নন্দীগ্রামে আ’লীগ ধ্বংসে এমপি ভজনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকার পুত্র জিন্নাহ

61
নন্দীগ্রামে আ’লীগ ধ্বংসে এমপি ভজনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকার পুত্র জিন্নাহ। ছবি-হেলাল

সুপ্রভাত বগুড়া (আবু সাঈদ হেলাল): নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ ধ্বংসে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকার পুত্র জিন্নাহ গংদের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শফিউল আলম ছবি বলেন, গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বগুড়া প্রেসক্লাবে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

যা সম্পূর্ণ মিথ্যা,ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রনোদিত। ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তারই প্রেক্ষিতে ৯ই নভেম্বর ২০১৪ সালে তৎকালীন সভাপতি আলহাজ¦ মমতাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন।

পরবর্তীতে কমিটির সভাপতি জাহেদুর রহমানের মৃত্যুতে ১নং সহ সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আনিছুর রহমানকে বহিস্কারের পর ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ও জেলা আওয়ামী লীগ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কর্তৃক স্বীকৃত।

লিখিত বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শফিউল আলম ছবি আরো বলেন, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি শফিউল আলম বুলুর বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ করেছিল। যে কারনে শফিউল আলম বুলুকে জেলা আওয়ামী লীগ বহিস্কার করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে পারেনি। অথচ শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দ্যেশ্যে রাজাকার পুত্র রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান একত্র হয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজের বামে বসা ছিল বিগত পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধীতাকারী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত জুয়ারু স্বপন ওরফে ডাবু স্বপন ওরফে গাঁজা স্বপন ওরফে সুদারু স্বপন আর বামে সিএনজি ড্রাইভার শামীম ওরফে গাঁজা শামীম ওরফে ইয়াবা শামীম ওরফে সুদারু শামীম । এরা নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।

লিখিত বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শফিউল আলম ছবি বলেন, এসবের পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে টিআর,কাবিখা,আর্থিক সহায়তা ও লোকজন দিয়ে স্থানীয় বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজন পৃষ্ঠপোষকতা করছে। যার প্রমাণ রাজাকারপুত্র জিন্নাহ’র পক্ষ অবলম্বন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের খোলা চিঠি প্রদান। এসব ঢাকতেই আমাদেরকে হাইব্রিড বলার অপচেষ্টা। আজিজ গংদের সংবাদ সম্মেলনে বারবার “গায়েবী” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিএনপি থেকে আমদানি করা।

কারণ বিএনপি প্রতিনিয়ত গায়েবী মামলা,গায়েবী আদেশ,গায়েবী শক্তি এসব শব্দ ব্যবহার করে থাকে। বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন ভজনের সাথে সখ্যতা থাকায় গায়েবী কমিটি শব্দটি বারবার উচ্চারণ করেছে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আজিজ ও রাজাকারপুত্র জিন্নাহ বিগত সময়ে দলীয় নৌকা মার্কা প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট করেছে। রাজাকারপুত্র জিন্নাহ নৌকা পেলে তখন আসল নৌকা হয়,আর অন্য কেউ পেলে নকল নৌকা হয়। এই হলো এদের চরিত্র।

তারা কখনোই ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। আর এই অভিলাষ থেকেই সংবাদ সম্মেলনে নিজে নিজেই কমিটি ঘোষনা দিয়েছে। যা অত্যন্ত হাস্যকর। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস,সাধারন সম্পাদক মুকুল হোসেন,বুড়ইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালিপদ রায়,সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমান আলো,

সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান মিন্টু,ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল বারী,সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুম,থালতামাজগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম হোসেন,সাধারন সম্পাদক নিকঞ্জ কুমার,ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী,সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ।