থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঘরেই পালিত হবে থার্টি ফার্স্ট

261
থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঘরেই পালিত হবে থার্টি ফার্স্ট। ছবি-সংগ্রহ

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ও খ্রিষ্টবর্ষের থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সোমবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট ২০১৯ উপযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেকটি চার্চে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

প্রতিটি চার্চে দর্শনার্থীকে ঢুকানোর সময় নিরাপত্তার কারণে বিভিন্নভাবে তল্লাশী করা হবে। শফিকুল ইসলাম বলেন, খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা ও প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। চার্চগুলোতে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে ভালো হবে বলেও জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানস্থলে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। নিরাপত্তায় থাকবে ফায়ার টেন্ডার ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা।

থাকবে চার্চ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। চার্চ এলাকায় কোনো ভাসমান দোকান বা হকার বসতে দেওয়া হবে না। কোনো প্রকার ব্যাগ, পোটলা, বাক্স, কার্টন ইত্যাদি নিয়ে চার্চে আসা যাবে না। এছাড়াও প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশ পথে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক অটো স্প্রে মেশিন অথবা টানেল বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

চার্চের ফাদার ও দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গসহ ভক্ত-দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। সর্বক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ অসুস্থ, বয়স্ক ও শিশু দর্শনার্থীদের অনুষ্ঠানে আসতে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে একমুখী চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান থার্টি ফার্স্ট নিরাপত্তা উপলক্ষ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির ছাদে কোনো গান-বাজনা করা, লোক সমাগম ও কোনো পার্টি করতে দেয়া হবে না। আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

যেকোনো ধরণের ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ থাকবে। হোটেলে ডিজে পার্টির নামে কোনো স্পেস বা কক্ষ ভাড়া দেয়া যাবে না। করোনা মহামারি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ঘরে থেকেই উদযাপনের অনুরোধ জানায় ডিএমপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থার্টি ফার্স্ট নাইটে অনুষ্ঠান করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

কমিশনার আরো বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে সন্ধ্যা থেকে বারগুলো বন্ধ থাকবে। সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান-পাট খোলা রাখা যাবে। তবে যথারীতি রাত ৮টার পর সব ফাস্টফুড দোকানসহ মার্কেট বন্ধ থাকবে। আরো জানানো হয়, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কড়া নজরদাড়ি থাকবে।