ত্যাগ

225
ত্যাগ-এম রাসেল আহমেদ

এম রাসেল আহমেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (প্রচ্ছদ): এস. এস. সি লেভেলে যখন পড়তাম তখন একটা হাদিস পড়েছিলাম কৌতুক অধ্যায়ে তা হলো “আল হাক্কু মাজাহ্” অর্থ সত্য কৌতুক বৈধ্য। তাই সত্য বলেই মানুষকে আনন্দ দিতাম। কেউ বুঝতোনা আমায় আমার ভেতরেও একটা মানুষ আছে, সবাই বলে আমার নাকি অসুখ নাই। যে মানুষ নিজেকে দিয়ে অনন্যের মুখে হাসি ফুটায় তার কিন্তু হাসি থাকেনা।

যেমন, নিজেদের পিতা মাতাদের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।নিজেদের পোষাক- আশাক আর পিতা মাতার পোষাক -আশাক একেবারে ভিন্ন । আরো যদি বলি শেষ হবেনা। এসি ঘর ঠান্ডা রাখে কিন্তু এসির বাহিবে আগুন জ্বলে। বাড়িতে থাকা ফ্রিজের দিকে একার লক্ষ্য করুন। তাই একজনের খুসির পেছনে অপর জনের কষ্ট।

কেউ ত্যাগ করে বলেই অন্য কেউ ভোগ করে। তবে ভোগে সুখ নাই সুখ আছে ত্যাগে। তবে স্বেচ্ছায় কেউ ত্যাগ করেনা। আমার একটা মেয়ে আছে আমার জীবন সে। তাই ত্যাগেরও একটা সুখ আছে, এই সুখ কেউ খুজে পায়না। আমিতো জুতা কেনার টাকা পাইনা কিন্তু আমার মেয়ের কসমেটিক্সের শেষ নেই। এভাবে বললে অনেক বলা হবে, নাইবা বললাম।

তবে কেউ বলতে পারে আমি ও আমার পিতা মাতার থেকে অনেক খসিয়েছি, কিন্তু না। আমি সে ধরনের সুযোগ পাইনি, তবে যে সুযোগ পেয়েছি তার জন্য পিতা মাতার কাছে অনেক শুকরিয়া। বাবার নিজের বলতে আমরা ছাড়া কেউ ছিলোনা, পরিবারের খাবার জোগাতেই সে হিমশিম তবুও থেমে যেত না আজো সেই আগের উদ্যোমে কাজ করে।

তাই তাকে বুঝাতে আমিও তার সাথে কাজ করি যাতে সে বুঝতে পারে আমি বেকার নই। আসলে সবাই চিন্তা করে পড়া-শুনা করে যে তা শেষ করে চাকরি করবে কিন্তু আমি বরাবর আলাদা। আমাকে দুনিয়া জানতে হবে,শিখতে হবে সব কিছু। শিক্ষার শেষ নেই। যতই পড়ছি ততোই মনে হচ্ছে আমার জ্ঞান কমে যাচ্ছে।তাই আফসেট থাকি কবে শিখতে পারব, জানতে পারব?

আল্লাহর রাসুল (সঃ) আমাদের জন্য তার জীবনে এতো ত্যাগ করেছিলেন বলেই আমরা সুপথ দেখতে পারি। তার থেকেই শিখেছি ধর্য্য ধরা, ত্যাগ করা। মা-বাবা কাজের ফাকে আমার জন্য সময় দিয়েছে, স্কুল মাদ্রাসায় পড়িয়েছে। মা কখনো পড়ার জন্য চাপ দিতোনা শুধু বলতো তোর বাবার সাথের লোকেরা ভ্যান চালায়, তোর যদি সেটা করতে ইচ্ছা হয় তবে পড়তে হবেনা।

আমি কোন কথা না বলে পড়েই যেতাম । ভাবতাম ভ্যান চালানো খুব কঠিন কাজ, আমার বাবা কোনদিন ভ্যান চালাতে পারতোনা। আমি খুব যে পড়তাম তা না, সারাদিন এটা ওটা করেই বেড়াতাম, তবে ক্লাশ রোল ১ না হলেও ২-৩-৪ থাকতোই। তবে ইন্টারমিডিয়েটে ১ ছিল। এভাবে পিতা মাতার দেওয়া সুযোগে পড়া শুনা শেষ করতে সক্ষম হই।

জীবনে অনেক দুষ্ট ছিলাম কিন্তু লোকে জানতো না। কারন দুঃখের পরেই সুখ আসে। আমি দুঃখ হলেই হাল ছেড়ে দিতাম না। ভাবতাম আজ দুঃখ,কষ্ট কিন্তু আল্লাহ বলেছে দুঃখের পরেই সুখ ( সুরা দোহা) তাই অপেক্ষা করতাম কখন আসবে সেই সুখ। ঠিক সুখ হাজির হতো। একজনে দুনিয়াই সব আছে যেমন বাবা,মা,ভাই,বোন এমনকি সফল জীবন সঙ্গী। তিনি জীবন পরিচালনার জন্য সব তৈরী করেছেন । জীবনে বেচে থাকতে টাকা বা খাবারের অভাবে মরবেনা।

তার জীবনে সামান্য একটা ঝড় আসে এই ঝড় সে সামলাতে পারছেনা। বলে আমার অতীত এতো ভাল ছিল এমন কেন হলো? আমি আর এ জীবন রাখবনা।একবার তার কথা ভাবুন! তার পাশে থাকলাম, কথা দিয়ে তার আত্মহত্যা ঠেকালাম। সে আমার উপর নির্ভশীল হতে থাকে আমি তাকে পথ উল্টে আল্লাহর উপর ভরসা করা শিখাতে থাকি। তাকে বুঝাতে আমার ছয় মাস চলে গেছে। তার জন্য আলাদা করে পড়া-শুনা করতে হয়েছে ,এমফিল,পিএইডি করলাম একজনের সাথে সহকারী হিসাবে। কিভাবে ধর্য্য ধরা যায় ,ত্যাগ করা যায়।

নিজেই দায়িত্ব নিতে লাগি পরিবারের, কোন চাকরি করিনা, অবৈধ্য পথে রোজগার করিনা, কঠোর পরিশ্রম করতে লাগলাম। কারন বাবা মা হতাশ হতে পারে, সব ছেলে মেয়েরা অনেক কিছু করছে পড়া শুনা করে কিন্তু আমি কি করে খাব? তাই বাবার কাজ ভাগ করে দেখাই যে আমিও পারি। সংসারের ৯ জনের দায়িত্ব, বাজার সহ সকল ধরনের আর্থিক দিক আমাকে দেখতে হবে। যৌথ পরিবার বলে কথা। বাকিরা যে যার মতো নিজের আখের গোছাতে থাকে কিন্তু আমি জানতোম এ সম্পদ স্থায়ী নয়। নিজের মনের সুখ বড় সুখ। কিন্তু তাতেও সুখের মাঝে দুঃখ।

পরিবারের কথা মতো অচেনা একটা মেয়েকে বিয়ে করে দেই, যাতে পরিবারের সবাই একসাথে থাকতে পারি।কিন্তু তারা আজ আমাকে অনেক দায়িত্বের মধ্যে রেখে আলাদা করে নিজেদেও মতো আলাদা হচ্ছে। আমার কোন দুঃখ নেই। তারা যে সুখের আশায় চলে যাচ্ছে সে সুখ তাদের কখনো আসবেনা।

আমরা নগদ সুখ ভুলে বাকি সুখের পেছনে ছুটি বলেই অসুখ।নগদ সুখ নিজেদের পরিবারের সাথে একত্রে বাচা কিন্তু তা না করে আলাদা বাচতে চায়,তাই সমস্ত জ্বালা তাদের উপর আছড়ে পড়ে। পিতা মাতা দুনিয়ায় জান্নাত, সেটা ভুলে যায় সুখের আশায় কিন্তু সে সুখ তাদের জীবনে কখনো আসবেনা। জীবনে ত্যাগী হলে অবশ্যই সুখ আসবে। অন্যভাবে যদি বলি তা হবে এভাবে।

লোকে জানলে সমস্যা হবে, আমার থেকে বেশী হবে আমার পরিবারের তার থেকে আরো দেশী হবে যে লাইনে পড়াশুনা করি।প্রতিটা মানুষের মধ্যে একেক রকম বৈশিষ্ট থাকে বলে আমি মনে করি আর আমার একার মধ্যে অনেকের বৈশিষ্ট বিরাজমান। অন্যের সুখ নিজের সুখ না মনে করলেও অন্যের দুঃখ সব সময় নিজের মনে করতাম। আমার থেকে কেউ কিছু চেয়েছে পায়নি এরম রেকর্ড নাই। গুরুজনদের মুখে শোনা কথা নিজের ব্যবহাকৃত জিনিষ কেউ চাইলে তা না দিলে নাকি তার জন্য জান্নাত হারাম।

আমি নিজের অনেক জিনিষ মানুষকে দিয়েছি চাওয়া মাত্র কিন্তু ঠিক ঠাক ফেরৎ পাইনি কোনদিন। একদিন কিছু ছেলে আমার কাছে কিছু চাইবে বলে ঠিক করলো, এদের মধ্যে একজন বলল রাসেল ভাইয়ের কাছে কিছু চাইলে না করেনা। সেই বিশ্বাসে তারা আমার কাছে চেয়ে বসলো আমার নিজের পছন্দের মানুষ, যাকে ভালোবাসি আমি। যার সাথে বাকি জীবন কাটাবো বলে ঠিক করেছিলাম,কিন্তু তার ব্যাপারে জানতাম না যাকে ভালোবাসি। সেকি আমার ব্যপারে তাই ভাবে কি না জানিনা।

শুধু এই জানি পরিবারের লোকজন ভালো। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ি তখকার কথা বলছি। যেখানে পড়া শুনা করতাম সেখানে আমার প্রভাব ছিলো বলার মতো, ছোট থেকে বড় এমন কেউ নাই যারা আমার কথা ফেলতো। সেই বিশ্বাস অক্ষুন্ন রাখতে কখনো অন্যায় করতাম না। আমাদের নিচের ব্যাচে কয়েকজন ছেলে মেয়ে ভর্তি হয় তারা শুনেছি পড়া শুনা ভালোই করে। তার মধ্যে একজন মেয়ে ছিলো যে দেখতে অনেক সুন্দর ছিলো। সুন্দরীদের প্রতি সবার টান থাকে এ নতুন কিছু নয় দেখলাম ছোট ভাইকি আর বড় ভাইকি সবাই বলাবলি করছে সেই মেয়ের ব্যপারে।

কেউ বলছে তার সাথে সম্পর্ক আছে একটা ছেলের। যাইহোক আমার তাতে কি ,আমিতো পড়া শুনা নিয়ে অনেক ব্যস্ত। আমার আগের বড় ভাইয়েরা (বিজ্ঞানে পড়তো যারা) সবাই ফেল করে প্রতিষ্ঠানের সন্মান ডুবায় আর সেই চাপ আসে আমাদের উপর। আমি বিজ্ঞানে পড়তাম, অনেক চাপের পড়া শুনা তাই প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থাকতাম। সেই মেয়েটির কথা সব জায়গায় শুনতে পাচ্ছি,আমার ধ্যান ধারনা তার প্রতি চলে গেল। তাই ভাবলাম যদি তার উপকারে আসতে পারি কিনা?

একটু খোজ নিলাম তার সমন্ধে, বিস্তারির খবর জানতে আমার এক বান্ধবীর সুমার (ছদ্ম নাম) সাহায্যে তার কাছে আসতে সক্ষম হই। তার সন্মানের কথা ভেবে তাকে চিঠি লিখলাম। চিঠিতে বিস্তারিত লিখা ছিলো তার উত্তরে সে চিঠি না দিয়ে সেই বান্ধবীকে সমস্ত কথার উত্তর বলে যেন আমি শুনতে পাই। আমাকে শোনার জন্য সে ডাকলে আমি তার বাসায় যাই এক বন্ধুকে নিয়ে। তার মুখের কথা শুনে বাসার বাইরে আসতেই দেখি সেই মেয়েটি, এ বাসার দিকেই আসছে।

আমাকে দেখা মাত্রই পেছনে দৌরে পালায় সে, বান্ধবী চিল্লাতে থাকে, তাকে ডাকে, কিন্তু সে এতোক্ষনে তার বাসায় পৌছেছে। আমার উত্তরে তার জবাব একেবারে হ্যাঁ ছিলনা তবে আমায় নিয়ে ভাবে তা লক্ষ করলাম। যাইহোক , আমাকে নিয়ে ভাববার একটা মেয়েতো পেলাম। বান্ধবীর মাধ্যমে একটু ফ্রি হয়ে নিলাম এর পর প্রচার করে দিলাম এই মেয়টিকে আমি …. করে নিলাম।

প্রচার হয়ে গেল, শিক্ষকের চোখরাঙ্গানী খেলাম। এক শিক্ষক বলেই বসল, তোমার থেকে আমি এটা আশা করিনি। আরেক শিক্ষক বলে তুমি দুষ্ট হয়ে গেল। ভাবলাম স্যারকে সব খুলেই বলব কিন্তু তার আগে সেই জুনিয়র ভাইয়েরা আমার থেকে আলাদা হতে থাকে। আমি তাদের মধ্যে আমার স্পাই সেট করলাম। জানতে পারলাম সেই মেয়েটিকে ভালোবাসে তাদের মধ্যে একজন। জানতে চাইলাম মেয়েটি কি তাকে ভালোবাসে? সে বলে না। আসলে ছেলেটির একটা দোষ মেয়েটি জানে তাই এই ব্যপারে নিশ্চিত হলাম।

প্রেমের নমুনেশন পেপার জমা দিলাম এখনো সিলেক্ট হইনি এরই মধ্যে আমার বন্ধুরা তাদের দলে যোগ দিল। আমার সমস্ত ইমোশন শেয়ার করে তাদের মধ্যে। মেয়েটিকে তার বন্ধুরা বিভিন্ন ভাবে ব্রেন ওয়াশ করতে থাকে, সাথে পারিবারিক হুমকি। মেয়েটি আমার সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। আমি একশনে যাব সেই কথা বন্ধুরা আগেই লিক করে দেয়। বন্ধুরা চাইতোনা কোন মেয়ে আমার প্রেমে পড়ুক, কারন কোন মেয়ে কোনদিন তারা পটাতে পারেনি, এখনো পারেনি।

আমি রুমের বাইরে টেবিল সেট করে পড়ছিলাম। স্পাই খবর দেয় যে সুচনাকে ( মেয়েটির ছদ্ম নাম) আপনার থেকে চাইবে, কিন্তু আপনি দিবেন না। বললাম কথা কি সত্য? সে বলে হ্যাঁ ভাই। আমার হার্ড কাপতে থাকে দুর্বল হয়ে যায় শরীর, মনে সাহস নিয়ে বললাম তাদের আসতে বল আমার কাছে। তারা আমাকে ভয়ের সাথে সাথে সন্মান করতো তাই রাগ না করে চুপ থাকলাম। দেখলাম সেখানে আমার বন্ধুরাই তাদের সাহায্য করছে সুচনাকে তাদের হতে। বন্ধুদের কিছু বললাম না, চিনলাম কাদের নিয়ে লড়াই করব আমি! কে আমার দুঃখ বুঝবে? খুব ভালোবেসে ফেলেছিলাম সুচনাকে।

সবাই সবার মতো কথা বলছে ,আমাকে কেউ আর সন্মান করছেনা মনে হচ্ছে, চুপচাপ না থেকে বললাম কার কি বলার আছে আমার কাছে এসে বল। সবাই ভয়ে কাপছে, কেউ সামনে আসছেনা। বন্ধুরা মুনাফিক, তাই তারা মুখ লকিয়ে। তারা ভাবছে যে আগে আসবে সে আর ঠিক মতো বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা? কিভাবে তাদের মারতে পারি, কত রাগ হতে পারি সেটাই ভাবছে। কয়েকবার ডাকার পর খুব বিনয়ের সাথে আমার কাছে আসে সবাই, এসে বলে ভাই প্লিজ আমাদের রুমে আসুন। বললাম এখানে বললে কি প্রবলেম! ভয়ে ভয়ে বলে আজ আপনার দাওয়াত আমাদের রুমে। আমি ভাবলাম কিভাবে বলতে পারে আর, কাপছে তো! ঠিক আছে চলো, বন্ধুরা আমার কাছেই বসলো।

অনেকের অনেক কথা শুনলাম মন খারাপ হয়নি তবে বন্ধুদের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। সেই ছেলেটি যে সুচনাকে ভালবাসে ,সে অবশেষে বলল ভাই, ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী! আমি বহুদিন থেকে সুচনাকে ভালবাসি কিন্তু সে পাত্তা দেয়নি, যখন পাত্তা দিবে দিবে ভাবছি ঠিক সেই মহুর্তে আপনি তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিলেন। ভাই আমি চাইলে এর থেকে ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারতাম, কিন্তু আমি এখানে তার জন্যে পড়ে আছি।

আপনি আমাদের বড়ভাই, চাইলে অনেক মেয়ে পটাতে পাড়বেন কিন্তু আমার সুচনাকেই চাই, যদি আপনি ফিরিয়ে দেন আমাকে। দয়া করে ফিরিয়ে দিন ভাই, আপনার ছোট ভাই হলে কি ফেরৎ দিতেন না বলেন? এক বন্ধু বলল এটা ফেরৎ দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই ভাবছে আমি ফেরৎ দিবনা। কিন্তু আমি বললাম তোমাকে ফেরৎ দিলাম , নিয়ে যাও। সবাই এতো জোড়ে চিল্লানি দেয় দুর অনেক দুরথেকে শোনা যায়। আমি হোস্টেলের বেডে বসেই কথা বলছিলাম কখন যে পড়ে গেছি জানিনা।

তাদের প্রাথমিক চিকিৎসায় একটু হুস হলে শুনতে পাই তাদের বন্ধুরাই ঝগড়া শুরু করেছে। তারা বলছে আমারা সিনেমাতেও দেখিনি যে নিজের প্রেমিকা এভাবে দান করে। অনেক শর্তের মধ্যে এক শর্ত ছিলো তাকে বিয়ে করতে হবে। আমার বন্ধুরা সহ আমার ত্যাগের ফলে আমাকেই অনেক যন্ত্রনা দিতে থাকে। তার ব্যপারে খোটা দিতে থাকে, বিরহ যন্ত্রনায় ভুগতে থাকি আমি। বহুদিন গেল সুচনাকে সে পটাতে পারেনি।

সুচনার আমার সামনে কোনদিন আসেনি, অনেক অভিমান তার আমার প্রতি। আমি তাকে দান করার কে? কি অধিকারে আমি একজনের ভালবাসা নিয়ে খেলা করলাম এই কথাটাও সে আমার সামনে এসে বলেনি।

র্দীঘ ১০ বছর পর সেদিন তাকে দেখলাম আমার চেনা সেই মুখ, আজো সেই আছে নেই শুধু আমি, আমি আমার সাথে কোনদিন ভাবিনি তাকে সেদিনের পর। খুব মনে হলে সেই ছেলেকে বলতাম সে কেমন আছে। সেও নরম স্বরেই বলতো ভাই ভালো আছে। সে কি আমার খবর রাখে তাকে বলতে পারিনা, সেই অধিকার আমার নেই। আমার কথা রেখেছে ছেলেটি, অনেক সাধনা করে তাকে বিয়ে করেছে। অনেক পাওয়ার মধ্যে একটাই পাওয়া সুচনা আজ তার ঘরের বউ।

লেখক/প্রাবন্ধিক এম রাসেল আহমেদ