নফল নামাজের ফজিলত ও আদায়ের পদ্ধতি

34
নফল নামাজের ফজিলত ও আদায়ের পদ্ধতি। প্রতিকী-ছবি

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক

সুপ্রভাত বগুড়া (ধর্ম ও জীবন): (১) তাহাজ্জুদঃ নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি রাত্রি বেলায় তাহাজ্জুদ পড়–ন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত। (সূরাঃ বনী ইসরাঈল,আয়াতঃ৭৯) বিলাল (রাঃ) বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমরা তাহাজ্জুদ পড়বে। এটা হচ্ছে তোমাদের পূর্বেকার নেক লোকদের নিয়ম, তোমাদের জন্য তোমাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ, অশ্লীলতা হতে বাঁধাদানকারি। ইহা দ্বারা দেহের সুস্থতাও লাভ হয়। (তিরমিজি) অন্যত্র আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, আমাদের রব প্রত্যেক রাত্রই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন। যখন রাত্রের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে তখন বলতে থাকেন, কে আছ? আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ? আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। অতঃপর তিনি সকাল পর্যন্ত বলতে থাকেন, কে আছ? যে ঋণ দিবে অভাবহীন এবং ইনসাফকারিকে। (মিশকাত) এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যে নফল নামাজ পড়া হয় তাকেই সালাতুল লাইল বা তাহাজ্জুদের নামাজ বলে। তবে তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ রাতে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের নামাজ ২থেকে ১২রাকাত। নবী কারীম (সাঃ) সাধারণত ৮ রাকাত পড়তেন। তাই ৮ রাকাত পড়া উত্তম।

(২) ইশরাকঃ আনাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করবে, অতঃপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে তার জন্য পূর্ণ হজ¦ ও পূর্ণ ওমরার সওয়াবের সমান সওয়াব লেখা হবে। অন্য বর্ণনায় আছে, তার গুনাহসমূহ মাফ করা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা থেকে অধিক হয় । (মিশকাত) ফজরের নামাজ আদায়ের পর সেই স্থানেই বসে থেকে দুআ-দরুদ, জিকির-তেলাওয়াতে লিপ্ত থাকে, দুনিয়াবি কোন কথা বা কাজে লিপ্ত না হয়ে এবং ইশরাকের সময় হয়ে গেলে ২ অথবা ৪ রাকাত নামাজ পড়লে উক্ত ফজিলত হাসিল হবে। ফজরের পর দুনিয়াবি কাজে মশগুল হলে এবং সময় হওয়ার পর তা আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু সওয়াব কম হবে।

(৩) আওয়াবিনঃ আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত নামাজ পড়বে যার মাঝে সে কোন মন্দ কথা বলবে না, তার সেই নামাজ ১২বছর ইবাদত করার সমান (তিরমিজি)। মাগরিবের ফরজের পর কমপক্ষে ৬রাকাত উর্ধ্বে ২০রাকাত নফল পড়াকে আওয়াবিনের নামাজ বলে।

(৪) সালাতুত তাসবিহঃ রাসূল সাঃ তাঁর আপন চাচা হযরত আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন, চাচা! সম্ভব হলে এই নামাজ প্রতিদিন একবার পড়–ন, তা সম্ভব না হলে সপ্তাহে একবার, তাও সম্ভব না হলে মাসে একবার, না হয় বছরে একবার, তাও সম্ভব না হলে জীবনে অন্তত একবার হলেও পড়বেন। কেননা এই নামাজ পড়লে আল্লাহ তায়ালা সামনের, পিছনের, ছগিরা, কবিরা, নতুন-পুরাতন সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (তিরমিজি)

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়মঃ আমি আল্লাহর ওয়াস্তে চার রাকাত সালাতুত তাসবিহর নফল নামাজের নিয়ত করছি। এভাবে নিয়ত করে ছানা পড়তে হয়। তারপর যথারীতি ‘আউযুবিল্লাহ…’ ‘বিসমিল্লাহ…’ পড়ে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা পাঠ করে দাঁড়ানো অবস্থাতেই ১৫ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” পড়তে হয়। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পড়ার পর উক্ত তাসবিহ ১০বার। অতঃপর রুকু থেকে উঠে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলার পর উক্ত তাসবিহ ১০বার।

তারপর ‘‘আল্লাহু আকবার’ বলে সেজদায় গিয়ে এবং সেজদার তাসবিহ পড়ার পর উক্ত তাসবিহ ১০বার। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সেজদা থেকে উঠে দুই সেজদার মাঝখানে ১০বার। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবিহ পড়ার পর উক্ত তাসবিহ ১০বার। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠে বসে আবার ১০বার। এখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলা ছাড়াই দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতেও ঐ রকম সূরা-কেরাতের পর ১৫বার, রুকুর তাসবিহর পর ১০ বার।

‘রাব্বানা লাকাল হামদ’-এর পর ১০বার, প্রথম সেজদায় ১০বার, দুই সেজদার মাঝে ১০বার, দ্বিতীয় সেজদায় ১০বার। এপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উঠে প্রথমে উক্ত তাসবিহ ১০বার, তারপর ‘আত্তাহিয়্যাতু…’ পড়তে হবে। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠতে হয়। অতঃপর তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতেও উক্ত নিয়মে উক্ত তাসবিহ পাঠ করে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে। সালাতুত তাসবিহ পড়ার আকেটি নিয়ম আছে। তবে উক্ত নিয়মটি উত্তম।