময় ইউএনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা স্বাস্হ কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান। ইউএনওর অনুরোধে কিছুক্ষনের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এ্যাম্বুলেন্স সহকারে। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ্যাম্বুলেন্স যোগে প্রেরণ করা হয় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

এ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন ঘাটাইলের আপামর জনসাধারণ। করোনা আতঙ্কে কেউ যখন ওই অসুস্থ লোকটির সহায়তায় এগিয়ে আসছিলেন না, তখন দেবদূতের মতো আবির্ভূত হয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করলেন একজন মানুষ ইউএনও অঞ্জন সরকার। অল্প কিছুদিন ধরে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়া অঞ্জন কুমার এভাবেই নিজের কার্যক্রম দিয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের মনে যায়গা করে নিয়েছেন।

দেশের এই দূর্যোগের সময়ে তার এই মানবিকতা কে দৃষ্টান্ত হিসেবেই মনে করছেন ঘাটাইল উপজেলার সর্বসাধারণ। এ বিষয়ে ইউএনও অঞ্জন সরকার বলেন, ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার পাশে একজন মানুষের অচেতন হয়ে পরে থাকার সংবাদ পাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী, পৌর মেয়র এবং স্বেচ্ছাসেবক ভাইদের মাধ্যমে।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করে এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বলে আমি কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক সহ ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করতে থাকি এম্বুলেন্সের জন্য। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন।

অতঃপর মুমূর্ষু ব্যাক্তিকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য দু-তিন জন ব্যক্তির সহায়তা কামনা করায় এগিয়ে আসে হাসপাতালের একজন স্টাফ, একজন স্বেচ্ছাসেবক এবং অন্যজন ছাত্রলীগ কর্মী।তাদের সহায়তায় মুমূর্ষু ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর আশেপাশে সেই দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় থাকা শত শত উৎসুক জনতা ছবি তুলতে ও ভিডিও করার কাজেই ব্যাস্ত ছিল।সে সময় কেউ এক ফোটা পানি নিয়েও এগিয়ে আসেনি!এটাই চরম বাস্তবতা।

তিনি আরও বলেন, একজন মুমূর্ষু ব্যাক্তির পাশে আপনি আসবেন না, কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁর পাশে সহমর্মিতার হাত না বাড়িয়ে তাঁকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করবেন, করোনা (COVID-19) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করলে তাঁকে দাফন করতেও যাবেন না। কিন্তু আপনি এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জারীকৃত বিধিনিষেধ অমান্য করতেও আপনার বিবেকবোধ কাজ করেনা।

ক্ষোভের সাথে তিনি আরও বলেন, মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করার চেয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করা অনেক কঠিন কাজ। এ সময় তিনি পৌর মেয়র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী ভাইদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহোদয়কে জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে অসহায় মুমূর্ষু ব্যাক্তির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগ কর্মীর প্রতি, অসহায় মানুষের পাশে নিঃসংকোচে হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।