ফেসবুকের সূত্র ধরে টালিউডের এক চিত্রনায়কের আত্মহত্যা ঠেকালো কলকাতা পুলিশ !!

21
ফেসবুকের কল্যাণে আত্মহত্যার চেষ্টা রুখে দিল পুলিশ। প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (বিনোদন): টলিউডের এক চিত্রনাট্যকার ফেসবুকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে মোবাইল রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কলকাতা পুলিশের সাইবার টিম সেই পোস্ট দেখতে পায়।

তাদের কাছ থেকেই খবর পেয়ে পুলিশ টলিউডের সেই চিত্রনাট্যকারের আত্মহত্যার চেষ্টা রুখে দিল। যদিও তিনি ততক্ষণে বিষ খেয়ে নিয়েছিলেন জানা গেছ। তবে পুলিশ খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ওই চিত্রনাট্যকার প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। খবর আনন্দবাজারের পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর ২টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ)-এর অফিস থেকে খবর যায় দক্ষিণ এবং দক্ষিণ শহরতলি বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের অফিসে।

তাদেরকে জানানো হয় যে, ৩৩ বছরের এক ব্যক্তি রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকা থেকে ফেসবুকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট করেছেন। পুলিশ খুবই দ্রুত মোবাইলের ইন্টারনেট প্রোটোকল এবং মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে ওই ব্যক্তির বাড়ি পৌঁছায়।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবক বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। যুবকের বাবা-মা এবং ভাই বোনেদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে। সমস্ত ঘটনা  জানায়। পুলিশ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে কাছেই বড়ুয়া পাড়ায় একটি ভাড়া ফ্ল্যাটের খোঁজ জানতে পারে।

আরোও জানতে পারেন ওই যুবক মাঝে মাঝেই ওই ফ্ল্যাটে থাকেন । পুলিশ সেই সূত্র ধরেই ওই ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে দেখে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ। বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করার পর কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায়, পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে।

ভিতরে গিয়ে দেখেন ওই যুবক সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। তার পাশে একটা খালি কীটনাশকের বোতল। সঙ্গে সঙ্গেই ওই যুবককে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাকস্থলি থেকে বিষ বের করা হয়।

ওই যুবকের অবস্থা স্থিতিশীল হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানায়, আরও দেরিতে পৌঁছলে প্রাণের আশঙ্কা ছিল তাঁর। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ জানতে পেরেছে, বান্ধবীর সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই ওই যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ফেসবুকে আত্মহ্ত্যার কথা পোস্ট করার আগেই সেই বান্ধবীর সঙ্গে ফোনে ঝগড়া হয় তাঁর। এর পরেই অবসাদের জেরে তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগেও কলকাতা পুলিশের সাহায্যে গুয়াহাটির উপকণ্ঠে এক মহিলার আত্মহত্যা রোখা সম্ভব হয়েছিল।