ত্রাণ নাকি জীবনব্যবস্থার পরিবর্তন; সমাধান কোন পথে : সুলতানা রাজিয়া হেলেন

25
ত্রাণ নাকি জীবনব্যবস্থার পরিবর্তন; সমাধান কোন পথে : সুলতানা রাজিয়া হেলেন। ছবি-খাজা রতন

সুপ্রভাত বগুড়া (খাজা রতন): আমাদের সমাজে যখনই কোনো মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়, তখনই বড় একটা সংখ্যা অভাব-দারিদ্রের মধ্যে পড়ে। সেই সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়, সেগুলোর ছবি তুলে, ভিডিও করে সোস্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমগুলোতে প্রচার করতে দেখা যায়।

মানুষ তাদের মানবপ্রেমী হিসাবে জানে। সরকারও এই অভাবী-দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন এবং ত্রাণ তহবিল গঠন করেন। কিন্তু এ সমস্ত ত্রাণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোক দেখানোর জন্য দেয়া হয়ে থাকে। আর সরকারি ত্রাণ-তহবিলের অধিকাংশটাই চলে যায় সরকারি কর্মকর্তা ও নেতা-নেতৃদের পকেটে।

অসহায়, দরিদ্র মানুষগুলো ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে খুব একটা পরিত্রাণ লাভ করতে পারে না। আমরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ দেখে আসছি অসহায়, দরিদ্র মানুষগুলো আরও দরিদ্র হচ্ছে। আরও সহায় সম্বলহীন হচ্ছে।

এ অবস্থার পরিবর্তন কখনোই ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সার্বিক জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তন। ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম, কম্বল বিতরণ এগুলোকে মানুষ মনে করে মানবতার কল্যাণে কাজ।

এ জন্য আমরা যখন বলি যে, আমরা মানবতার কল্যাণে নিবেদিত অরাজতিক আন্দোলন, তখন অনেকেই আমাদের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন, আপনারা মানবতার কী এমন কল্যাণ করছেন? আপনাদের তো ত্রাণ বিতরণ করতে, কম্বল বিতরণ করতে দেখি না!

আমরা অস্বীকার করছি না যে. কোনো বিশেষ মুহূর্তে, মহামারির সময়, দূর্যোগের সময় খাদ্য-দ্রব্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদী বিতরণ করার প্রয়োজন নেই। এর প্রয়োজন অবশ্যই আছে, সেটা আমরাও করে থাকি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী।

প্রশ্নকারীদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের পরিবারের কোনো সদস্য অথবা বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে বা, আর্থিক সমস্যায় পড়লে আপনারা সাহায্য করে থাকেন। সেই সাহায্যের কথা কি আপনারা ছবি তুলে প্রচার করে বেড়ান, নাকি বলে বেড়ান? অবশ্যই না।

তাহলে আমরা তা বলে বেড়াব কেন? আমরা হেযবুত তওহীদ একটা পরিবার, একটা জাতি। আর হেযবুত তওহীদ ছোট একটা আন্দোলন। এই আন্দোলনের পক্ষে সমগ্র মানবজাতি বা ১৬ কোটি বাঙালির দায়িত্ব নেয়া সম্ভব নয়। এবং সে দায়ভার হেযবুত তওহীদের উপর বর্তায়ও না।

ভারতের দুর্যোগ-পীড়িত নাগরিককে সাহায্য করা যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, তেমনি যারা হেযবুত তওহীদের এমামকে এমাম বলে স্বীকৃতি দেয় নি, তাদের দায়ভারও এমামের উপর পড়ে না।

হেযবুত তওহীদ আন্দোলনটা চলে আমাদের সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে। কারণ আমাদের আন্দোলনের একটা মূলনীতিই হচ্ছে, আমরা আন্দোলনের সদস্য নয় এমন কারো কাছ থেকে আর্থিক কোনো সহযোগিতা নিব না। আন্দোলনের কার্যক্রম অর্থাৎ আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমাদের অনেক অর্থ ব্যয় হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র আমরা সভা-সেমিনার করি।

সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। আমাদের দুটি আদর্শিক পত্রিকা আছে। এ পত্রিকাতেও রেগুলার অনেক টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। কারণ আমাদের পত্রিকাতে কোনো বিজ্ঞাপন থাকে না। আন্দোলনের কেউ কোনো সংকটে পড়লে মাননীয় এমাম তার পাশে দাঁড়ান। মাননীয় এমাম বলেই দিয়েছেন, আন্দোলনের কেউ যেন অনাহারে না থাকে।

বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। এটা শুধু তাঁর মুখের কথা নয়, বাস্তবতাও তাই। তিনি নিয়মিত বিভন্ন শাখার দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করেন, ভাই-বোনদের খোঁজ-খবর নেন।

মাননীয় এমাম আন্দোলনের সদস্যদের কাছে দায়বদ্ধ. কারণ তারা এমামকে তাদের নেতা বলে মেনে নিয়েছেন। এমামের হুকুম মান্য করার ব্যাপারে যেহেতু তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে তাই তাদের সমস্ত দায়ভার এমাম কাঁধে ‍তুলে নিয়েছেন।

এই মুহূর্তে যদি ১৬ কোটি বাঙালি হেযবুত তওহীদের এমামকে এমাম বলে মেনে নেয় তাহলে জাতির সমস্ত দায়ভার এমাম নিবেন। আমরা হেযবুত তওহীদ এমন একটা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি যেটা প্রতিষ্ঠিত হলে কোনো অন্যায়, অনাচার, অভাব-দারিদ্র, বৈষম্য থাকবে না।

অভাবী-দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা দূর করার জন্য সাময়িক ত্রাণ সহায়তা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান হলো এমন একটা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেন প্রতিটি সমর্থ ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি হয়, চিরতরে তাদের অভাব-দারিদ্র দূর হয়।

সেই চেষ্টায় আমরা করে যাচ্ছি। নবী রসুলরা ত্রাণ বিতরণ করেন নাই। তারা হেদায়াহ ও সত্যদীন নিয়ে এসেছেন। সেটা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাতেই জাতি সমৃদ্ধ হয়েছে, শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।