নওগাঁয় স্বামীর করোনা আক্রান্তের খবর পেয়ে পালিয়েছে স্ত্রী !!

119

সুপ্রভাত বগুড়া (এমরান মাহমুদ প্রত্যয়, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি): নওগাঁর বদলগাছীতে স্বামীর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর পেয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছে। আক্রান্ত ওই যুবকের বাড়ি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে। তিনি ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই যুবকের রিপোর্ট পজেটিভ সনাক্ত হয়।

আজ শুক্রবার সকালে ওই যুবকের বাড়িসহ আশপাশে কয়েকটি এবং তার শ্বশুর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত ওই যুবক পরিবার রেখে ঢাকার গাজীপুরে দীর্ঘদিন থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত কয়েকদিন আগে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন।

বাড়ি আসার পর তার শরীরে ৫-৬দিন ধরে জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। গত ৩০ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য উপজেলা মেডিকেল টিম নমুনা সংগ্রহ করে। বৃহস্পতিবার (৭মে) বিকেলে ওই যুবকের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। রিপোর্ট আসার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনার পর ওই যুবকের স্ত্রী ওই দিনই বিকেলে স্বামীকে রেখে বাবার বাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাতশাইল গ্রামে চলে যায়। আক্রান্ত ওই যুবক বলেন, ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর থেকে হালকা জ্বর ও কাশি হচ্ছিল। এরপর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এলাকায় ধান কাটার কাজ করছিলাম। রির্পোট পজেটিভ আসার খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে বাড়িতে আসি।

র ও কাশি কিছুটা কমলেও গলা ব্যাথা আছে। করোনা আক্রান্তের খবর পেয়ে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি চলে গেছে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আবু তাহের বলেন, ওই যুবকের রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলেগেছে। সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং অফিসার ইনচার্জ সহ কয়েকজন ওই যুবকের বাড়িতে যাওয়া হয়। তার সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজ খবর নেয় হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই যুবকের শরীরে তেমন কোন উপসর্গ বোঝা যাচ্ছেনা। তিনি ভাল ভাবে কথা বলছেন। তার বাড়িসহ আশপাশের চারটি বাড়ি এবং তার শ্বশুর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। শ্বশুর বাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য সার্বক্ষনিক গ্রাম পুলিশ রাখা হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কানিস ফারহানা বলেন, ওই যুবক ঢাকা থেকে আসার খবর পেয়ে আমরা ৩০ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আসা রিপোর্টে তার শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়।

তার অবস্থা এখন অনেকটাই ভাল। আমরা তার সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখব। উল্লেখ্য, জেলায় এ পর্যন্ত ৬০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।