দ্রুতগতির ইন্টারনেট সকল ই-সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে : প্রতিমন্ত্রী

86

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ বিদ্যমান ও আগত সকল ই-সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের আটটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ঢাকা -২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম,

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব ও কেরনীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।

পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি উদ্বোধন করেন।বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট আজ বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবায় পেমেন্ট সিস্টেম সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফলে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

৯৭ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মুজিব বর্ষেই শতভাগ এলাকা বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ইনফো-সরকার (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি প্রান্তিক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

ফলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্যতম হাবে পরিণত হচ্ছে। সকলের জন্য ইন্টারনেট সেবা, দক্ষ জনবল গঠন, ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর তত্ত্বাবধানে বিগত ১১ বছর দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার কারণে গত ৫ মাসে শিক্ষা,

স্বাস্থ্য, বিনোদন এমনকি কোরবানির গরুর হাট পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছে।

তাই এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন বা কল্পনা নয়, বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রযুক্তির কল্যাণে করোনা মহামারী কালীন ঝড় ও বন্যাকবলিত মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

বলেন, এ লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য,ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক গ্রামীণ জনপদে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদানের জন্য ২,৬০০টি ইউনিয়নে পয়েন্ট অফ প্রেজেন্স (পিওপি) স্থাপন এবং ১৯,৫০০ কিমি

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে উচ্চগতির নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হচ্ছে।এছাড়াও ২৬০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট অবকাঠামো স্থাপনের

মাধ্যমে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৬,০০০ সরকারি অফিসে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যে পুলিশের ১,০০০টি অফিসের মধ্যে ভিপিএন সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।