নওগাঁয় জনবসতি এলাকায় ছ’ মিল চালানোর কারণে অতিষ্ট সাধারণ জনগন

31
সুপ্রভাত বগুড়া (এমরান মাহমুদ প্রত্যয়, নওগাঁ  জেলা প্রতিনিধি): নওগাঁ সদর উপজেলার খাঁসনওগাঁ মফিজপাড়া (মুনসুর হাজির বাড়ির সামনে) নামক স্থানে সড়কের পাশে ও জনবসতি এলাকায় ছ’ মিল চালানোর কারণে অতিষ্ট সাধারণ জনগন এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছ,মিল বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী লিখিত ভাবে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে ও এলাকাবাসী জানান, এই ছ’ মিলের বিকট শব্দ দূষণের ফলে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কাঠের পঁচা দুর্গন্ধের ফলে বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি ও কাঠের গুড়া বাড়ির জানালা দিয়ে ডুকে আসবাসপত্র নষ্ট হচ্ছে। এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
গাড়ি থেকে কাঠ নামানোর সময় রাস্তায় প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয় এবং ব্যাপক শব্দ হয়। দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ এ প্রতিষ্ঠানটি চালু থাকলেও সে সময় জনবসতি অনেক অল্প ছিল কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা ও বসতবাড়ি বৃদ্ধির কারণে ছ’মিল ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টির কারণ হয়ে দ্বাড়িয়েছে।
বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস ও পৌরসভার ছাড়পত্র না নিয়েই চলছে ছ’ মিল । দীর্ঘদিন ধরে ছ’ মিলের কার্যক্রম চললে ও ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মেসার্স আবুল হোসেন ছ’মিলের মালিক এনামুল হোসেন লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ছ’ মিল পরিচালনা করে আসছেন এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসী সূরাইয়া বেগম বলেন, আমরা দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ বাড়ি করে বসবাস করে আসছি। এখানে এ ছ’মিলের শব্দের কারণে বাচ্চাদের পড়াশুনা ও ঘুমানোর সমস্যা হয় আর ছ’মিলের ধুলাবালি এসে আমাদের আসবাসপত্র নষ্ট হচ্ছে। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে বাড়িতে অসুস্থ মানুষ থাকলে আরো অসুস্থ হবে। এটা আবাসিক এলাকা আর এই আবাসিক এলাকায় ছ’মিল থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। ছ’মিল না থাকলে আমরা শান্তি পাব বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসী তসলিমা বলেন, আমাদের পাশ্বে একটা ছ’মিল আছে এই ছ’মিলের শব্দের কারণে বাচ্চাদের লেখাপড়া,ঘুমানোর সমস্যা হয়। আবাসিক এলাকায় এসব চলতে পারে না। পরিবেশ গত দিক থেকে ধুলাবালি ও কাঠমিলের গুড়ার সমস্যা দেখা দেয়। ছ’ মিল মালিক এনামুল বলেন, আমি আমার বাবার আমল থেকে প্রায় দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ এ ছ’ মিল চালিয়ে আসতেছি কিন্তু এলাকাবাসী এখন কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ দেয় নি। আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এসেছে তা ভিত্তিহীন।
এ বিয়ষে নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনির সঙ্গে একাধিকবার সেল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করে ও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নওগাঁ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, আমরা একটি  লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিব।