দক্ষিণ কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে নির্মূলের হুমকি

89
দক্ষিণ কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে নির্মূলের হুমকি

দক্ষিণ কোরিয়া আগে হামলা চালালে দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে নির্মূল করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএন এর প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাপ্রধান সুহ উকের করা একটি মন্তব্যের জেরে গত তিন দিনের মধ্যে দুবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন কিম ইয়ো জং। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুহ উক বলেন, তাদের সেনাবাহিনীর কাছে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র আছে। সেগুলো উত্তর কোরিয়ার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এরপরই এ হুঁশিয়ারি দিলেন কিম জং উনের বোন।

এদিকে সুহ উকের এ মন্তব্যকে গত রোববার ‘বেপরোয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন কিম ইয়ো জং। সেদিন তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি বিপর্যয় এড়াতে চায়, তাহলে দেশটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে থাকা উচিত।
সুহ উকের এ মন্তব্যের জবাবে গত দ্বিতীয় দফার প্রতিক্রিয়ায় কিম ইয়ো জং বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের বিরুদ্ধে আগাম হামলা নিয়ে আলোচনা করাটা সুহর জন্য একটি খুব বড় ভুল।

উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যাক্তি কিম ইয়ো জং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আবারো যুদ্ধ শুরুর কোন আগ্রহ উত্তর কোরিয়ার নেই। তাই দক্ষিণ কোরিয়া হামলা না করলে, তারা উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্যবস্তু হবে না। তবে উস্কানি দিলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর চূড়ান্ত ধ্বংস দেখতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কিম ইয়ো জংকে পিয়ংইয়ংয়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি পিয়ংইয়ংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক উপদেষ্টা। কিম ইয়ো জং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে আমাদের পারমাণবিক বাহিনীকে অনিবার্যভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য চলতি বছর উত্তর কোরিয়া আবার নিষিদ্ধ অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করেছে। দেশটি ইতিমধ্যে একাধিকবার নিষিদ্ধ অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ২০১৭ সালের পর গত মাসে পিয়ংইয়ং প্রথমবারের মতো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।