পদত্যাগ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে !

25
পদত্যাগ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ছবি-সংগ্রহ

সুপ্রভাত বগুড়া (আন্তর্জাতিক): শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। এসময়, এক বছর আগে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো এবং বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পরার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সম্প্রতি দুই দফা হাসপাতালে যান জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। এর পরই তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে জানায়, অসুস্থতার কারণে সরে যেতে চান ৬৫ বছর বয়সী আবে। তবে সেসময় পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দেয় তার দল। অবশেষে শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন নিজেই। জাপানে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শিনজো আবের ক্ষমতায় থাকার কথা ছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পদত্যাগের ঘোষণার আগে, করোনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, একজন সরকার প্রধানের প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিখুঁত হতে হয়। জনগণের সব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিতে হয় দৃঢ়তার সঙ্গে। কিন্তু আমার শারীরিক পরিস্থিতি সেই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

কিশোর বয়স থেকেই আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে ভুগছেন শিনজো আবে। এই রোগের কারণে দুই হাজার সাত সালেও একবার পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। সংসদীয় ভোটে নির্বাচন করা হবে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দায়িত্ব পালন করবেন শিনজো আবের মেয়াদের বাকি সময় পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি আবে। ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিত আগ্রাসী মুদ্রানীতির মাধ্যমে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করে আলোচনায় আসেন শিনজো আবে।

কট্টর রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদী হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। জাপানের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করার পেছনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিনজো আবের সরকার। জাপানের অনেকেই মনে করেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছিল না।