প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতে এখন টগবগ করছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স !

58

সুপ্রভাত বগুড়া (খেলা-ধুলা): প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এখন টগবগ করছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আজ তাদের সামনে জেতা ম্যাচ হেরে বিধ্বস্ত অবস্থায় থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এক দল চাইবে জয়ের রথ চালু রাখতে। অন্য দল খুঁজবে জয়ের রাস্তা। আজ শনিবার রোহিত শর্মা বনাম ডেভিড ওয়ার্নারদের দ্বৈরথে শেষ হাসিটা কারা হাসেন, তা সময়ই বলে দেবে।

যেটা বলার জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই, তা হচ্ছে- প্রথম ম্যাচে বিরাট কোহলিদের কাছে হেরে গেলেও কেকেআরের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয় পেয়ে রীতিমত ফুরফুরে মেজাজে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তাঁদের দুই পেসার যশপ্রীত বুমরাহ এবং ট্রেন্ট বোল্ট রয়েছেন দারুণ ছন্দে। স্পিন বিভাগে উড়ছেন লেগস্পিনার রাহুল চাহার ও বাঁহাতি ক্রুণাল পান্ডিয়া।

চেন্নাইয়ের মন্থর, ঘূর্ণি উইকেটে নাইট রাইডার্সকে ভেঙে দিয়েছিলেন এই দু’জনই। কোনও সন্দেহ নেই, রোহিত আজও তাকিয়ে থাকবেন দুই স্পিনারের দিকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ, নিউজ়িল্যান্ডের প্রাক্তন পেস বোলার শেন বন্ড এদিন বলে দিয়েছেন, রাহুল চাহার উইকেট নেয়ার মতো বোলার। রান আটকানোর নয়। তাঁকে সেই ভূমিকাতেই চায় দল।

বন্ড বলছেন, ‘‘রাহুলের বয়স এখনও খুবই কম (২১ বছর)। এর মধ্যেই দারুণ সফল হয়েছে ও। কঠিন পরিস্থিতিতে, চাপের মধ্যে দলকে জেতানোর মতো বোলিং করেছে। ওর সামনে উন্নতি করার অনেক রাস্তা রয়েছে। আমি নিশ্চিত, রাহুল সেটা করে দেখাবে।’’ এদিকে, কিছুতেই যেন জমাট বাঁধছে না টানা দু’টো ম্যাচই হেরে বসে থাকা সানরাইজার্সের ব্যাটিং।

কেন উইলিয়ামসনের চোট চিন্তায় ফেলেছে ওয়ার্নারদের। মাঝের দিকে উইলিয়ামসনের স্থায়িত্বের অভাব অনুভব করছে সানরাইজার্স। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক আশা করছেন, কনুইয়ের চোট সারিয়ে এই সপ্তাহের মধ্যেই সেরে উঠবেন তিনি। তবে শনিবারের ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। এমনিতেই রান তাড়া করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলছে হায়দরাবাদ।

তার ওপর চেন্নাইয়ের মন্থর, ঘূর্ণি পিচ ওয়ার্নার-বেয়ারস্টোদের মতো স্ট্রোক খেলা ব্যাটসম্যানদের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরুর দিকে ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো জুটি যে ঝড়টা তুলে দিতেন প্রত্যেক বার, সেটাই এখনও পর্যন্ত হয়নি। হায়দরাবাদকে যদি মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলকে টেক্কা দিতে হয়, তাহলে তাদের তারকা ত্রয়ীকে সফল হতেই হবে।

ব্যাটিংয়ে ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো এবং বোলিংয়ে রশিদ খান। তবে মাঝের দিকের ব্যাটিংও ভোগাচ্ছে তাঁদের। মণীশ পাণ্ডে, আব্দুল সামাদরা আরসিবি-র বিরুদ্ধে আড়াআড়ি শট খেলে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন। শাহবাজ আহমেদের এক ওভারে তিন উইকেট নেওয়া তাঁদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে থাকছে।

তার মধ্যেই আজ, ফের পড়তে হচ্ছে আর এক বাঁ হাতি স্পিনার ক্রুণাল পান্ডিয়ার সামনে। ওয়ার্নারদের আর একটা বড় সমস্যা দুই প্রধান গতির বোলার ভুবনেশ্বর কুমার এবং টি নটরাজনের সেভাবে ছন্দ খুঁজে না পাওয়া। আজ রাতে রোহিতদের সঙ্গে তাঁদের ছন্দ ফিরুক, সেই প্রার্থনাই করবেন ওয়ার্নার।