ঘুরে দেখা নাটোরের রাজবাড়ি ও রাজপরিবারের ইতি কথা

237
ঘুরে দেখা নাটোরের রাজবাড়ি ও রাজপরিবারের ইতি কথা

নাটোরের রাজবাড়ির নাম কমবেশি সবারই জানার কথা।প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কেন্দ্র ভূমি নাটোর জেলা।নাটোর জেলার অনেক নিদর্শন গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাণী ভবানী স্মৃতি বিজরিত নাটোর রাজবাড়ী।

ঐতিহাসিকদের মতে অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে নাটোর রাজ বংশের উৎপত্তি হয়।উত্তরবঙ্গের জমিদার গনের মধ্যে নাটোর রাজ পরিবার বংশ মান-মর্যাদা জনহিতকর কাজে ও বিষয় সম্পত্তিতে অগ্রগন্য ছিলেন।

ঐতিহাসিকদের মতে ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে পনগনা বানগাছির বিখ্যাত গনেশরাম রায় ও ভবানী চরন চৌধুরীর রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় জমিদারীচুত্য হন।দেওয়ান রঘুনন্দর উক্ত পরগনা নিজ ভ্রাতা রামজীবনের নামে বন্দোবস্ত দেন।

এভাবেই নাটোর রাজ বংশের পত্তন হয়।রাজা রামজীবন নাটোর রাজবংশের প্রথম রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৭০৬ মতান্তরে ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে।তারপর ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন এবং সে বছরেই মারা মৃত্যুবরণ করেন। রাজা রামজীবনের মৃত্যুর পর তার দত্তক পুত্র রাম কান্ত নাটোরে রাজা হন।

বর্তমানে নাটোরে রাজবাড়ীটি শহরের কেন্দ্রস্থলে কিংবন্তীর কাহিনী ও স্মৃতিবিজড়িত হয়ে আছে।এলাকাটির মোট আয়তন ১২০ একর।তৎকালীন সময় নিরাপত্তার জন্য দুটি  স্তরে পানি বেষ্ঠিত গভীর লেক রয়েছে। এছাড়াও ৫টি বড় আকারের পুকুর রয়েছে। রাজবাড়ি পুরো এলাকা টি দুটি অংশে বিভক্ত।

একটি ছোট তরফ অন্যটি বড় তরফ।জমিদার আমলের ছোট বড় প্রায় ৭ থেকে ৮টি ভবন আছে।রাজবাড়ি অভ্যন্তরে তিনটি মন্দির (কালি মন্দির, শ্যাম সুন্দর মন্দির,ও শিব মন্দির) রাজবাড়ির জলবেষ্টিত পরিখা, পুকুর, গাছপালা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণ পিয়াসু মানুষ দের জন্য এক মনোরম জায়গা।