পরকীয়ার বলি : বগুড়ায় স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে নিজ ছেলের হাতে জন্মদাতা পিতাকে খুনের রহস্য উন্মোচন

222

জেলা পুলিশ বগুড়ার আরও একটি সাফল্য !

সুপ্রভাত বগুড়া (আবু সাঈদ হেলাল): পরকীয়া প্রেমের বলি হিসাবে স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে নিজের ছেলের হাতেই খুন হতে হয়েছে বাবাকে। মাকে সাথে নিয়ে বাবাকে হত্যা করেছে নিজেরই ঔরশজাত ছেলে। পরে মৃতদেহ রেললাইনের পাশে পুতে রাখে। শুরু হয় নিখোঁজের গল্প। আর এভাবেই চলে গেছে ১১মাস। দিনের পর দিন অনুসন্ধান করে পুলিশ। অবশেষে তথ্য অনুসন্ধানে রেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া বিপিএম বার এর নির্দেশে শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেল এএসপি কুদরত-ই-খুদা শুভ এর নেতৃত্বে ঘটনার কাহিনী বাস্তবতা ফিরে পায়। বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় ঘাতক ছেলের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বগুড়ার সোনাতলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিন রানীরপাড়া (নয়াপাড়া) গ্রামে চল মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ। জেলা পুলিশ বগুড়ার টিম সোনাতলা নৃশংস বীভৎস অচিন্তনীয় এক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আসামি গ্রেফতার করেছে।

২০১৯ সালের পহেলা জুলাই সোনাতলা থানায় একটা হারানো জিডি হয়েছিল(জিডি নং ২৫)। সেখানে জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে সোনাতলা সদর ইউনিয়নের রানিরপাড়া গ্রামের পেশায় কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৭) নামক এক ব্যক্তি নিখোঁজ আছে মর্মে জানানো হয়েছিল।

জিডিটি করেছিলেন নিখোঁজ ব্যক্তির ভাই শফিকুল যদিও তার স্ত্রী এবং তিনটি সন্তান ছিল। সোনাতলা থানার পাশে প্রবাহিত যমুনা নদী দিয়ে গত একবছরে অনেক পানি গড়িয়েছে কিন্তু হাল ছাড়েননি টিম সোনাতলা, সার্কেল এএসপি কুদরত ই খুদা শুভ লেগে ছিলেন,লেগে ছিলেন ইন্সপেক্টর তদন্ত জাহিদ।

ঘটনার প্রায় একবছর পর গতরাতে তেকানি চুকাইনগরের শাকিল (২২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলে আটক করা হয় নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী রেহানা এবং ছেলে জসিমকে।

এরপর স্ত্রীর গোপন প্রেমিক মুহিদুলকে। মুহিদুল রফিকের প্রতিবেশী।নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা একপর্যায়ে স্বীকার করে যে মুহিদুল, রফিকুলের বউ রেহানা,ছেলে জসিম এবং রেহানার বোনের ছেলে শাকিল মিলে রফিকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার লাশ বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে প্রায় এককিলোমিটার দূরে বগুড়া সোনাতলা রেললাইনের পাশে প্রায় তিনফুট গর্ত করে পুঁতে রেখেছিল।
খুনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পরকীয়া প্রেমের পথের বাধা সরাতেই রফিকুলকে মেরে ফেলার প্ল্যান করে রেহানা এবং মুহিদুল।

ছেলেকে বাবার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানসিক ব্ল্যাকমেইল করে পক্ষে নিয়ে এসে পিতৃহত্যার মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িত করে মা রেহানা। ঘটনাচক্রে শাকিল জড়িয়ে যায়। ঘটনার দিন মুহিদুল এবং জসিম ঘুমের বড়ি এনে রাতের খাবারের সাথে মিশিয়ে রফিকুলকে খাইয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করিয়ে গলা টিপে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডে চারজনই সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এরপর শাকিল, মুহিদুল এবং জসিম লাশ ঘাড়ে করে রেললাইনের পাশে নিয়ে পুঁতে রাখে। শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার এর উপস্থিতিতে পানির মধ্য থেকে গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় আশেপাশের জমায়েত হয়েছিল কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ।