ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরী হচ্ছে  খেজুরের গুড়; চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে না গুড়

317
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরী হচ্ছে  খেজুরের গুড়; চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে না গুড়। ছবি-আলমগীর

সুপ্রভাত বগুড়া (আলমগীর, ঠাকুরগাঁও): ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুুকুর এলাকায়
সুগার মিলের খেজুর বাগানের গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে  প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছিরা তৈরী করছে গুড়। ইতিমধ্যে খেজুরের রস ও রস দিয়ে তৈরীকৃত গুড় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ। প্রাকৃতিক পরিবেশে গুড় তৈরীর দৃশ্য দেখতে, রস ও গুড় নিতে স্থানীয়রা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শত শত ক্রেতা
ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এখানে। রসের স্বল্পতার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী  পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে না গুড়।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মোহন ইক্ষু খামারের পার্শ্বে খেজুর বাগানটি মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রাজশাহী জেলা থেকে ৭ জন গাছি ২২ হাজার টাকায় লিজ নেয়। সর্ব সাকুল্লে গাছিরা বাগানে খরচ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাগনে মোট ৬’শ খেজুর গাছের মধ্যে প্রতিদিন ৪’শ গাছ থেকে গড়ে ৫’শ লিটার রস সংগ্রহ করা হয়। এতে গড়ে ৮০ কেজি করে গুড় তৈরী হচ্ছে। গুড় ও রস বিক্রয় করে গাছিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

গাছি সুজন আলী জানান, প্রাকৃতিকভাবে ও নির্ভেজাল গুড় তৈরী করায় এখানকার গুড় ও রসের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তাদেরকে বাজারে নিয়ে গুড় বিক্রয় করার প্রয়োজন হয় না। সরজমিনেই এসে ক্রেতারা রস ও গুড় ক্রয় করে নিয়ে যায়। অনেকে একসপ্তাহ আগেই রস ও গুড় নেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখলেও তাদের আমরা ঠিকভাবে রস ও গুড় দিতে পারছি না। গাছ থেকে রস কম উৎপাদন হওয়ার কারণে
ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সুজন আলী আরও জানান, এখানে খেজুর গাছ গুলোর ঠিকভাবে পরিচর্যা ও গাছ  প্রতি এক কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে গাছ গুলো মোটা তাজা হবে। আর গাছ মোটা তাজা হলে রস বের হবে বেশি। তখন অনেকাংশে রস ও গুড়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এখানে এক লিটার খেজুর রস ৫০ টাকা দরে ও এক কেজি গুড় ১’শ ৫০ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে।

বাগানে খেজুরের রস ও গুড় কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রাকৃতিকভাবে ও ভেজাল মুক্ত হওয়ায় এখানকার রস ও গুড় অনেক সু-স্বাদু তাই এর চাহিদা অনেক বেশি। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে আগত এক ক্রেতা জানান, এখানে সকাল সাতটায়  এসেও তিনি রস ও গুড় নিতে পারেন নি। তিনি আসার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে।

তার মতো অনেকেই এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। পঞ্চগড় জেলা থেকে আগত একদল তরুণ জানান, পঞ্চগড় থেকে ভোর ৬ টায় বাইক নিয়ে রওনা দেন তারা খেজুরের রস খাওয়ার জন্য। এখানে এসে খব কষ্টসাধ্যে দুই হাড়ি রস ৭’শ টাকায় ক্রয় করে খান। তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী রস খেতে না
পারলেও বাগানের পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করেছে।

অন্যদিকে শীতকে উপেক্ষা করে পরিবারের শিশু ও বড়দের সাথে নিয়ে স্বপরিবারে প্রাকৃতিকভাবে খেজুরের গুড় তৈরির দৃশ্য দেখতে অনেক দুর-দূরান্ত থেকে মাইক্রো ও মোটরসাইকেল যোগে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। এমনি কয়েকজন  র্দর্শর্নার্থী জানান, এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। এখানে
স্বানন্দে প্রাকৃতিকভাবে গুড় তৈরির দৃশ্য উপভোগ করছেন এবং রস ও গুড় ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারি ও প্রশাসনিকভাবে যদি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তাহলে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটি ভালো অবস্থান তৈরি হবে।

এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুরের রস হচ্ছে না। ভবিষত্যে যাতে চাহিদা অনুযায়ী রস ও গুড় উৎপাদন করা যায় এবং গাছ পরিচর্যার ও গাছিদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ, খেজুর বাগন মালিক ও কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হয়েছে। কীভাবে রস ও গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি আগামীতে চাহিদা অনুযায়ী গুড় উৎপাদন করা যাবে।