ধামইরহাটে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ১ লক্ষ টন সরকার কিনবে মাত্র ২৮৪১ মে.টন !

145

সুপ্রভাত বগুড়া ( মোত্তাখারুল, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহারে চলতি ইরি বোরো মওসুমে ধানের দাম মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মণ প্রতি ৮০-৯০ টাকা কমেছে। এ উপজেলায় এবার বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ মে.টন আর সরকার কিনবে মাত্র ২ হাজার ৮শত ৪১ মে.টন। উৎপাদনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য কৃষকরা জোর দাবী জানিয়েছেন।

জানা গেছে,চলতি ইরি বোরো মওসুমে এ উপজেলায় ১৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো দমে ধান মাড়াই চলছে। বাজারে ধান কেনা চলছে। এবার কৃষি শ্রমিক সংকট না থাকায় কৃষকরা ধান কাটতে ও মাড়াই করতে কোন বেগ হতে হচ্ছে না। অধিকাংশ জমিতে জিরাশাইল ও কাটারীভোগ জাতের ধান চাষ করেছে কৃষক। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।

একর প্রতি প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৭৫ মণ ফলন হয়েছে। জিরাশাইল ধান গত দুই দিন আগেও বাজারে ৯২০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে। সেই ধান আজ (মঙ্গলবার) ৮৪০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং কাটারীভোগ ধান ৭৩০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ধানের দাম কমেছে মণ প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

আড়ৎদারগণ জানিয়েছেন সামনে ঈদ এ কারণে ধান শুকানোর শ্রমিক পাওয়া যাবে না। এ কারণে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কমে গেছে। এবার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে সরকার। চলতি বোরো মওসুমে এ উপজেলায় মোট ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ মে.টন। সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করবে মাত্র ২ হাজার ৮শত ৪১ মে.টন। যা মোট উৎপাদনের প্রায় তিন ভাগ।

বর্তমানে ইউনিয়ন ভিত্তিক লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ ধান ক্রয় কর্মসূচী উদ্বোধন করা হয়েছে। এদিকে এলাকার কৃষকরা মোট উৎপাদনের সাথ সামঞ্জস্য রেখে বরাদ্দ বৃদ্ধির জোর দাবী জানিয়েছেন।

এব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.আতাউর রহমান বলেন,আজ মঙ্গলবার থেকে খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান ও চাল ক্রয় কর্মসূচী উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০৪১ মে.টন ধান কেনার বরাদ্দ আসে। পরবর্তীতে আরও ৮শত মে.টন বরাদ্দ এসেছে।

লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত একজন কৃষক ২৬ টাকা দরে ১ হাজার কেজি ধান বিক্রি করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি এ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন, এবার ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

সরকারি খাদ্যগুদামে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে ক্রয় শুরু হয়েছে। বাজারে বর্তমান যে দামে ধান কেনাবেচা চলছে তাতে কৃষক মোটামুটি লাভবান হচ্ছেন। আশা করছি ঈদের পর বাজারে ধানের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।