ধামইরহাটে আউশ ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

135
ধামইরহাটে আউশ ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ছবি-মোত্তাখারুল হক

সুপ্রভাত বগুড়া (মোত্তাখারুল হক,ধামইরহাট (নওগাঁ): নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি ইরি বোরো মওসুমে কৃষক ধানের সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়ায় আউশ ধান চাষে ঝুঁকে পড়ছে। এ ধান চাষ করে কৃষকরা একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করবে। উপজেলা কৃষি বিভাগের ব্যাপক তৎপরতা এবং কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনার সার,বীজ প্রদান করায় কৃষি ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

বর্তমানে কৃষকরা আউশ ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো ধান কাটার পর এ উপজেলায় এবার ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫ শত ৬০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৮ জাতের ধান রোপন চলছে। চিকনও নয় মোটাও নয় মাঝারী আকারের এ ধানের ভাত খেতে বেশ সুশ্বাদু। বর্তমানে কৃষকরা ইরি বোরো ধানের সর্বোচ্চ দাম পেয়ে আউশ ধান চাষে মাঠে নেমে পড়েছে। ধানের বীজতলা থেকে ধানকাটা পর্যন্ত মাত্র ১শত থেকে ১১০ দিন সময় লাগে। তাছাড়া সারের পরিমাণ অন্যান্য ধান থেকে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ খরচ কম হয়। এ ধানে পানি সেচ দিতে হয় না।

বর্ষা মওসুমে বৃষ্টির পানিতে এ ধান চাষ হয়। একর প্রতি এ ধানের ফলন হয় ৫৫ থেকে ৬০ মণ। আমন মওসুম শুরুর আগে এ কাটা হয়। কৃষকরা এ ধান কেটে ওই জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন রবি শস্য চাষ করে। গত বছর ৩ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে কৃষক আউশ ধান চাষ করলেও এবার ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপন চলছে। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

কৃষি বিভাগ থেকে ৭৫০ জন কৃষককে ইতোমধ্যে আউশ প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ,২০ কেজি ডিএপি,১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১০ জন কৃষককে আউশ প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। প্রদর্শনীভূক্ত প্রত্যেক কৃষক ৫কেজি ধানবীজ,১৮ কেজি ইউরিয়া,৫কেজি টিএসপি,৮কেজি এমওপি,৫কেজি জীপসাম,৬শত গ্রাম দস্তা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ধান গাছ পরিচর্যার জন্য প্রত্যেক কৃষকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা দেয়া হবে। উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চৌঘাট গ্রামের কৃষাণী সেলিনা বলেন,ইরি ধানের দাম ভালো পাওয়ায় ওই জমিতে আউশ ধান রোপন করেছি। উপজেলার চকমহেশ গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন,কৃষি বিভাগ থেকে বীজ,সার বিনামূল্যে প্রদান করায় আমরা এ ধান চাষ করছি।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,করোনা পরবর্তীতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে এ উপজেলায় চাষ যোগ্য সকল জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এব্যাপারে প্রায় ১৫ হাজার লিফলেট কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ১শত জন কৃষক প্রত্যেককে ৫ কেজি করে বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রত্যেক গ্রামে উঠোন বৈঠক,পরামর্শ সভা এবং মাইকিং করে কৃষকদেরকে এ ধান চাষে উদ্বৃত্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে বোরো ধান হিসেবে পরিচিত জিরাশাইল ধান ১ হাজার ৩০ টাকা এবং কাটারীভোগ ধান ৯শত ২০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা অধিক আগ্রহ নিয়ে এ ধান চাষ করতে ঝুঁকে পড়ছে।