পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে হাইকোর্টের নির্দেশ

98
পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে হাইকোর্টের নির্দেশ

সুপ্রভাত বগুড়া ডেস্ক: ‘ভুল আসামি’ হয়ে ২৬ মামলায় প্রায় ৩ বছর কারাগারে থাকা পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ভার্চ্যুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। ব্র্যাক ব্যাংককে এক মাসের মধ্যে জাহালমকে এ টাকা দিতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রুলের ওপর শুনানি শেষে মামলাটি যে কোনো দিন রায় (সিএভি) ঘোষণার জন্য রাখা হয়।

শুনানিতে আদালতে জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র দাস। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসাদুজ্জামান। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো লোকটির বয়স ৩০-৩২ বছরের বেশি না। পরনে লুঙ্গি আর শার্ট।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারকের উদ্দেশে তাকে বারবার বলতে দেখা যায়, ‘স্যার, আমি জাহালম। আমি আবু সালেক না, আমি নির্দোষ। আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ২৬টি মামলা হয়। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। যিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

যে ঘটনার তদন্ত করে দুদক বলছে, জাহালম নিরপরাধ। একই মত দেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও।পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি গত বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। এরপর হাইকোর্ট জাহালমকে ওই দিনই মুক্তির নির্দেশ দেন। সেই সাথে জাহালম কে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে রুলও জারি করেন আদালত । হাইকোর্টের ওইদিনের পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।- বাসস