ধর্ষণ থেকে বাঁচতে কিশোরীর নদীতে ঝাঁপ !

31
ধ'র্ষণ থেকে বাঁচতে কি'শোরীর নদীতে ঝাঁপ !

সুপ্রভাত বগুড়া (আকাশ সরকার রাসেল): লঞ্চ স্টাফদের হাত থেকে নিজেকে বাঁ’চাতে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিলেন ভোলার তজুম’দ্দিনের এক কি’শোরী। প্রায় ৩ ঘণ্টা নদীতে ভাসার পর জে’লেদের সহায়তায় ফিরে পান নতুন জীবন। ১৬ বছর বয়সী ওই কি’শোরী কাজের সন্ধানে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের যাত্রী হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে শনিবার (০৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তজমুদ্দিনের ভুঁইয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে লঞ্চ-স্টাফরা তাকে উ’দ্ধার না করেই গন্তব্য ঢাকায় চলে যায়। বর্তমানে তিনি তজুম’দ্দিন উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মেঘনার মধ্যবর্তী তেলিয়ার চরের কবির হোসেনের মে’য়ে ওই কি’শোরী। হাসপাতা’লে ভর্তি কি’শোরী জানান, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় তজুম’দ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে উঠার পর থেকেই কয়েকজন স্টাফ তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে ঢোকানের জন্য টানা-হেঁচড়া শুরু করলে নিরুপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উ’দ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় বয়া ধরতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে উ’দ্ধার না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় লঞ্চটি। নদীতে ঝাঁপ দেয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর জে’লেদের ট্রলার এসে তাকে উ’দ্ধার করে তজুম’দ্দিন হাসপাতা’লে ভর্তি করে। উ’দ্ধার করা নৌকার জে’লে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধ’রার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন।

এমন সময় নদীর মাঝে মে’য়েটির ‘বাঁ’চাও বাঁ’চাও’ বলে চি’ৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং মে’য়েটিকে উ’দ্ধার করে। পরে তাকে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা হাসপাতা’লে ভর্তি করে। তজুম’দ্দিন উপজে’লা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, জে’লেরা উ’দ্ধারের পর বিষয়টি তাকে জানায়। পরে তিনি ইউএনও এবং ওসির সাথে কথা বলে হাসপাতাল ভর্তি করান। তার সামনেও লঞ্চ স্টাফদের টানা হেঁচড়ার কথা মে’য়েটি বলেছে।

উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. কবির সোহেল জানান, কি’শোরী নদীতে ঝাঁপ দেয়ার সময় ডান হাতে আ’ঘাত পেয়েছে। জে’লেরা নদী থেকে তাকে উ’দ্ধার করে হাসপাতা’লে আনার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁ’কিমুক্ত আছে। তজুম’দ্দিন থা’নার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসা শেষে কি’শোরীর বক্তব্য নেয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অ’ভিভাকদের খুঁজে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তজুম’দ্দিন উপজে’লা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, কি’শোরীকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতালকে বলা হয়েছে। মে’য়ের বক্তব্য অনুযায়ী দায়ীদের চিহ্নিত করে শা’স্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে লঞ্চের সকল স্টাফদের ডেকে পাঠানো হবে। কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের মালিক মো. ছালাউদ্দিন মিয়া জানান, লঞ্চের কোন স্টাফ এ ধরনের ঘটনার সাথে জ’ড়িত ছিল না।

মে’য়েটি ঝাঁপ দেয়ার পর লঞ্চ থেকে বয়া ফেলা হয়েছিল। ধরতে পারেনি। সাথে সাথে অন্য একটি জে’লে ট্রলারে তাকে উ’দ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চ স্টাফদের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ওই কি’শোরী ইঞ্জিন রুমের কাছে সিট নিয়েছিল। তার পাশে সিট নেয়া কিছু ছে’লে মে’য়েটিকে বির’ক্ত করছিল বলে স্টাফরা জানিয়েছে।