ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ায় হয়রানির শিকার বাদী পরিবার !

27
ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ায় হয়রানির শিকার বাদী পরিবার ! ছবি-আলমগীর

সুপ্রভাত বগুড়া (আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি): ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা দক্ষিণ ঝাঁড়গাও দেবিডাঙ্গা নামক এলাকায় এরশাদ হত্যা মামলা দায়ের করায় বিভিন্ন ভাবে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের হয়রানির শিকার হচ্ছে মর্মে অভিযোগ করেছে স্ত্রীসহ তার পরিবার।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর ২০১৫, এরশাদ আলী প্রতিপক্ষের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হলে গত ০৪/১২/১৫ তারিখে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেওয়া বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং-০১।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, এরশাদ হত্যার পর থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে দিন দিন সংঘাত বেড়েই চলছে। আরো জানা যায় নিহতের ভাই আমজাদ হোসেনের পরিবারের নিকট পুলিশ মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবরও এক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে আরো জানা যায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রুহিয়া থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করার কারণে প্রতিপক্ষরা তাদের নিজে ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে এবং পুলিশকে ম্যানজ করে গত ০৬/১১/২০১৬ তারিখে রুহিয়া থানা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং-০১।

শুধু তাই নয় গত ২৫/০২/২০১৯ তারিখে আমজাদ হোসেনসহ তার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পতি ভাবে হত্যা মামলার আসামীগণ মিলে মোস্তাক আলী নিজের মেয়েকে নিজেরাই এসিড নিক্ষেপ করে আমজাদ আলীর বিরুদ্ধে ২০০০ সালের এসিড অপরাধ দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এদিকে এরশাদ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত প্রভাবশালী আসামী বাবুল ইসলাম স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরে বেরাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছেন না। আমজাদ হোসেন জানান, আমার ভাই হত্যার মামলা দায়ের করার পর থেকেই পুলিশ ও প্রতিপক্ষেরশোলা পরামর্শে আমাকে নানা ভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাকে ও আমার পরিবারকে নি:স্ব করার ষড়যন্ত্র চলছে।

এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আমজাদ হোসেন জানান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ সদস্য জনাব রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে একাধিক বার মৌখিক নালিশ করার পরও কোন বিহিত ব্যবস্থা গৃহিত হয়নি।হোটেল ব্যাবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক জানান, আমাকে এসিড মামলার স্বাক্ষী বানানো হয়েছে কিন্তু এসিড নিক্ষেপ বিষয়ে আমি স্বচক্ষে কিছুই দেখিনি। এলাকার সার ব্যবসায়ী একরামুল হকের একই ভাষ্য।

এ বিষয়ে জানতে রুহিয়া থানার ওসি চিত্র রঞ্জন রায়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামী গ্রেফতার বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না। তবে বাদীরা বেশী খোঁচাখোঁচি করলে আসামীরা পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া এস.আই আবু বক্কর সিদ্দিকের মোটা টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।