প্রধানমন্ত্রীর দেয়া শ্রমিকদের জন্য নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবীতে বগুড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

30
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া শ্রমিকদের জন্য নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবীতে বগুড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন। ছবি-দৌলত

স্টাফ রিপোর্টর: আজ বুধবার সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় বগুড়া সাতমাথায়, হোটেল শ্রমিক কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে বগুড়া জেলা সম্মিলিত শ্রমিক-কর্মচারী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি সভাপতি আলমগীর হোসেন আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সভা পরিচালনা করেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই রুবেল।

উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতি সাহেব লিখিত বক্তব্যে বলেন: আপনারা অবগত রয়েছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইলেট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের প্রণোদনা, আর্থিক সহযোগিতা, রেশনিং কার্ড বিতরণের জন্য ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা বগুড়ার গৃহ নির্মাণ, হোটেল রেস্তোরাঁ, সংবাদপত্র হকার্স, লেদ ওয়ার্কসপ, ষ্টিল ওয়েল্ডিং, স্বর্ণ শিল্পী, মূদ্রণ শিল্প, কাঠ শিল্প, বুক বাইন্ডিং শ্রমিক,

গোডাউন শ্রমিক, ছ-মিল শ্রমিক, দর্জি শ্রমিক, ডেকোরেটর শ্রমিক, সেলুন, বেকারী শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক, কুলি শ্রমিক, প্রেস কম্পিউটার সহ কলকারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, সংগঠনের নাম, সদস্য নম্বর, ঠিকানা সহ নামের তালিকা জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দিয়ে তার অনুলিপি বগুড়া, কলকারখানা পরিদর্শক ও রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন দপ্তরে জমা দিয়েছি।

গত ২৬ মার্চ শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন লক ডাউনে কর্মহীন বগুড়ার সকল শ্রেণী পেশার শ্রমিকগণ বেকার হয়ে পড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আমরা অভিযোগ আকারে কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বগুড়া এবং উপ-শ্রম পরিচালক, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, বগুড়া কে অবহিত করিয়াছি।

বর্তমানে আংশিক শিল্প প্রতিষ্ঠান কল-কারখানা চালু করলেও শিল্প মালিকগণ কিছু সংখ্যক শ্রমিক দ্বারা কাজ করছে। যাহা শ্রম আইনের পরিপন্থি ও অমানবিক। অবশিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী কাজ হারিয়ে কর্মহীন অবস্থায় অনাহারে, অর্ধাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

তাই আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এম,পি, মন্ত্রী, ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলকে আমাদের নিম্ন লিখিত দাবী সমূহ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।

১। করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫০০/- আর্থিক সহযোগিতা, বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিকট শ্রমিকদের জমা দেওয়া তালিকা অনুযায়ী টাকা প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।

২। কর্মহীন শ্রমিকদের প্রদানকৃত তালিকা অন্তভ‚ক্তি ও রেশন কার্ড সরবরাহের দাবী জানাচ্ছি।

৩। শ্রমিকদের বিনামূল্যে করোনা টেষ্ট, প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহে সরকারের নিকট দাবী জানাচ্ছি।

৪। মালিক কর্তৃক কর্মহীন শ্রমিকদের বেতন, ঈদ উৎসব বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। শ্রমিক-কর্মচারীদের সকল প্রকার বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।

৬। করোনা অজুহাতে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করতে হবে।

এই দাবী না মানলে অন্যথায় আগামীদিনে বগুড়ার সকল শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য থাকিব।

এসময় উপস্থিত ছিল- বগুড়া জেলা হোটেল রেস্তোরা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম খোকন, সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন, বগুড়া জেলা লেদ শ্রমিক ইউনয়নের সভাপতি লিটন শেখ বাঘা, কার্যকরী সভাপতি সুলতান আহমেদ, বগুড়া দর্জি শ্রমিক ইউনিনের সভাপতি লিটন প্রাং, সহ-সভাপতি মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস ইসলাম, বগুড়া কাঠ শিল্প শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুর রহমান, কাঠ শিল্প নেতা- সুলতান আহমেদ, আতাউর ইসলাম,

ডেকোরেটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি- জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনসুর রহমান, বগুড়া বেকারী এন্ড কনফেকশনারী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পদক হাসান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রাঙ্গা, বগুড়া সদর উপজেলা দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মুছা প্রধান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শ্রী রতন,

বগুড়া মুদ্রণ শিল্প শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, ষ্টীল ওয়েল্ডিং ইঞ্জিঃ ওয়ার্কসপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম লয়া, বগুড়া ছ-মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সদস্য- আঃ গণি, বগুড়া বুক বাইন্ডিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, সংবাদপত্র হকার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আমিন সরকার,

নন্দীগ্রাম গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ধুনট নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক, কুলি ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, স্বর্ণ শিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি হাসান আলী, গৃহ নির্মাণ শ্রমিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, সহ সভাপতি মোখলেছার রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।