জানেন কি, পারিবারিক চিকিৎসায় ২-৫ দিনেই করোনা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব !

সুপ্রভাত বগুড়া (স্বাস্থ্য কণিকা): করোনা ভাইরাস নিয়ে হতাশ বা আতংকিত হওয়ার কোন কারন নেই, আপনি ঘরে বসেই ২ থেকে ৫ দিনে সুস্থ হতে পারবেন। আসুন জেনে নেয়া যাক বাড়িতে বসেই পারিবারিক চিকিৎসায় কিভাবে করোনা থেকে মুক্ত হওয়াযায়।

সর্দি জ্বর, গলা ব্যথা বা কাশি যাই হউক, নিয়ে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসাঃ

১) আদা, লেবু, তেজপাতা, এলাচি, লং, দাড়চিনি একটি পরিস্কার পাত্রে পানিতে ১৫ মিনিট ফুটাতে থাকুন। সাথে আস্তা লেবু ২টা।

২) ফুটানো চলাকালে নিরাপদ দূরত্বে থেকে কমপক্ষে ৫ মিনিট গরম বাষ্পনাক দিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে মুখ দিয়ে বের করতে হবে। দৈনিক এভাবে ৪ থেকে ৫ বার গ্রহন করুন।

৩) তারপর এই ফুটন্ত আদা, লেবু, তেজপাতা ইত্যাদির মিক্স গরম পানি চায়ের মতো করে ১ ঘন্টা পরপর পান করতে থাকুন।

৪) সাথে খেতে পারেন নাপা এক্সটেন্ড জাতীয় ঔষধ।

৫) ফুসফুসকে ভাল রাখার জন্য বাসায় বা বাসার বারান্দায় বসে মুক্ত বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম করুন কমপক্ষে দৈনিক দুবার। নাক দিয়ে লম্বা নিশ্বাস গ্রহন করুন যতোবেশী নিতে পারেন নিন তারপর যতোক্ষণ আটকিয়ে রাখতে পারেন রাখুন। তারপর আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। এভাবে ১০ বার করুন।

৬) প্লেটে আদা কেটে সামান্য লবন দিয়ে রাখুন। মুখে দিন একটু পরপর।

৭) আধা ঘন্টা পর পর গরম চা, গরম দুধ, কফি, গ্রিন টি পান করুন। গলা কোনভাবেই শুষ্ক রাখা যাবেনা।

আপনি বাঁচবেন কি বাঁচবেন না, আপনার ‘কী রোগ হলো’ ভুলেও এসব ভাবনা মাথায় প্রশ্রয় দিবেন না। মনে রাখবেন, আসল কথা হচ্ছে মনোবল।

বনের বাঘে খায়না মনের বাঘে খায়। মনোবল হারালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই আপনার যা ভালো লাগে তাই করবেন মনোবল চাংগা রাখার জন্যে।

উপরোক্ত পদ্ধতিতে আপনি ২ থেকে ৫ দিন চিকিৎসা নিলে এটা পরীক্ষিত সত্য যে তৃতীয় দিনের দিন আপনার করোনাভাইরাস নেগেটিভ হতে বাধ্য। ইনশাআল্লাহ।

ঘরে বসে চিকিৎসা নেবার ক্ষেত্রে মনে রাখুন আরও কিছু বিষয়:

১. নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন

যদি সন্দেহ হয় যে আপনার মধ্যে কোভিড-১৯-এর এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন বা আইসোলেট করুন। এতে করে অন্যদের মাঝে সংক্রমণের আশংকা কমে আসবে।

২. জ্বর আসলে কী করবেন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থামানোর যেহেতু কোন ঔষধ নেই সেজন্য সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে যে ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয় সেগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ঢাকার বক্ষব্যধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, প্যারাসিটামল খাওয়া এবং গার্গল করা করা যেতে পারে। জ্বর এলেই আতঙ্কিত না হাবার পরামর্শ দিচ্ছেন মি. বেন্নুর। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

৩. কফ থাকলে যা করবেন

যদি আপনার কফ জমে থাকে বসার সময় পিঠে ভর দিয়ে হেলান দিয়ে না বাসাই ভালো। মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। এতে কফ কিছুটা হালকা হয়ে আসতে পারে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে আরো বলা হয়েছে, কফ হালকা করার জন্য এক চামচ মধু খেতে পারেন। এতে উপকার হতে পারে। তবে বারো বছর বয়সের নিচে বাচ্চাদের মধু দেবেন না।

৪. টেস্ট সেন্টারের ফোন নম্বর রাখুন

বাংলাদেশে এখন ৪৫টির মেতো ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের টেস্ট করানো হচ্ছে। আপনার নিকটস্থ টেস্ট সেন্টার কোথায় হতে পারে সে সংক্রান্ত খোঁজ রাখুন। এখন কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাসায় গিয়ে নুমনা সংগ্রহ করছে। তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

৫. অক্সিজেন ভাড়া নিতে পারেন

শ্বাসকষ্ট হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটোছুটি করতে করতে রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হয়। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় অক্সিজেন নিতে পারেন।

ঢাকার বক্ষব্যধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, “অক্সিজেন বাসায় নেবার সিস্টেম আছে। আমরা যখন লং টাইম অক্সিজেন থেরাপি দেই, আমরা কখন অক্সিজেন বাসায় নিতে বলি রোগীদের।” তিনি বলেন, কোভিড১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে হাই ফ্লো অক্সিজেন দিতে হবে।

৬. টেলিমেডিসিন সম্পর্কে জেনে রাখুন

করোনা সংক্রমনের এই সময়টিতে অনেক চিকিৎসক রোগীদের সরাসরি দেখছেন না। অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বারও বন্ধ। তবে গত দুইমাসে বহু ডাক্তার টেলিফোন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। বেশকিছু সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডাক্তারদের মাধ্যমে টেলিফোনে অথবা ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরণের সুবিধা দিচ্ছে তাদের ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখতে পারেন। টেলিফোন নম্বর জানা থাকলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত কাজে লাগবে। চিকিৎসক সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে তিনি ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগে ক্ষেত্রে রোগীদের উদ্বেগ প্রশমনেও ভূমিকা রাখে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা।

তাই আসুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সুস্থ্য জীবনের লক্ষ্যে স্বপরিবারে করোনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে গেলে সামাজিক দুুরত্ব বড়ায় রাখি, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস ব্যবহার করি ও স্বাস্থ্য উপকরণ সাথে রাখি।

নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই মহামারি থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারের প্রতিটি মানুষকে নিরাপদ রাখি।

Related Posts

নতুন উদ্যোগে সফলতা কি আসতে পারে?

২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর…

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে যে বার্তা দিলেন অভিভাবকরা

রমজান, ঈদ ও বৈশাখের টানা ২৬ দিনের ছুটি কাটিয়ে রোববার (২১ এপ্রিল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ছুটি আরও বাড়ানোর…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You Missed

বগুড়ার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘ব্রাজিল’ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

বগুড়ার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘ব্রাজিল’ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রাজিল খুন

বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রাজিল খুন

বগুড়ায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী,পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী,পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় দিনে-দুপুরে ফিল্মী স্টাইলে দুর্ধর্ষ চুরি, থানায় অভিযোগ !  

বগুড়ায় দিনে-দুপুরে ফিল্মী স্টাইলে দুর্ধর্ষ চুরি, থানায় অভিযোগ !  

বগুড়া সদর উপজেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বগুড়া সদর উপজেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নারীদের ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম আসর শুরু হবে ২০২৬ সালে

নারীদের ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম আসর শুরু হবে ২০২৬ সালে