নওগাঁর মহাদেবপুরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত-৬; থানায় মামলা!

48
নওগাঁর মহাদেবপুরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত-৬; থানায় মামলা! ছবি-অন্তর আহম্মেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (নওগাঁ প্রতিনিধি): নওগাঁর মহাদেবপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ছয়’জন গুরুত্বর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সমবার দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের ভগবতীপুর গ্রামে।

থানায় দাখিলকৃত এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবারের সাথে মৃত ইসাহাক আলী পরিবারের সাথে  দীর্ঘদিন ধরে এক একর দশ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জের ধরে ঘটনার দিন খাদেমুল ইসলামের ছেলেরা ওই জমিতে ধান রোপন করতে গেলে মৃত ইসাহাক আলী ছেলে ও তার ভাড়াটিয়া লোকজন সহ ধান রোপন করতে বাধা দেয়। এতে করে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা বাধে।

এরই এক পর্যায়ে মৃত ইসাহাক আলী ছেলে ও তার ভাড়াটিয়া লোকজন ঘটনার দিন সকাল ১০ ঘটিকায় খাদেমুল ইসলামের ছেলেদের উপর হামলা চালায়। এ সময় খাদেমুল ইসলাম এর ছেলেরা জনবল কম থাকায় জমির মধ্যেই লাঠি, লোহার রড় দিয়ে তাদের মাথায় সহ তাদের সাড়া শরীরে আঘাত করে গুরুত্বর আহত করে।

পরে আহতদের এলাকার লোকজন উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক একলাস এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করে।

এ ঘটনায় আরমান হোসেন বাদি হয়ে গত ১৫ জুন মহাদেবপুর থানায় ১৪ জনকে আসামী করে আরো ২০/২১ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন।

সংঘর্ষে আহত আনোয়ার হোসেন এর ছেলে জিল্লুর রহমান বলেন, একরামুল, এমরান, আরমান, এখলাস সহ কয়েকজন মিলে ধানের চারা লাগাচ্ছিলাম। হঠাৎ একই গ্রামের বাসিন্দা এছাহাক এর তিন ছেলে- আবু রায়হান (৪৬), রেজা (৩৫), কামাল হোসেন (৫৫), আবুল কাশেম এর ছেলে- মান্নান হোসেন (২৯), আব্বাস আলীর ছেলে- রাজু মন্ডল (৩২),

আব্দুল মতিন এর ছেলে -মেহেদী হোসেন (৩২) মৃত শফি মন্ডল এর ছেলে মিজানুর রহমান (৫২) এবং শালবাড়ীর বাগানবাড়ীর বাসিন্দা আফজাল হোসেন এর ছেলে হাসু মন্ডল (৩০) সহ প্রায় ২০-২৫জন মিলে বাঁশ,লাঠি,হাঁসুয়া,সাবল,কোদালসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। তারা অমানুষের মতো সবাইকে লাঠি, লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে সবাইকে রক্তাক্ত করে।

এখন সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ আবু রায়হান সাথে সেল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে সেল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয় নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, খাদেমুল ইসলামের পরিবারের সাথে মৃত ইসাহাক আলী পরিবারের জের দীর্ঘদিনের কিন্তু  মৃত ইসাহাক আলীর ছেলে যদি মনে করতো স্থানীয় ভাবে বসে মিমাংসা করতে পারতো।

তারা যেভাবে খাদেমুলের ছেলেদের মারধর করেছে তা এলাকাবাসী হয়ে মানতে নারাজ। তাদের কঠিনতর শাস্তি হওয়া দরকার।এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অবশ্যয় আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী যেই হোকনা কেন কাওকে ছাড় দেওয়া হবেনা।