প্রতারণার ফাদে পড়ে নি:স্ব ব্যবসায়ী সাঈদ, আইনী হস্তক্ষেপেও যেন মিলছেনা সুফল

396
প্রতারণার ফাদে পড়ে নি:স্ব ব্যবসায়ী সাঈদ, আইনী হস্তক্ষেপেও যেন মিলছেনা সুফল। ছবি-প্রতিবেদক

সুপ্রভাত বগুড়া (নিজস্ব প্রতিবেদক): প্রতারণার ফাদে পড়ে এখন নি:স্ব প্রায় বগুড়ার ব্যবসায়ী সাঈদ। রেডিমেট পোশাকের ব্যবসার উদ্দেশ্য নিয়ে ৫ বছর পূর্বে বগুড়া থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান স্বপরিবারে। এরমধ্যে ব্যবসায়িক ভাবে চেনা-জানার সুবাদে পরিচয় হয় জামালপুরের মেয় পোশাক ডিজাইনার ও নূরহাজান ফ্যাশনের পরিচালক নূরজাহান এর সাথে। পরবর্তীতে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার জন্য দু পক্ষের মধ্যে ৬,০০,০০০(ছয় লক্ষ) টাকার চুক্তি সম্পাদিত হয়। যেখানে ২ কিস্তিতে (৪,৫০,০০০+ ১,৪৮,০০০)=৫,৯৮,০০০/- (পাঁচ লক্ষ আটানব্বই হাজার) টাকা প্রদান করে ব্যবসায়ী পার্টনার হিসাবে ব্যবসা শুরু করেন সাঈদ।

এর মাঝে নূরজাহানের পরিচিত একই এলাকার, মনির, বাবু, ও আমিনুর এর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী সাঈদকে তারা বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করার আস্বাস ও রেডি পোশাক সহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করতে সম্মত হলে তাদের মধ্যে উল্লেখিত মনির, বাবু, ও আমিনুর এর সাথে নুরজাহান ও সাঈদের সাথে ৩শত টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়। পণ্য সরবরাহের শর্ত স্বাপেক্ষ্যে সাঈদের কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকাও তারা গ্রহণ করে। বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও তারা পণ্য সরবরাহে গরিমশি করলে এবং বিভিন্ন কারণ দর্শিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে।

এর পর্যায়ে সাঈদ চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু, এই প্রতারক চক্র তাকে বিভিন্ন বাহানায় ঘুরাইতে থাকে। এতে ব্যবসায়ী সাঈদ কুল কিনারা না পেয়ে তাদের কাছে হয় পণ্য অথবা টাকা ফেরত দেবার জন্য বলতে থাকে। কিন্তু, তারা টাকা ফেরতের কথা বলায় সাঈদের উপর ভিষণভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে তারা ভাড়াটে লোকজনসহ ব্যবসায়ী সাঈদের অফিসে এসে ভিভিন্ন ভাবে শাসায় এবং অফিসে সন্ত্রসী কর্মকান্ড চালায়।

এ সময় কোন উপায় না পেয়ে সাঈদ ৯৯৯-এ কল করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এরপর সিসি ক্যামেরার ভিডিও কথ্য সহ নিকটস্থ কাফরুল থানা পুলিশ এর সহযোগিতায় জিডি,ও পরে অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে সুবিচারের স্বার্থে আদালতে মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী সাঈদ। যাহার পিটিশন মামলা নং- ৫২/২০১৯। ধারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(গ) ধারা।

এদিকে উক্ত মামলা চলাকালীন সময়ে ব্যবসায়ী সাইদ জানতে পারেন তার ব্যবসায়িক পার্টনার নুরজাহানের যোগ সাজসেই আসামী মনির, বাবু, ও আমিনুর এই প্রতারণার খেলা খেলেছে। ফলে নুরজাহানের সাথেও সে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে তার পার্টনারশিপের টাকা ফেরত চাইলে নুরজাহানও তালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ৪,৫০,০০০ টাকা ও ১,৪৮,০০০ টাকার বিপরীতে ২টি আলাদা চেক প্রদান করেন।

যা পরবর্তীতে ৪,৫০,০০০ (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার বিপরিতে আসামী ৩১/০৩/২০১৯ইং ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড মিরপুর সার্কেল শাখার অন-লাইন ব্যাংকিং এর হিসাব নং ১৬৪.১৫১.৪৩৬৮৭০ এর অনুকুলে ৭৯৭০১০২ নং চেক ও পরবর্ততে  ১,৪৮,০০০ টাকার চেকও ডিজওনার হলে ব্যবসায়ি সাঈদ আরও বেশি বেকায়দায় পড়ে যান এবং আইন আমলে আসার জন্য পুনরায় আদালতের স্বরনাপন্ন হয়ে এম,এম, কোট- ২০. সি,আর মামলা ২৭৩/১৯ ও সি আর মামলা ২৯৩ ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

পরবর্তীতে মনির, বাবু,আমিনুর ও নূরজাহান কে আসামী করে ব্যবসায়ী সাঈদ আরও একটি মামলা রোজ্জু করেন যাহার নম্বর- পিটিশন মামলা নং- ৪২২/২০১৯। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারা।

উল্ল্যেখ্য, মোছা: নুর জাহান, পিতা মো: নূর ইসলাম, মাতা সবুজা বেগম, গ্রাম গুজামানিকা, ডাক: আদ্রা বাজার, মেলানদহ, জামালপুর। সে এম,এম, কোট- ২০. সি,আর মামলা ২৭৩/১৯. সি আর মামলা ২৯৩ ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা এর পালাতক আসামি।  পরবর্তীতে ১৯/০৬/২০১৯ ইং তারিখে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড মিরপুর সার্কেল শাখা কর্তৃক ডিজওনার হলে বাদীপক্ষর আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ মারফত বিষয়টি বার বার অবগত করা হয় কিন্তু, আসামী তাহাতে কোন প্রকার জবাব প্রদান করে নাই।

ফলে বাধ্য হয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিষয়টি আইন আমলে আসলে আদালত কর্তৃক তাকে জবাব প্রদান ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৩০/০৬ ২০১৯ইং তারিখে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থেকে আদালতের বিচার কার্য ব্যহত ও মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন এবং বাদীর আর্থিক ক্ষতি সাধন করছেন।

ইতিপূর্বে কয়েক দফায় স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী সাঈদ কিন্তু তাহাতে আসামী পক্ষ আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভন্ন লোক মারফত ভয়ভিতী প্রদান ও মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকী থামকি এমন কি মামলা তুলে না নিলে প্রাণ নাশের হুমকিও প্রদান করছে। এমতাবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন ব্যবসায়ি আবু সাঈদ। তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে উক্ত মামলার দ্রুত নিস্পত্তি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের আইনি হস্তক্ষেপ এবং সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছেন।