দুর্বল হয়ে পড়ছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র; ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা !!

142

সুপ্রভাত বগুড়া (জ্ঞান-বিজ্ঞান): একে একে বিভিন্ন বিপর্যয়ে বিশ্বপরিমন্ডলে যেন হাহাকার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাহলে ২০২০ সাল কি এক অভিশপ্ত বছরের নাম ! অন্তত এই প্রজন্ম এই বছরকে সারা জীবন মনে রাখবে।

প্রতিনিয়ত বিপর্যয় নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে। পৃথিবীর কোন দেশ বাদ যায়নি করোনার হাত থেকে। ক্রমশ বেড়েই চলেছে মৃত্যুর মিছিল। এখনো পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় সারা বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ভাইরাস।

গত দুদিন আগেই বাংলা এবং ওড়িশার বুকে আঘাত হেনেছিল আমফানের মত তীব্র ঘূর্ণিঝড়। তছনছ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এখনও পারেনি বাংলার মানুষ।

এদিকে আবার শোনা যাচ্ছে “নিসর্গ” নামে আরেক ঘূর্ণিঝড়ের আগমনী বার্তা। তার মাঝেই ফের আবার কপালে আরেক দুশ্চিন্তা ! এটা কোন রোগ বা ঘূর্ণিঝড় নয়, বরং তার থেকেও গোটা বিশ্ব মারাত্মক বিপদের মুখোমুখি হতে চলেছে।

এমন কথাই জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং তাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা কয়েকটি ছবি। এর ফলে বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করেছে।

বৈজ্ঞানিকেরা জানিয়েছেন যে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অভ্যন্তরভাগ থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র কোটি কোটি মহাজাগতিক মারাত্মক রশ্মি থেকে রক্ষা করছে।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র যদি কোনওদিন শূন্য হয়ে যায় তাহলে প্রাণের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চৌম্বক ক্ষেত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে যা চিন্তার কারণ।

তবে এই চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হলে কি কি হতে পারে? গবেষকদের মতে, চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে যাওয়া মানে পৃথিবীর মেরু পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ ম্যাগনেটিক অঞ্চলে।

প্রায় ৭.৮০ লক্ষ বছর আগে একইভাবে পৃথিবীর মেরু পরিবর্তন ঘটেছিল।এছাড়াও মানব সভ্যতা চরম বিপদের মুখোমুখি হবে। স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে আধুনিক জীবনযাত্রা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট কাজ করা বন্ধ করে দেবে। তবে আশার আলো একটাই যে, এমন ঘটনা ঘটতে বহু বছর লাগবে একদিনের টুক করে এটা কখনোই সম্ভব না।